মোবাইলে বিবাহ করার সঠিক পদ্ধতি

অধ্যায়: বিবাহ – শাদী ও তালাক 
মোবাইলে বিবাহ করার সঠিক পদ্ধতি
      প্রশ্ন : জনৈক ব্যক্তি বিদেশ থেকে মোবাইলের মাধ্যমে এভাবে বিবাহ করে যে, ‘বাংলাদেশ থেকে মোবাইলে প্রস্তাব করে সে বিদেশ থেকে ‘কবুল’ বলে।’ উভয় স্থানে দুইয়ের অধিক সাক্ষী উপস্থিত ছিল। তাদের এই বিবাহ সঠিক হয়েছে কিনা? আর মোবাইলের মাধ্যমে বিবাহের সঠিক পদ্ধতি কী কী?
উত্তর : বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার শর্ত হলো, কমপক্ষে দু’জন স্বাধীন প্রাপ্ত বয়স্ক বিবেকবান মুসলিম সাক্ষী প্রস্তাবদান ও কবুল করার সময় বিবাহের প্রস্তাবদাতা ও কবুলকারীর সাথে একই মজলিসে একত্রে উপস্থিত থেকে উভয়ের কথা শুনা। অতএব সরাসরি মোবাইলের বিবাহের মধ্যে উল্লেখিত শর্ত বিদ্যমান না থাকায় উক্ত বিবাহ শুদ্ধ নয়। দুই দেশে থেকে বিবাহ করার সঠিক পদ্ধতিসমূহ নিম্নরূপ: 
ক. এক দেশ থেকে ছেলে বা মেয়ে তার বিবাহ করিয়ে দেওয়ার জন্য অন্য দেশের কাউকে উকীল নিযুক্ত করবে। অত:পর উকীল সাক্ষীগণের সামনে তার মক্কেলের পক্ষ থেকে অন্য পক্ষের কাছে বিবাহের প্রস্তাব করবে। অন্য পক্ষ বিবাহ কবুল করবে অথবা অন্যপক্ষ বিবাহের প্রস্তাব করবে আর উকীল তার মক্কেলের পক্ষ থেকে কবুল বলবে।
উল্লেখ্য যে, উকীল নিযুক্ত করার জন্য সাক্ষী জরুরি নয়। তাই মোবাইলের মাধ্যমে বা পত্রের মাধ্যমে উকীল নিযুক্ত করা যাবে। ছেলে মেয়ে (উভয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হলে) একজন অন্য জনকে উকীল নিযুক্ত করতে পারবে। এক্ষেত্রে সে সাক্ষীদের সামনে পরিচয় উল্লেখ করে বলবে, ‘ওমুক আমাকে তাকে বিয়ে করার উকীল নিযুক্ত করেছে।’ সেমতে আমি তাকে বিবাহ করলাম। এতে বিবাহ হয়ে যাবে।
খ. এক দেশ থেকে ছেলে বা মেয়ে বিয়ের প্রস্তাব কাগজে লিখে অন্যপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিবে। অন্যপক্ষ পত্র পাওয়ার পর সাক্ষীদের সামনে পত্রের প্রস্তাবের বাক্য পড়ে কবুল করবে। এতে বিবাহ হয়ে যাবে।
 
প্রমাণপঞ্জি
 (১) الفتاوى الهندية : في باب الاول في تفسيره شرطا وصفته وركنه وشرطه وحكمه : ১/২৬৮ (دار الكتاب ديوبند) امرأة وكلت رجلا ليزوجها في نفسه فقال الوكيل بحضرة الشهود تزوجت فلانة ولم يعرف الشهود فلانة لا يجوز النكاح مالم يذكر اسمها واسم ابيها ….. لأنها غائبة والغائبة تعرف ৃ
* আল হিদায়া : ২/২০৬                           * বাদায়েউস সানায়ে: ২/৪৯০
* আদ্দুরূল মুখতার : ৪/৯৮                        * ফাতোয়া রহীমীয়া : ৮/২৪১
* আল বাহরুর রায়িক পৃ: ৩/৮৩,                 * ফাতাওয়া মাহমুদিয়া পৃ: ১৬/২১৯, 
*ফাতাওয়া উসমানী পৃ: ২/৩০১০,                *ফাতাওয়া মাহমুদিয়া পৃ: ১৬/২২৫।
* আপকে মাসায়িল আওর উনকা হল পৃ: ৬/৯৭,
একই মজলিসে ভিন্ন শব্দে তিন তালাক প্রদান প্রসঙ্গে
প্রশ্ন : আমি ও আমার স্ত্রী দুজনে ডাটা খেত নিয়ে ঝগড়া করি। ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমার স্ত্রী আমাকে জুতা দিয়ে ঢিল মারে, এতে আমি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে -এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক, তোকে বাইন তালাক দিলাম- বলি। এখন আমাদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিধান কি? আমি কি এ স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করতে পারবো? বলো
উত্তর : প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার স্ত্রীর উপর তিন তালাক কার্যকর হয়ে আপনাদের মধ্যকার বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে এবং এই স্ত্রী আপনার জন্য হারাম হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় তাকে নিয়ে ঘর-সংসার করা বাপুনরায় তাকে বিবাহ করা কোনোক্রমেই বৈধ হবে না।
তবে যদি সে তালাক প্রাপ্তা হওয়ার পর তার ইদ্দত তথা ঋতুবতী হলে তিনটি মাসিক ঋতুস্রাব অতিবাহিত হওয়া, গর্ভবতী হলে গর্ভ খালাস হওয়া, অন্যথায় তিনমাস অতিবাহিত হওয়ার পর যদি সহবাসে সক্ষম অন্য কোন মুসলিম পুরুষের সাথে সহীহ তরিকায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং সেই স্বামীর সাথে সহবাসও হয়, অতঃপর দ্বিতীয় স্বামী তাকে তালাক দেয় বা মারা যায়, তাহলে দ্বিতীয় স্বামীর তালাক বা মারা যাওয়ার ইদ্দত পালন করার পরে তাকে আপনি বিবাহ করতে পারবেন। এর পূর্বে নয়।
বি. দ্র. স্ত্রীকে একত্রে তিন তালাক দেওয়া কবীরা গোনাহ, অতএব আপনার তাওবা করা উচিত।
প্রমাণপঞ্জি
(১) الطلاق مرتان فإمساك بمعروف أو تسريح بإحسان فإن طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره. سورة البقرة : ২২৯-২৩০
(২) عن عائشة  رضي الله عنها أن رجلا طلق إمراته ثلاثا فتزوجت فطلق فسأل النبي  صلى الله عليه وسلم : اتحل للاول؟ قال لا حتى يذوق عسيلتها كما ذاق الأول. صحيح البخاري ৫২৬১، صحيح المسلم- ১৪৩২
* قال الليث حدثني نافع قال كان ابن عمر رضي الله عنها إذا سئل عمن طلق ثلاثا، قال لو طلقت مرة او مرتين فإن النبي صلى الله عليه وسلم : امرني بهذا فان طلقتا ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيرك. صحيح البخاري : ৫৩৬৪
 
* সহীহু মুসলিম : হাদীস নং ১৪৩২                     * কিতাবুল আসল : ৪/৪৬৬, 
* খুলাসাতুল ফাতাওয়া :২/৭৪,                          * আল হিদায়া : ২/৩৯৯,
*ফাতাওয়া হিন্দিয়া পৃ: ১/৪৭৩        * ফাতাওয়া কাযীখান পৃ: ১/৪৫৪,                                         *রদ্দুল মুহতার পৃ: ৪/৪৪৪,                              * ফাতাওয়া রহিমিয়া পৃ: ৮/২৬০,
*ফাতাওয়া মাহমুদিয়া পৃ: ১৮/৬২,                       * ফাতাওয়া উসমানী পৃ: ৪২৮-৪২৯
* আহসানুল ফাতাওয়া পৃ: ৫/১৯৮                       * ইমদাদুল ফাতাওয়া পৃ: ২/৪৪৬                 
* আপকে মাসায়িল আওর উনকা হল পৃ: ৬/৬৩৭ 
     
 প্রশ্ন : আমি মুহা. আব্দুছ ছাত্তার মিয়া। আমার বয়স ৩৮ বছর। আমার দুই জন সন্তান রয়েছে। আমার স্ত্রী মোসা : বিলকিস বেগম। আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে ২০০৫ ইং সনে। এই দীর্ঘ সময় আল্লাহর রহমতে আমাদের মধ্যকার সম্পর্ক ভালই ছিল কিন্তু গত ১৬/১১/২০১৮ইং রোজ শুক্রবার একটি অঘটন ঘটে। এলাকার এক বিয়ের অনুষ্ঠানে আমাদেরকে দাওয়াত করা  হয়। সেখানে আমি বড় ছেলেকে না নিয়ে ছোট ছেলেকে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। একারণে স্ত্রী মনঃক্ষুন্ন হয়। বাড়িতে এসে দেখি এনিয়ে স্ত্রী চিৎকার করছে। আমি লজ্জায় পড়ে যাই এবং তাকে নিষেধ করি কিন্তু সে অনবরত জোড় গলায় কথা বলেই যাচ্ছে। তখন আমি তাকে দুইটা থাপ্পর মারি । ফলে সে আরো উত্তেজিত হয়ে আমাকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করতে থাকে। তখন আমি রাগের মাথায় তাকে- এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক- বলি।
     অতএব, হুজুরের নিকট আমার জানার বিষয় হচ্ছে, ইসলামী শরীয়ত মতে আমি আমার স্ত্রীর সাথে পুনরায় ঘর-সংসার করতে পারব কিনা? এবং উল্লেখিত বক্তব্যের কারণে আমারদের বৈবাহিক সম্পর্ক  বিচ্ছেদ হয়ে গেছে কিনা? সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।
     উল্লেখ্য, আমার স্ত্রী বর্তমানে গর্ভবতী নয়।
    উত্তর: প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার স্ত্রী বিলকিস বেগমের উপর তিন তালাক কার্যকর হয়ে আপনাদের মধ্যকার বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে এবং এই স্ত্রী আপনার জন্য হারাম হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় পুনরায় তাকে বিবাহ করা বা তাকে নিয়ে ঘর-সংসার করা কোনোক্রমেই জায়েয হবে না। তবে যদি বিলকিস বেগম আপনার থেকে তালাক প্রাপ্তা হওয়ার পর পূর্ণ তিনটি মাসিক (ঋতুস্রাব) অতিবাহিত করার মাধ্যমে ইদ্দত পালন করে, অতঃপর সহবাসে সক্ষম অন্য কোন মুসলিম পুরুষের সাথে সহীহ তরীকায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং সেই স্বামীর সাথে সহবাসও হয়, তারপর দ্বিতীয় স্বামী তাকে তালাক দেয় বা মারা যায়, তাহলে দ্বিতীয় স্বামীর তালাক মা মৃত্যুর ইদ্দত পালন করার পর আপনি তাকে বিবাহ করতে পারবেন; এর পূর্বে নয়।
প্রমাণপঞ্জি
 (১) الطلاق مرتان فإمساك بمعروف أو تسريح بإحسان فإن طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره. سورة البقرة : ২২৯-২৩০
(২) عن عائشة  رضي الله عنها أن رجلا طلق إمراته ثلاثا فتزوجت فطلق فسأل النبي  صلى الله عليه وسلم : اتحل للاول؟ قال لا حتى يذوق عسيلتها كما ذاق الأول. صحيح البخاري ৫২৬১، صحيح المسلم- ১৪৩২
* قال الليث حدثني نافع قال كان ابن عمر رضي الله عنها إذا سئل عمن طلق ثلاثا، قال لو طلقت مرة او مرتين فإن النبي صلى الله عليه وسلم : امرني بهذا فان طلقتا ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيرك. صحيح البخاري : ৫৩৬৪
    
    * ফাতহুল কাদীর পৃ: ৩/৩৩০,                        * বাহরুর রায়িক  পৃ: ৩/২৭৩, 
    * রদ্দুল মুহতার পৃ: ৩/২৪৮,                          * ফাতাওয়া রহিমিয়া পৃ: ৮/২৫৯
    *ফাতাওয়া মাহমুদিয়া পৃ: ১৮/৬২                     * ফাতাওয়া উসমানী পৃ: ৪২৮
    * আহসানুল ফাতাওয়
..া পৃ: ৫/১৯৮                    * ইমদাদুল ফাতাওয়া পৃ: ২/৪৪৬                 
    * আপকে মাসায়িল আওর উনকা হল পৃ: ৬/৬৩৭ 
 
প্রশ্ন : আমি মো: আলমীন, পিতা-মৃত লুৎফুর রহমান, মাতা-মলিকা খাতুন, গ্রাম-দুবাশিয়া, থানা-গফরগাঁও, জেলা-ময়মনসিংহ গত ০৪/০৪/১৭ইং তারিখে পারিবারিক ব্যাপারে রাগ করে উত্তেজিত হয়ে আমার স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার, পিতা-মৃত কলিম উদ্দীন, মাতা রাবিয়া খাতুনকে “তোকে ফয়সালা করে দিব, রাখবো না, ছেড়ে দিবো” বলে ফেলি। এরপর “এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক” বলে ফেলি। আমার স্ত্রীর বয়স ২৬ বছর। তার থেকে আমার একটি দেড় বছরের সন্তান আছে। বর্তমানে সে গর্ভবতী নয়।
অতএব হুজুর সমীপে আকুল আবেদন এই যে, আমি আমার স্ত্রীর সাথে শরিয়তের  বিধান অনুযায়ী আর ঘর সংসার করতে পারবো কিনা? পারলে তা কিভাবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন। 
উত্তর : প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তারের উপর তিন তালাক পতিত হয়ে আপনাদের মধ্যকার বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে এবং এই স্ত্রী আপনার জন্য হারাম হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় পুনরায় তাকে বিবাহ করা বা তাকে নিয়ে ঘর-সংসার করা কোনোক্রমেই জায়েয হবে না।
তবে যদি ফেরসৌদী আক্তার আপনার থেকে তালাকপ্রাপ্তা হওয়ার পর পূর্ণ তিনটি মাসিক ঋতুস্রাব অতিবাহিত করার মাধ্যমে ইদ্দত পালন করে, অতঃপর সহবাসে সক্ষম অন্য কোনো মুসলিম পুরষের সাথে সহীহ তরীকায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং সেই স্বামীর সাথে সহবাসও হয়, তারপর দ্বিতীয় স্বামী তাকে তালাক দেয় বা মারা যায়, তাহলে দ্বিতীয় স্বামীর তালাক বা মৃত্যুর ইদ্দত পালন করার পর আপনি তাকে বিবাহ করতে পারবেন। এর পূর্বে নয়।
    উল্লেখ্য, স্ত্রীকে একত্রে তিন তালাক দেওয়া কবীরা গোনাহ। অতএব, আপনার এস্তেগফার ও তাওবা করা উচিত।
প্রমাণপঞ্জি 
 (১) الطلاق مرتان فإمساك بمعروف أو تسريح بإحسان فإن طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره. سورة البقرة : ২২৯-২৩০
(২) عن عائشة  رضي الله عنها أن رجلا طلق إمراته ثلاثا فتزوجت فطلق فسأل النبي  صلى الله عليه وسلم : اتحل للاول؟ قال لا حتى يذوق عسيلتها كما ذاق الأول. صحيح البخاري ৫২৬১، صحيح المسلم- ১৪৩২
* قال الليث حدثني نافع قال كان ابن عمر رضي الله عنها إذا سئل عمن طلق ثلاثا، قال لو طلقت مرة او مرتين فإن النبي صلى الله عليه وسلم : امرني بهذا فان طلقتا ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيرك. صحيح البخاري : ৫৩৬৪
 
  *সুরা তালাক আয়াত নং-১                        * সহিহ বুখারী হাদিস নং-৫৩৬১
 
    * সহিহ মুসলিম ১৪৩৩                               * ফাতহুল কাদীর পৃ: ৩/৩৩০,                        
    * বাহরুর রায়িক  পৃ: ৩/২৭৩,                       * রদ্দুল মুহতার পৃ: ৩/২৪৮
    * ফাতাওয়া রহিমিয়া পৃ: ৮/২৫৯                     *ফাতাওয়া মাহমুদিয়া পৃ: ১৮/৬২                     
    * ফাতাওয়া উসমানী পৃ: ৪২৮                         * আহসানুল ফাতাওয়া পৃ: ৫/১৯৮                    
    * আপকে মাসায়িল আওর উনকা হল পৃ: ৬/৬৩৭    * ইমদাদুল ফাতাওয়া পৃ: ২/৪৪৬                 
 
ভবিষ্যৎকালীন শব্দ দ্বারা তালাক কার্যকর হওয়ার বিধান
 প্রশ্ন : পত্রের প্রথমে আমার সালাম ও শ্রদ্ধা গ্রহণ করবেন। বিবাহ হওয়ার পর থেকে পারিবারিক সমস্যার কারণে বাপের বাড়িতে ছিলাম। আমার স্বামী চাকুরি করতেন। রোজগার তেমন ছিল না। মাসে দুই তিন বার বাড়িতে আসতেন। এভাবে তো সংসার চলে না। আমাদের একজন পরিচিত লোক ছিল। তাকে বলেছিলাম, একটা স্কুলের দপ্তরির চাকুরি খুঁজে দেওয়ার জন্য। তিনি চাকুরি খুঁজে দিয়েছেন। সেই স্কুলটি গার্লস স্কুল। সেই খানে একজন মহিলা দপ্তরির প্রয়োজন। তখন, আমি স্বামীকে বললাম যে, ওখানে শুধু মহিলা দপ্তরি নেওয়া হয়, পুরুষ নেওয়া হয় না। তখন আমার স্বামী আমাকে অনুমতি দিয়েছেন চাকুরিটা করার জন্য। চাকুরিটা হওয়ার জন্য তিন লক্ষ টাকা আমার বাপের বাড়ি থেকে এনে জমা দিয়েছি। এখন আমার স্বামী বলছে বিদেশে যাওয়ার জন্য। এখন আমার চাকরির জন্য আমার বাবার কাছে কিছু টাকা ছিল আর বাকি টাকা ঋণ করে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন আমার স্বামী বিদেশে যাওয়ার জন্য পাঁচ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য আমাকে চাপ দিচ্ছেন। এত টাকা আমার বাপের বাড়ি থেকে দেওয়া সম্ভব নয়। এ কথা বলার পর সে আমাকে  বলেছে চাকুরি করতে দিবে না। আরও বলেছে যে, তার অনুমতি ছাড়া যদি আমি চাকুরি করি, তাহলে সে আমাকে বিনা তালাকে তালাক দিয়ে দিবে। এখন আমি তার ওই নির্দেশ মেনে চাকুরিটা ছেড়ে দিতাম, যদি তার নিকট পরিবারের ব্যায়ভার বহন করার মত অর্থ-সম্পদ থাকত। এখন যেহেতু চাকুরির জন্য টাকা জমা দিয়েছি, তাই চাকুরিটা আমার করতেই হচ্ছে। কারণ আমার দু’টি ছেলে আছে, তাই আমি চাকুরিটা করতে চাই। আমার স্বামী আমাকে অনুমতি দিবে না। এখন আমি যদি স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্কুলে যাই, তাহলে কি আমার উপর তালাক কার্যকর হয়ে যাবে? ইসলামী শরীয়া মুতাবিক সঠিক সিদ্ধান্ত জানানোর অনুরোধ করছি। 
উত্তর : “তালাক দিয়ে দিবে” কথাটি ভবিষ্যৎকালীন শব্দ, এর দ্বারা তালাক হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্কুলে চাকরি করলে আপনার উপর তালাক কার্যকর হবে না। 
উল্লেখ্য যে,একজন আদর্শ স্ত্রীর জন্য আবশ্যক হলো: সর্বদা স্বামীর আনুগত্য করা। স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর জন্য ঘরের বাহিরে যাওয়া জায়েয নয়। তবে স্বামী যদি স্ত্রী-সন্তানদের হক আদায় না করে এবং স্ত্রীর চাকুরি করা ছাড়া জীবিকা উপার্জনের কোনো উপায় না থাকে, তাহলে স্ত্রী পর্দা ইত্যাদি শরীয়তের নীতিমালা অনুসরণ করে চাকুরি করতে পারবে। আর স্বামীর জন্য স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়ি থেকে টাকা আনতে চাপ প্রয়োগ করা অন্যায়। তাই স্ত্রীর সাথে স্বামী এধরনের আচরণ করবে না। বরং এক্ষেত্রে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ককে অটুট রাখবে।
الأدلة :
(১) الفتاوى الخانية : فصل في حقوق الزوجة ১/৪৪৩ (دار الكتب ديوبند) ليس للمرأة أن تخرج بغير اذن الزوج.
(২) الفتاوى الهندية : الفصل السابع في الطلاق بالألفاظ الفارسية ১/৩৮৪ (دار الكتب ديوبند) فقال الزوج طلاق ميكنم طلاق ميكنم، وكرر ثلاثا طلقت ثلاثا بخلاف قوله كنم لأنه استقبال فلم يكن تحقيقا بالتشكيل.
 
* আল বাহরুর রায়িক পৃ: ৩/৩১৪
* তাবয়িনুল হাকায়িক পৃ: ৩/৮৮
* আহসানুল ফাতাওয়া পৃ:৫/১৪৮
* ফাতাওয়া মাহমুদিয়া পৃ: ২৯/৪৮
* আপকে মাসায়িল আওর উনকা হল পৃ: ৬/৬৪৭
* কিতাবুল ফাতাওয়া পৃ: ৯/৩২৫, * শরহে মুখতাসারুত তহাবী পৃ: ৫/৭৫, 
* ফাতহুল কাদীর পৃ: ৩/৪১৫, 
* আদ দুররুল মুখতার পৃ: ৪/৫৪৭, * আন নাহরুল ফায়িক পৃ: ২/৩৬৮, * ইমদাদুল আহকাম পৃ: ২/৩৮৫, * সআযিযুল ফাতাওয়া পৃ: ৪৭৮, 
* ফাতাওয়া মাহমুদিয়া পৃ: ১৮/৯২, * ফাতাওয়া উসমানি পৃ: ২/৩৪৫,
*  কিতাবুল ফাতাওয়া পৃ: ৯/২৬৯।
 
                    স্ত্রী কর্তৃক তার স্বামীকে ডিবোর্স প্রদান 
প্রশ্ন : আমি আপনার নিকট একটি লিখিত প্রশ্ন পেশ করলাম। আমার নাম রিমা আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর পূর্বে আমার বিয়ে হয়েছে। আমাদের একটি সন্তান আছে, এবং আমি ৬ মাসের গর্ভবতী, একদিন আমি  সন্তানকে খাওয়াচ্ছিলাম। ওই সময় সন্তান আমাকে অনেক বিরক্ত করছিল। এতে আমি রাগ করে সন্তানকে মারছিলাম, তখন আমার স্বামী দেখে আমাকে অশীøল ভাষায় গালমন্দ করে, পরে আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। কিছুক্ষণ পর আমি আমার ভুল বুঝতে পেরে স্বামীর কাছে ক্ষমা চাই। কিন্তু সে আমাকে ক্ষমা করেনি; বরং চার দিন আমার সাথে থাকা খাওয়া থেকে বিরত থাকে এবং রাতেও ঘরে থাকেনি। পরে আমার স্বামী ও বড় জাল আমাকে অনেক মারধর করে এবং আমাকে বাপের বাড়িতে চলে আসতে বলে এবং তাকে বার বার চিরতরে ছেড়ে আসতে বলে। এতে আমার অনেক রাগ হয়। রাগের মাথায় আমি তাকে একদমে এক তালাক, দুই তালাক ও তিন তালাক বলেছি। দুই দিন পর আমার স্বামী ও বাড়ির সবাই আমাকে আমার বাপের বাড়িতে চলে আসতে বলে এবং কিছু দিন পর আমাকে নিয়ে আসবে বলে, পরে আমি আমার বাপের বাড়িতে চলে আসি। কিছুদিন পর আমি আমার স্বামীর কাছে ফোন করলে সে আমাকে বলে আমাকে নিয়ে সে আর ঘর-সংসার করবে না। আমি তাকে -তালাক দিয়েছি- বলে। অতঃপর সে ফোন কেটে দেয়, তিন মাস পর্যন্ত আমার কোন খোঁজ খবর নেয় না।
    এখন আপনার নিকট আমার প্রশ্ন হচ্ছে, স্ত্রী যদি স্বামীকে রাগের মাথায় তালাক দেয়, তাহলে সেই তালাক ইসলামী শরীয়া মতে গ্রহণযোগ্য হবে কি?
উত্তর : ইসলামী শরীয়তে তালাক প্রদানের অধিকার পুরুষদের, মহিলাদের নয়। তাই স্ত্রী কর্তৃক তার স্বামীকে তালাক প্রদান করা গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং আপনার পক্ষ থেকে আপনার স্বামীকে তালাক প্রদান করার দ্বারা কোন তালাক পতিত হয়নি। তাই আপনাদের মধ্যকার স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক পূর্বের ন্যায় এখনো বহাল রয়েছে।
প্রমাণপঞ্জি
(১) اما ركن الطلاق : فهو هذه اللفظة الصادرة من الزوج، اما شرطه من الزوج كونه عاقلا بالغا…. ومن المرأة كونها في نكاحه أو عدة التى تصلح محلا للطلاق. (الفتاوى التاتارخانية : ৪/৩৭৭)
(২) وأهله زوج عاقل بالغ مستيقظ ومحله المنكوحة (سكب الأنهر تحت مجمع الأنهر ২/৪)
(৩) ومحله المنكوحة وأهله زوج عاقل بالغ مستيقظ (الدر المختار مع الشامي : ২/৪১৯)
(৪) جعل الله سبحانه الطلاق بيد الزوج ولم يجعله بيد الزوجه ولا بيد أي شخص آخر خارج الأسرة ففي كل آيات الطلاق كان الخطاب مؤجها إلى الأزواج لا إلى الزوجات مثل قوله تعالى : يا ايها النبي اذا طلقتم النساء فطلقوهن لعدتهن (الفقه الحنفي : ২/১৬১)
(৫) جعل الطلاق بيد الزوج لا بيد الزوجه بالرغم من أنها شريكه في العقد حفظا على الزواج (الفقه الإسلامي : ৭/৩৪৭)
* আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু:৭/৩৫৫    * ফাতাওয়া মাহমুদিয়া পৃ: ১৮/৯৯
*কিতাবুন নাওয়াযিল পৃ: ৯/১৩৮                      * নিযামুল ফাতাওয়া পৃ: ২/২১১ 
*ফাতাওয়া *দারুল উলূম দেওবন্দ পৃ: ৯/৪৩
 
তালাকের সংখ্যা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মতানৈক্য
প্রশ্ন : আমাদের গ্রামের একটি ঘটনা: এক ব্যাক্তি তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়। স্বামীর বক্তব্য হলো সে তার স্ত্রীকে “এক তালাক, দুই তালাক” বলেছে। এরপর তার মা তার মুখ চেপে ধরায় আর কিছু বলেনি। ছেলের মাও এ কথাই বলছে। কিন্তু স্ত্রী বলছে স্বামী তাকে এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক বলেছে। স্বামীর খালাতো বোন এবং আরো একজন মহিলাও বলছে যে, স্বামী তিন তালাক দিয়েছে। এমতাবস্থায় স্ত্রীর উপর কত তালাক পতিত হবে এবং স্বামী তার উক্ত স্ত্রীকে নিয়ে শরীয়ত সম্মতভাবে ঘর- সংসার করতে পারবে কিনা? 
উত্তর : স্বামীর বক্তব্য অনুযায়ী সে তার স্ত্রীকে দুই তালাক দেওয়ার পরে আর কিছু বলেনি এবং তৃতীয় তালাককে অস্বীকার করছে। এর বিপরীতে স্ত্রীর তৃতীয় তালাকের দাবীর পক্ষে পর্যাপ্ত স্বাক্ষী উপস্থিত নেই। তাই বিচারিক দৃষ্টিতে স্বামীর কথাই ধর্তব্য হব্যে। তবে স্ত্রী যদি তৃতীয় তালাক দেওয়ার কথা নিশ্চিতভাবে শুনে থাকে, তাহলে স্ত্রীর জন্য আবশ্যক হল- খুলা ইত্যাদি বৈধ পদ্ধতি অবলম্বন করে বিবাহ বন্ধন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। 
প্রমাণপঞ্জি
 
(১) سنن الترمذي لمحمد بن عيسى بن سورة  أبي عيسى الترمذي المتوفى سنة ৩৭৯هـ، (دار ابن الجوزى) رقم الحديث : ১৩৪১، حدثنا علي بن حجر أنبأنا على بن مسهر وغيره عن محمد بن عبيد الله عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أن النبى صلى الله عليه وسلم قال في خطبته البينة على المدعى واليمين على المدعى عليه.
(২) النتف في الفتاوى لشيخ الإسلام قاضي القضاة أبي الحسن على بن الحسين بن محمد السغدي المتوفى سنة ৪৬১هـ (ايج ايم سعيد كمبني ادب منزل باكستان جوك كراتشي) صـ ৩৯০، والحادي عشر : شهادة المرأة لا تجوز بغير الرجال إلا فيما لا يطلع عليه الرجال.
(৩) كتاب المبسوط ৬/১৭৩ (৪) رد المحتار على الدر المختار ৮/২০২
(৫) الفتاوى الهندية ১/৩৫৪-৩৫৫
* আল মাবসূত: ৬/১৭৩                         * ফতোয়া শামী: ৮/২০২
* ফাতোয়া আলমগীরী: ১/৩৫৪-৩৫৫           * ফাতাওয়া মাহমুদিয়া পৃ: ১৯/২৩৭,
* ফাতাওয়া হক্কানিয়া পৃ: ৪/৪৫৬               *কিতাবুন নাওয়াযিল পৃ: ৯/১৪৬, ।
*ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ পৃ: ৯/১৯৩
 
  প্রশ্ন: আমাদের এলাকায় একটি পরিবারে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বৈবাহিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। আর তা হলো স্ত্রী দাবী করে স্বামী তাকে তিন তালাক দিয়েছে, আর স্বামী দাবি করে সে এক তালাক দিয়েছে। বিষয়টা সমাধানের জন্য একটি গ্রাম্য সালিশ বসানো হয়। আর সেই সালিশের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের কাছ থেকে জবানবন্দি নেওয়া হয়। তা হলো-
১। ছেলের দাবী হলো – গত কয়েক মাস আগে স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হয় এক পর্যায়ে স্বামী তার স্ত্রীকে ফোনে এক তালাক বলে ফেলে। অতঃপর উভয় পরিবারের সম্মতিতে ঘর-সংসার হয়। কিছুদিন পর পুণরায়  ঝগড়া হলে স্বামী বলে- তুমি সাফ সাফাই হইয়া আসছ কিনা?
২। মেয়ে পক্ষ, মেয়ের দাবী হলো- গত চার বৎসর পূর্বে ছেলের বাড়ীতে স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হয়, অতপর স্বামী স্ত্রীকে এক তালাক, এক তালাক দুইবার বলে তালাক দেয়। অতপর তাদের মাঝে ঘর-সংসার হয়। গত চার অথবা পাঁচ মাস পূর্বে আবার বিদেশে থাকাবস্থায় ফোনে আরেকবার তালাক প্রদান করে। স্ত্রীর দাবী অনুযায়ী মোট তিন তালাক হয়ে গেছে। আর ২ তালাকের সময় ছেলের মা ও ছেলের চাচাতো বোন সাথে ছিলো মেয়ের দাবী। আর তাদের দুইজন ছেলে আছে।
জানার বিষয় হলো, স্বামী তার স্ত্রীকে নিয়ে ঘর-সংসার করতে পারবে কিনা? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর : প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী স্বামী যদি এক তালাকের ব্যাপারে হলফ করে, তাহলে এক তালাকই ধর্তব্য হবে। শরয়ী স্বাক্ষী ছাড়া স্ত্রীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমতাবস্থায় স্ত্রীর ইদ্দতের মধ্যে স্বামী বিবাহ ছাড়াই তাকে রজআত করে ঘর-সংসার করতে পারবে। আর ইদ্দত অতিবাহিত হয়ে গেলে উভয়ের সম্মতিতে পুনরায় বিবাহ হতে হবে। বিবাহের পূর্বে ঘর-সংসার করা বৈধ হবে না।
কিন্তু যদি স্ত্রীর দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে, স্বামী তাকে তিন তালাক দিয়েছে, তাহলে তার জন্য এ স্বামী থেকে খোলা-তালাক ইত্যাদির মাধ্যমে নিস্কৃতি নিয়ে নেওয়া জরুরি। তার সাথে ঘর-সংসার করা জায়েয নয়। এমতাবস্থায় ইদ্দত অতিবাহিত হয়ে গেলে স্ত্রীর জন্য দ্বিতীয় বিবাহে সম্মত হওয়া জায়েয নয়। 
প্রমাণপঞ্জি
(১) الفتاوى الشامية لابن عابدين المتوفى سنة ১২৫২هـ، كتاب الشهادة ৪/৪৪৯ (المكتبة التهاونية) المرأة كالقاضي اذا سمعته او اخبرها عدل لا يحل لها أن تمكنه. كذا في بحر الرائق ৩/২৫৭. 
(২) فتاوى عثماني مفتي تقي عثماني ، كتاب الطلاق ২/৩৫৪-৩৫৫
(৩) فتاوى محمودية : ১৯/২৪৬ (৪) فتاوى رحيمية : ৮/২৬৮
(৫) امداد المفتين : ২/৫৯৫
 
     শাশুড়িকে ‘তোর  চৌদ্দ গোষ্ঠী তালাক ’ বললে স্ত্রী তালাক হবে কিনা?
প্রশ্ন : আমার ভাগিনার বিয়ে উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান হবে এই জন্য আমার আহলিয়াকে বলি তুমি বিয়ের শাড়ি নিয়ে চলে এসো। পরে আমার শাশুড়ির সাথে আমার কথা হয়, তর্কবিতর্কও হয়। আগেও অনেক তর্কবিতর্ক হয়েছিল। বিতর্কের এক পর্যায়ে আমি আমার শাশুড়িকে বলি যে, তোর জামাই তো তোরে তালাক দিতে পারে নাই আমি তোকে এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক দিলাম, তোর চৌদ্দ গোষ্ঠী তালাক। উল্লেখ্য যে, আমার স্ত্রীর প্রতি আমার কোন রাগ ছিল না। সে এ বিষয়ে কিছু জানেও না, তাকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছেও আমার ছিল না। শুধু আমার শাশুড়ির সাথে রাগ করে এমনটি বলেছি।
   এখন জানার বিষয় হল, এ জাতিয় বক্তব্যের কারণে আমার স্ত্রীর উপর কোন প্রকার তালাক কার্যকর হবে কি না? বা আমাদের বৈবাহিক সর্ম্পকে কোন প্রকার ত্রæটি হবে কি না?
উত্তর : ইসলামী শরীয়া মোতাবেক কেবল স্বামীই তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার রাখে। প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনাতে যেহেতু মেয়ের স্বামী তার শাশুড়িকে তালাক দিয়েছে তাই তালাক হবে না। কারণ শাশুড়িকে মেয়ের স্বামী তালাক দিতে পারে না এবং স্বামী যেহেতু তার স্ত্রীকে তালাক দেয়নি, তাই তার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হবে না। তদ্রæপ শাশুড়ির চৌদ্দ গোষ্ঠীকে তালাক দেওয়ার দ্বারা স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হবে না। কারণ গোষ্ঠী বলতে সাধারণত পিতার বংশের আত্মীয় স্বজনকে বুঝায়। অতএব স্ত্রী শাশুড়ির গোষ্ঠীর নয়। বরং শশুড়ের গোষ্ঠীর। তবে যদি আপনাদের সমাজে শাশুড়ির গোষ্ঠী বলে স্ত্রীকেও বুঝানো হয়ে থাকে তাহলে একথা বলার কারণে আপনার স্ত্রীর উপর এক তালাকে রজয়ী পতিত হবে।
উল্লেখ্য যে, শাশুড়ি সম্মান ও মর্যাদার পাত্র, তার সাথে ঝগড়া করা বা এমন মারাত্বক আচরণ আদৌ উচিৎ হয়নি। তাই আপনার উচিৎ তাওবা করা ও শাশুড়ির কাছে ক্ষমা চাওয়া ।
প্রমাণপঞ্জি
 (১) سنن ابن ماجة رقم الحديث : ২০৪৭، صـ২২০، ما نصه عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : لا طلاق فيما لا يملك: وأيضا برقم ২০৮১، صـ ২২৪، ما نصه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إنما الطلاق لمن أخذ بالساق.
* ফাতাওয়া মাহমুদিয়া পৃ: ১৮/৯৭,                   * ফাতাওয়া তাতারখানিয়া পৃ: ৪/৩৭৭ 
*আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু পৃ: ৭/৩৫১,      * ফাতাওয়া শামী পৃ: ৪/৫১১  *আল মুহিতুল বুরহানী: ৪/৩৯০                           * আদ দুররুল মুখতার পৃ: ৪/৪১৯ 
* আল মওসুআতুল ফিকহিয়্যা : ২৯/৫, ১/৯৭                 *লিসানুল আরব ১/১৪৮,  
*  তিফায়াতুল মুফতি: ৬/৬০                                   *কিতাবুন নাওয়াযিল: ৯/১২৫
 
‘ছাইড়া দিলাম’ শব্দের দ্বারা তালাক প্রদান
    প্রশ্ন : স্বামী রাগের বশবর্তী হয়ে তার স্ত্রীকে বলেছে এক তালাক দুই তালাক, ছাইড়া দিলাম বাইন তালাক। এ অবস্থায় হুকুম কি?
উত্তর : প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী তার স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হয়ে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ রুপে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় তাকে নিয়ে ঘর-সংসার করা বৈধ হবে না।
(১) الطَّلاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ وَلا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا آَتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلا أَنْ يَخَافَا أَلا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلا تَعْتَدُوهَا وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ. سورة البقرة : ২২৯-২৩০
(২) كتاب الاصل للإمام محمد الشيباني دار ابن حزم ৪/৪৬৬، وإذا طلق الرجل امرأته ثلاثا جميعا فقد خالف السنة وأثم بربه وهي طالق ثلاثا، لاتحل حتى تنكح زوجا غيره ويدخل بها.
(৩) الهداية ২/৩৫৫ (৪) الفتاوى الهندية : ১/৪৭৩
(৫) الدر المختار : ৪/৫৬৭ (৬) البحر الرائق : ৩/৩০৬
ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ পৃ: ৯/৩১০, আপকে মাসায়িল আওর উনকা হল পৃ: ৬/৪৬৮।
 
 
প্রথম স্বামী থেকে তালাক গ্রহণের পূর্বে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া  
প্রশ্ন : মোছা: লাবনী আক্তার, পিতা- আলাউদ্দীন (আলম), ছাবিলা, পাগলা, গফরগাঁও, মোমেনশাহী এর দুই বছর আগে একটি ছেলের সাথে বিয়ে হয়। দ্ইু বছর পর পারিবারিক কলহের জের ধরে লাবনী আক্তার এর স্বামীর কাছ থেকে তালাক গ্রহনের পূর্বেই সে মেহেদী হাসানের সাথে বিয়ে বসে এবং বিয়ের এক মাস পর লাবনী আক্তার তার পূর্বের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে ডিভোর্সনামা পাঠিয়ে দেয় এবং তার দ্বিতীয় বিয়ের রেজিষ্ট্রি করে। পরে আবার দুই বছর পর মেহেদী হাসান তাকে তিন তালাক দেয়। এখন মেহেদী হাসান আবার তাকে নিয়ে ঘর-সংসার করতে আগ্রহী।
উত্তর : প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লাবনী আক্তার প্রথম স্বামীর কাছ থেকে তালাক গ্রহণের পূর্বেই মেহেদী হাসানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাই মেহেদী হাসানের সাথে লাবনী আক্তারের দ্বিতীয় বিবাহ সহীহ হয়নি। বরং লাবনী আক্তার প্রথম স্বামীর স্ত্রী রুপেই বহাল রয়েছে এবং তার ও মেহেদী হাসানের মধ্যকার সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে হারাম ও অবৈধ হয়েছে। আর ইসলামী শরীয়ত তালাক দেয়ার অধিকার কেবল স্বামীকে দিয়েছে। স্ত্রী কখনোই স্বামীকে তালাক বা ডিভোর্স দিতে পারে না। এবং স্বামী তার স্ত্রীকে তালাকের অধিকার না দিলে স্ত্রী তার নিজের উপরও তালাক বা ডিভোর্স প্রয়োগ করতে পারে না। অতএব লাবনী আক্তারের প্রথম স্বামীকে ডিভোর্সনামা পাঠিয়ে দেয়া ও দ্বিতীয় বিবাহের রেজিষ্ট্রি করে নেয়া শরীয়ত অনুযায়ী বৈধ হয়নি। তাই মেহেদী হাসান কর্তৃক লাবনী আক্তারকে তিন তালাক দেয়ারও কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। বরং লাবনী আক্তার এখনো তার প্রথম স্বামীর স্ত্রী হিসেবেই বহাল রয়েছে। এবং তার সাথে ঘর-সংসার করা বৈধ রয়েছে। এমতাবস্থায় মেহেদী হাসানের সাথে সম্পর্ক রাখা বা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া কোনো ক্রমেই জায়েয হবে না। তবে যদি লাবনী আক্তারের প্রথম স্বামী মারা যায় বা সে লাবনী আক্তারকে তালাক দেয়, তাহলে সে মৃত্যু বা তালাকের ইদ্দত পালন করার পর মেহেদী হাসান বা অন্য কোনো পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। এর পূর্বে নয়।
                              الأدلة :    
(১) قال الله تعالى : وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ. سورة النساء-২৪
(২) وفي مشكاة المصابيح صـ : ২৮৪ في باب الخلع والطلاق (المكتبة الأشرفية بديوبند) لا طلاق قبل النكاح.
(৩) المصنف لإبن أبي شيبة ، رقم الحديث : ১৮১১৯
(৪) مسند الإمام احمد بن حنبل، رقم الحديث : ৬৯৩২
(৫) الفتاوى الهندية : ১৮২৮০
ফাতাওয়া খানিয়া পৃ: ১/৩৬৬, বাদাইয়ুস সানায়িঈ‘ পৃ: ২/৫৪৮, আল মুহিতুল বুরহানী পৃ: ৪/১৬৬, রদ্দুল মুহতার  পৃ: ৪/২৬৬, আল মওসুআতুল ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়্যা পৃ: ৩২/২১৮-২১৯, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া পৃ: ১৬/২৮৮, ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ পৃ: ৯/৪২, ১০/৩৮, আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল পৃ: ৬/৪২৪, কিফায়াতুল মুফতী পৃ: ৫/৪৩।
     স্বামীর অজান্তে কাবীননামায় ১৮নং কলামে তালাকের কথা লিখে স্বামীর স্বাক্ষর নিলে স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে কিনা?
  প্রশ্ন : আমাদের দেশের কাবীন নামায় ১৮নং ঘরে একটি অপশন আছে “স্বামী তার স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দিয়েছে কিনা? দিলে কি শর্তে” সাধারণত কাযী বা কাবীন রেজিষ্টারগণ কাবীন নামার ফরম পূরণ করে থাকেন। উল্লেখ্য যে, অনেক কাযী বা কাবীন রেজিষ্টার স্বামীকে কিছু জিজ্ঞাসা না করে বা না জানিয়ে ফরমের ১৮নং ঘরে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়া হয়েছে বলে লিখে দেয়। স্বামী উক্ত ফরমে স্বাক্ষর করার সময় তার সামনে তা পড়া হয়না এবং স্বামী নিজেও তা পড়ে না। পরবর্তীতে কখনো ফরম দেখিয়ে তালাকের অধিকার দানের কথা বলা হলে স্বামী তা অস্বীকার করে বলে আমি তাকে তালাকের অধিকার দেইনি। আর কাযী সাহেব কি লিখেছেন আমি তার কিছুই জানি না। স্বাক্ষর দিয়েছি শুধু মাত্র বিবাহের অনুমতি দিয়ে।
এখন জানার বিষয় হলো, এভাবে স্বামীর অজান্তে কাবীন নামায় তাফয়ীযে তালাকের কথা লিখে স্বাক্ষর নেওয়ার দ্বারা স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে কি না? এবং এর উপর ভিত্তি করে সে তালাক গ্রহণ করলে তা কার্যকর হবে কি না? 
উত্তর: স্বামীর অজান্তে তাফয়ীযে তালাকের কথা লিখে কাবীন নামায় স্বাক্ষর নেওয়ার দ্বারা স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে না। তাই এর উপর ভিত্তি করে স্ত্রী নিজের উপর তালাক পতিত করলে, বা ডিভোর্স দিলে তা শরয়ীতের দৃষ্টিতে কার্যকর হবে না। 
الأدلة :
(১) رد المحتار ৪/৪৪৩ ولواستكتب من آخر كتابا بطلاقها وقرأه على الزوج فاخذه الزوج وختمه وعنونه وبعث به إليها فأتاها وقع إن أقر به الزوج أنه كتابه، أو قال له اكتب اسخة وابعث بها إليها وإن لم يقرأنه كتابه ولم تقم بينة لكنه وصف الأمرعلى وجهه لا يطلق قضاء ولا ديانة وكذلك كل كتاب لم يكتبه بخطه ولم يمله بنفسه لا يقع به الطلاق مالم يقرأنه كتابه.
(২) الفتاوى الهندية : ১/৩৭৯ (৩) المحيط البرهاني : ৪/৪৮৭
(৪) الفتاوى التاتارخانية : ১২/৫৩১  (৫) كتاب الأصل : ৪/৫১৭
ফাতাওয়া দারুল উলুম পৃ: ৯/১৪২, ফাতাওয়া হক্কানিয়া পৃ: ৪/৪৫৭।
স্ত্রীকে দুই তালাক প্রদানের পর পুনরায় সংসার করতে চাইলে করণীয় কী?
    প্রশ্ন : আমি মো: আলি হোসেন (৩৫), গত তিন বছর আগে মোছা: সেলিনা খাতুন (২০) কে বিবাহ করি। ১২/১৩ দিন পূর্বে কোলের বাচ্চা নিয়ে তার সাথে আমার ঝগড়া হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সে আমাকে বলে, ঝগড়ার প্রয়োজন নেই।  তুমি যদি আমাকে পরিস্কার করে দিতে পার, তাহলে আমি চলে যাব। এ কথার উত্তরে আমি তাকে এক তালাক, দুই তালাক বলি। এ সময় সেখানে অন্য কেউ ছিল না। তার থেকে আমার একটি ৮/৯ মাসের মেয়ে আছে।
উত্তর : প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার স্ত্রী মোছা: সেলিনা খাতুনের উপর দুই তালাকে রজয়ী পতিত হয়েছে। এখন তাকে নিয়ে ঘর-সংসার করতে চাইলে তার ইদ্দত তথা তিনটি মাসিক ঋতুস্রাব পূর্ণ হওয়ার পূর্বে আপনি তাকে পুনরায় ফিরিয়ে নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে স্ত্রীর সম্মতির বা তাকে পুনরায় বিবাহ করার প্রয়োজন নেই। ফিরিয়ে নেয়ার উত্তম নিয়ম হলো, দু’জন স্বাক্ষীর সামনে মৌখিকভাবে ফিরিয়ে নেয়া। অর্থাৎ দু’জন স্বাক্ষীর সামনে স্ত্রীকে একথা বলা, “আমি তোমাকে ফিরিয়ে নিলাম” বা স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে একথা বলা, “আমি তাকে ফিরিয়ে নিলাম”। স্বাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বা মুখে কিছু না বলে কর্মের দ্বারা (যেমন : সহবাস করা, চুমু খাওয়া ইত্যাদির দ্বারা) ফিরিয়ে নিলে তাও মাকরূহের সাথে সহীহ হবে। আর তার ইদ্দত তথা তিনটি মাসিক ঋতুস্রাব পূর্ণ হয়ে গেলে দুই তালাক বায়েন হয়ে যাবে। তখন উভয়ের সম্মতিতে পুনরায় বিবাহ করা ছাড়া ঘর-সংসার করা জায়েয হবে না। 
তবে মনে রাখতে হবে, আগামীতে আপনি এ স্ত্রীকে কেবল এক তালাক দেওয়ার অধিকার রাখবেন। যদি কখনো এক তালাক দেন তাহলে পূর্বের দুই তালাকের সাথে মিলে তিন তালাক হয়ে যাবে। 
الأدلة :
(১) وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَلِكَ إِنْ أَرَادُوا إِصْلاحًا ……… الطَّلاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ. سورة البقرة : ২২৮-২২৯
* يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ لا تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلا يَخْرُجْنَ إِلا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ لا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْرًا. سورة الطلاق : ১
(২) المصنف لابن أبي شيبة : ১০/১৬৮، رقم الحديث : ১৯২৩০
عن مكحول أن أبا بكر وعمر وعليا وبن مسعود وأبا الدرداء وعبادة بن الصامت وعبد الله بن قيس الأشعري كانوا يقولون في الرجل يطلق امرأته تطليقة أو تطليقتين إنه أحق بها مالم تغتسل من حيضها الثالثة يرثها وترثه ما دامت في العدة.
(৩) تفسير ابن كثير : ১/৩৯৫      (৪) الهداية مع الفتح، المكتبة الحقانية : ৪/১৪ (৫) كنز الدقائق مع البحر : ৪/৫০
আল জাওহারাতুন নায়্যিরাহ পৃ: ৪/১৭৮, ফাতাওয়া হিন্দিয়া পৃ: ১/৪৬৮-৪৭০, ফাতাওয়া রহিমিয়া পৃ: ৮/৩৯৭, ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ পৃ: ৯/২৩৩।
     প্রশ্ন: আমি মো: মাযহারুল ইসলাম গত কয়েক বছর আগে বিবাহ করি। বর্তমান আমাদের সংসারে দুইটি সন্তান রয়েছে। গত ১৫-১২-২০১৭ইং তারিখ রাতে বাসায় আসার পর কোন একটি বিষয় নিয়ে আমার স্ত্রী বারবার কথা বলছিল। আমি তাকে চুপ থাকতে বললেও চুপ থাকে না। এক পর্যায়ে আমি তাকে বললাম, তুই যদি কথা বলিস, তাহলে খবর আছে। আমার স্ত্রী বলল কি খবর আছে, আমাকে ছেড়ে দিবা বা তালাক দিবা? আমি বললান হ্যা আবার কথা বললে ছেড়ে দিব বা তালাক দিয়ে দিব। তারপরও সে চুপ থাকছে না, বারবার আমার সাথে সে প্যাঁচাল পারতে থাকে। তখন আমি তাকে বললাম তুই এক তালাক দুই তালাক।
মুহতারামের নিকট জানতে চাই, উল্লেখিত অবস্থায় আমাদের বৈবাহিক সর্ম্পকে কোন ক্ষতি হবে কিনা? আমরা একত্রে সংসার করতে চাই। শরয়ী বিধান জানিয়ে বাধিত করবেন।
      উত্তর : প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার স্ত্রীর উপর দুই তারাকে রজয়ী পতিত হয়েছে। এখন তাকে নিয়ে ঘর সংসার করতে চাইলে তার ইদ্দত (তথা ঋতুবতী হলে তিন ঋতুস্রাব অতিবাহিত হওয়া, গর্ভবতী হলে গর্ভ খালাস হওয়া, ঋতুবতী বা গর্ভবতী না হলে তিন মাস অতিবাহিত হওয়া) পূর্ণ হওয়ার পূর্বে তাকে ফিরিয়ে নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর সম্মতি বা পুনরায় বিবাহের প্রয়োজন নেই।
ফিরিয়ে নেয়ার উত্তর পদ্ধতি হলো, দুজন স্বাক্ষীর সামনে মৌখিকভাবে একথা বলা যে, আমি আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিলাম এবং স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়ার কথা জানিয়ে দেয়া। স্বাক্ষী ছাড়া একথা বলে ফিরিয়ে নিলে কিংবা মুখে কিছু না বলে কর্মের দ্বারা যেমন সহবাস করা হাত ধরা, চুমু খাওয়া ইত্যাদির দ্বারা ফিরিয়ে নিলে বা ফিরিয়ে নেয়ার কথা স্ত্রীকে না জানালেও তাও মাকরুহে তানযীহির সাথে সহীহ হবে এমতাবস্থায় পুনরায় স্ত্রীর সামনে মৌখিকভাবে ফিরিয়ে নেয়া উত্তম। আর স্ত্রীর ইদ্দত পূর্ণ হয়ে গেলে দুই তালাকে বায়েন হয়ে যাবে, তখন উভয়ের সম্মতিতে পুনরায় বিবাহ ছাড়া ঘর-সংসার করা বৈধ হবে না।
    মনে রাখতে হবে, আগামীতে আপনি আপনার এ স্ত্রীকে কেবল এক তালাক দেয়ার অধিকার রাখবেন। যদি কখনো তাকে এক তালাক দেন, তাহলে পূর্বের দুই তালাকের সাথে মিলে তিন তালাক পূর্ণ হয়ে যাবে।
الأدلة : 
(১) وبعولتهن احق بردهن في ذلك ان أرادوا اصلاحا…. ، الطلاق مرتان فإمساك بمعروف او تسريح بإحسان. سورة البقرة ২২৮-২২৯
وقال العلامة الامام ابن كثير الدمشقي في تفسيره ১/৩৯৫ (دار الافاق العربية، العربية) قوله : فامساك بمعروف او تسريح بإحسان) أي اذا طلقتها واحدة او اثنين فانت مخير فيها مادامت عدتها باقية بين ان تردها اليك ناويا الاصلاح بها والاحسان اليها، وبين ان تتركها حتى تنقضي عدتها، فتبين منك وتطلق سراحها محسنا اليها لا تطلمها من حقها شيئا ولا تضار بها.
(২) المصنف لابن أبي شيبة، رقم الحديث : ১৯২৩০
(৩) الهداية : ২/৩৯৪ (৪) الجوهر النيرة ২/১৫৮
(৫) الفتاوى الهندية ১/৪৬৮-৪৭০
 
মোবাইল-ফোনে তালাক দিলে তালাক কার্যকর হবে কিনা?
প্রশ্ন: আমি মো: শামসুল ইসলাম, গত ১২/০৫/১৭ইং তারিখে সৌদি আরব থেকে মোবাইলের মাধ্যমে পারিবারিক ব্যাপারে কথা কাটাকাটির পর রাগে উত্তেজিত হয়ে আমর স্ত্রী মারজিয়া আক্তারকে “এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক” বলে ফেলি। আমার স্ত্রীর বয়স ৩০ বছর। বর্তমানে সে গর্ভবতী নয়। তার গর্ভ থেকে আমার দু’টি মেয়ে ও একটি ছেলে আছে। বড় মেয়ের বয়স ১৬ বছর, ছেলের বয়স ১৪ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স ১১ বছর।
অতএব হুজুর সমীপে আকুল আবেদন এই যে, আমি আমার স্ত্রীর সাথে শরীয়তের বিধানমতে পুনরায় ঘর-সংসার করতে পারব কি না? এবং তালাক হয়েছে কিনা? যদি তালাক হয়ে থাকে, তাহলে আমার স্ত্রী আমার কাছে কতদিন ভরণ-পোষণ পাবে? সে মহরের টাকা পাবে কিনা? তার বাপের বাড়ি থেকে আনা সম্পদ যেমন গরু ইত্যাদির মূল্য ফেরত পাবে কিনা? ছেলে সন্তান ও মেয়ে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ ও লালন-পালনের খরচ কে বহন করবে? সন্তান লালন পালনের জন্য স্ত্রীকে বাধ্য করা যাবে কিনা? এবং যদি তিন সন্তান পিতার কাছে থাকতে না চায় তাহলে কে লালন পালন করবে? সন্তানদের লালন-পালনের জন্য সে আমার বাড়িতে থাকতে পারবে কিনা? ইহার বিস্তারিত সঠিক সমাধান প্রদান করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
উত্তর : প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী মো: শামসুল ইসলামের স্ত্রী মারজিয়া আক্তারের উপর তিন তালাক কার্যকর হয়ে তাদের মধ্যকার বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে এবং এই স্ত্রী মো: শামসুল ইসলামের জন্য হারাম হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় পুনরায় তাকে নিয়ে ঘর-সংসার করা জায়েয হবে না।
তবে যদি মারজিয়া আক্তার তালাকপ্রাপ্তা হওয়ার পর পূর্ণ তিনটি মাসিক ঋতুস্রাব অতিবাহিত করার মাধ্যমে ইদ্দত পালন করে, অতপর সহবাসে সক্ষম অন্য কোন মুসলিম পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং সেই স্বামীর সাথে সহবাসও হয়, তারপর দ্বিতীয় স্বামী তাকে তালাক দেয় বা মারা যায়, তাহলে দ্বিতীয় স্বামীর তালাক বা মৃত্যুর ইদ্দত পালন করার পর মো: শামসুল ইসলাম তাকে বিবাহ করতে পারবে; এর পূর্বে নয়।
শামসুল ইসলামের স্ত্রী মারজিয়া আক্তারের মোহরানা বাকী থাকলে এখন তা সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করে দিতে হবে। মারজিয়া আক্তারের ইদ্দত চলাকালীন সময়ে অর্থাৎ সে তালাকপ্রাপ্তা হওয়ার পর থেকে পূর্ণ তিনটি মাসিক ঋতুস্রাব অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত শামসুল ইসলামের কাছে ভরণ-পোষণ তথা খানা-পিনা, বাসস্থান ও পরিধানের পোশাক পাবে। সে আগে যে ঘরে থাকত তালাকপ্রাপ্তা হওয়ার পর সে ঘরে থেকেই ইদ্দত পালন করবে। শরীয়ত সম্মত উজর ছাড়া তার জন্য সে ঘর থেকে চলে যাওয়া বা অন্যরা সেখান থেকে তাকে বের করে দেওয়া জায়েয হবে না। ইদ্দত শেষ হয়ে যাওয়ার পর মারজিয়া আক্তারের জন্য ভরণ-পোষণ, বাসস্থান দাবী করার কোনো অধিকার নেই। ইচ্ছে করলে সে অন্যত্র বিয়ে বসবে অথবা তার বাপের বাড়ি বা স্বজনদের কাছে চলে যাবে। তবে যদি শামসুল ইসলাম তার সন্তানদের দেখা-শোনার জন্য তার বাড়িতে মারজিয়া আক্তারকে থাকতে দেয় আর যদি এতে পর্দাহীনতা বা শরীয়ত বিরোধী কোনো কাজের আশংকা না থাকে, তাহলে মারজিয়া আক্তারের জন্য থাকা জায়েয হবে। কিন্তু শামসুল ইসলামের সাথে দেখা দিতে পারবে না। পর্দা রক্ষা করে চলতে হবে।
মা তালাক প্রাপ্তা হওয়ার পর সন্তানের গায়রে মাহরাম পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ  না হলে ছেলে সন্তানের সাত বছর হওয়া পর্যন্ত এবং মেয়ে সন্তানের নয় বছর বা প্রয়োজনে বালেগা হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে কাছে রেখে প্রতিপালন করার অধিকার রাখে। এ সময়ের মধ্যে যথাযোগ্য কারণ ছাড়া পিতার জন্য সন্তানকে মায়ের কাছ থেকে জোর করে নিয়ে আসা জায়েয নয়। কিন্তু এখানে সন্তানরা সবাই যেহেতু বড় হয়ে গেছে, তাই মারজিয়া আক্তারের জন্য তাদেরকে বাধ্য করাও যাবে না। তবে মা যদি সন্তানদের সবাইকে কাছে রাখতে চায় আর পিতাও এতে সম্মত থাকে অথবা সন্তানরা পিতার কাছে না গিয়ে মায়ের কাছে থাকে, তাহলে এতে কোনো সমস্যা নাই। তবে সর্বাবস্থায় সন্তান উপার্জনক্ষম হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাদের সকল ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পিতার উপর। যদি সন্তানের নিজস্ব সম্পদ থাকে, তাহলে তা থেকে, অন্যথায় পিতা নিজের উপার্জন দিয়ে সন্তানদের ভরণ-পোষণ নির্বাহ করবে। 
মারজিয়া আক্তারের বাপের বাড়ি থেকে আনা সম্পদ যেগুলো তার মালিকানায় আছে তা সবই সে ফেরত পাবে। আর যেগুলো স্বামীকে দিয়ে দিয়েছে বা খরচ করেছে তা যদি স্বামীকে ধার বা ঋণদানের চুক্তিতে দিয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো বা তার মূল্য ফেরত পাবে। আর যদি বাপের বাড়ি থেকে স্বামীকে মালিক বানিয়ে দেওয়া হয় বা স্ত্রী তার কোনো সম্পদ হাদিয়া হিসেবে স্বামীর জন্য খরচ করে, তাহলে স্ত্রী তা ফেরতের দাবী করতে পারবে না।
الأدلة :
(১) الطَّلاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ………. فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ. سورة البقرة : ২২৯-২৩০
* يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ لا تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلا يَخْرُجْنَ إِلا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ لا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْرًا. سورة الطلاق : ১
* أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنْتُمْ مِنْ وُجْدِكُمْ وَلا تُضَارُّوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ وَإِنْ كُنَّ أُولاتِ حَمْلٍ فَأَنْفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّى يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ فَإِنْ أَرْضَعْنَ لَكُمْ فَآَتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ وَأْتَمِرُوا بَيْنَكُمْ بِمَعْرُوفٍ وَإِنْ تَعَاسَرْتُمْ فَسَتُرْضِعُ لَهُ أُخْرَى. سورة الطلاق : ৬
(২) عن عائشة : أن رجلا طلق امرأته ثلاثا فتزوجت فطلق فسئل النبي صلى الله عليه وسلم أتحل للأول؟ قال (لا حتى يذوق عسيلتها كما ذاق الاول). صحيح البخاري : ৫২৬১، صحيح مسلم : ১৪৩৩
(৩) صحيح مسلم : ১৪৮০ (৪) سنن ابي داود ২২৫০
(৫) مصنف ابن أبي شيبة : ১৭৭৯
কিতাবুল আসল পৃ: ৪/৪৬৬, খোলাসাতুল ফাতাওয়া পৃ: ২/৭৪, আল হিদায়া পৃ: ২/৪২৫, ফাতহুল কাদীর পৃ: ৩/৩৩০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া পৃ: ১/৪৭৩, রদ্দুল মুহতার   পৃ: ৩/৫৬০-৫৬৭, আল বাহরুর রায়িক  পৃ: ৩/২৭৩, রদ্দুল মুহতার   পৃ: ৩/২৪৮, আল মওসুআতুল ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়্যা পৃ: ২৯/৩৫, ফাতাওয়া রহিমিয়া পৃ: ৮/২৫৯-২৬০, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া পৃ: ৮/৬২১, ইমদাদুল ফাতাওয়া পৃ: ২/৪৪৬, আহসানুল ফাতাওয়া পৃ: ৫/১৯৮, ফাতাওয়া উসমানী পৃ: ৪৬৮-৪২৯, ইমদাদুল আহকাম পৃ: ২/৫৮৭, আপকে মাসায়িল আওর উনকা হল পৃ: ৬/৪৬৭।
স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে তালাকে তাফয়ীযের নোটিশ প্রদান
প্রশ্ন : আমি মোছা: নাঈমা খাতুন, গত ৩১/১২/১৯৮৬ইং তারিখে মো: জসিম উদ্দিন এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। তাহার (আমার স্বামী) সাথে আমার বনি বনা না হওয়ায় কাবিন নামার ১৮নং ধারায় আমি গত ২০/১০/২০১৪ইং তারিখে তালাকে তাফয়ীযের নোটিশ প্রদান করি। এমতাবস্থায় আমাদের ছেলে-মেয়েদের প্রতি সদয় হইয়া আমি পুনরায় স্বামীর সংসারে ফিরে আসতে চাই।
উত্তর : প্রশ্নের সাথে সংযুক্ত নিকাহ নামা থেকে বুঝা যায়, আপনার স্বামী আপনাকে কিছু শর্ত সাপেক্ষে তাফয়ীযে তালাক বা তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পন করেছেন। যেহেতু তিনি তালাকের কোন সংখ্যা উল্লেখ করেন নি। তাই তা এক তালাকের ক্ষমতা প্রদানই ধর্তব্য হবে। অতপর নিকাহ নামার বর্ণনা  বাস্তব হলে উল্লেখিত শর্ত পাওয়ার পর যদি আপনি তালাক গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে আপনার উপর এক তালাক কার্যকর হয়েছে। আর যেহেতু তালাকের ইদ্দত অতিবাহিত হয়ে গেছে তাই আপনারা পুনরায় একত্রে সংসার করতে চাইলে, নতুনভাবে মহর ধার্য করে বিবাহের যাবতীয় শর্তের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে।
উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত বিধান তখনই প্রযোজ্য হবে যখন আপনার স্বামী বাস্তবেই আপনাকে বিবাহের সময় অথবা বিবাহের পর তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পন করে থাকে। আর যদি সে বাস্তবে আপনাকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পন না করে থাকে বরং নিকাহ নামার ফরম পূরণের পূর্বে বা পরে নিকাহ নামার বিষয় বস্তু না জেনে শুধু স্বাক্ষর করে (যেমন বর্তমানে অনেক কাজী সাহেব খালী ফরমে শুধু স্বাক্ষর নিয়ে নেয় পরে স্বামীকে কিছুই না জানিয়ে ১৮নং ঘরে তাফয়ীজে তালাকের কথা লিখে দেয়) তাহলে আপনি তার থেকে তালাক গ্রহণের অধিকার পাবেন না। এক্ষেত্রে আপনার তালাক গ্রহণ কার্যকর হবে না। বরং আপনাদের মধ্যকার বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকবে।
الأدلة :
(১) ومن قال لإمرأته طلقي نفسك ولا نية له أو نوى واحدة فقالت طلقت نفسي فهي واحدة رجعية وإن طلقت نفسها ثلاثا وقد أراد الزوج ذلك وقعت عليها وهذا لأن قوله طلقي معناهء افعلي فعل الطلاق وهو اسم جنس فيقع على الأدنى مع احتمال الكل كسائر أسماء الأجناس فلهذا تعمل فيه نية الثلاث وينصرف إلى واحدة عند عدمها وتكون الواحدة رجعية لأن المفوض إليها صريح الطلاق وهو رجعي ولو نوى الثنتين لا يصح لأنه نية العدد إلا اذا كانت المنكوحة أمة لانه جنس في حقها (الهداية ২/৩৮০)
(২) وأما التفويض المعلق بشرط فلا يخلو من أحد وجهين إما أن يكون مطلقا عن الوقت وإما ان يكون مؤقتا فإن كان مطلقا بأن قال : إذا قدم فلان فأمرك بيدك فقدم فلان فالأمر بيدها إذا علمت في مجلسها الذي يقدم فيه فلان لأن المعلق بشرط كالمنجز عند الشرط فيصير قائلا عند القدوم أمرك بيدك فإذا علمت بالقدوم كان لها الخيار في مجلس علمها. بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع ৩/১৮৩)
(৩) مجمع البحرين : ৫৬৭ (৪) الفتاوى التاتارخانية : ৪/৪৭৭
আদ দুররুল মুখতার পৃ: ৪/৫৪১, মাজমাউল আনহুর পৃ: ২/৪৯, ফাতাওয়া শামী পৃ: ৪/৫৪১, আল জামিউস সগীর পৃ: ১১৬, শরহু মুখতাসারিত তহাবী পৃ: ৫/৭৯, বাদাইয়ুস সানায়ে পৃ: ৩/২৮৩, আল হিদায়া পৃ: ২/৩৯৯, কানযুদ দাকায়িক পৃ: ১৩২, তাবয়ীনুল হাকায়িক পৃ: ৩/১৬২, ফাতাওয়া হিন্দিয়া পৃ: ১/৪৭২, আল বাহরুর রায়িক  পৃ: ৩/১৪২, ফাতাওয়া শামী পৃ: ৪/২১৯-২২৩, ৪/৪৪৩, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া পৃ: ১৯/১০৯, ১৮/২১২, ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ পৃ: ১০/৩৮, ৮/৩১৮, আল মুহিতুল বুরহানী পৃ: ৪/৪৪৩, খোলাসাতুল ফাতাওয়া পৃ: ৩/১১০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া পৃ: ১/৩৭৯-৩৯৮।
কোনো কাগজে ‘তালাক দিলাম’ লিখলে তালাক হবে কিনা?
    প্রশ্ন : কোনো ব্যক্তিকে তার পরিবারের লোকেরা তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে, এজন্য তারা তাকে বেধড়ক প্রহার করেছে ও বাড়ী থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তালাক না দিলে তাকে আরো প্রহারের হুমকি দিচ্ছে। এতে সে এক প্রকার বাধ্য হয়ে একটি কাগজের মধ্যে যা তালাক নামা বা চিঠি নয় একথা লিখে দিলো “আমি আমার স্ত্রীকে এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক দিলাম” একথা সে মুখে উচ্চারণ করেনি। কিন্তু লিখার সময় সে শুধু দুই তালাকের নিয়ত করে, তিন তালাক না হওয়া তার কাম্য ছিল।
উত্তর : প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী উক্ত ব্যক্তির স্ত্রীর উপর দুই তালাকে রজয়ী পতিত হয়েছে। এখন উক্ত স্ত্রীকে নিয়ে ঘর-সংসার করতে চাইলে তার ইদ্দত তথা সে ঋতুবতী হলে তিনটি মাসিক ঋতুস্রাব অতিবাহিত হওয়া, গর্ভবতী হলে গর্ভ খালাস হওয়া অন্যথায় তিনমাস অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে রজআত করে নিতে পারবে। এক্ষেত্রে স্ত্রীর সম্মতির বা পুনরায় বিবাহের প্রয়োজন নেই।
রজআত করার উত্তম পদ্ধতি হলো, দুজন স্বাক্ষীর সামনে মৌখিকভাবে স্ত্রীকে এ কথা বলা যে, “আমি আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিলাম”। স্বাক্ষী অথবা স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে মৌখিকভাবে একথা বলে ফিরিয়ে নিলে, অথবা মুখে কিছু না বলে কর্মের দ্বারা যেমন, সহবাস, চুমু খাওয়া ইত্যাদির দ্বারা ফিরিয়ে নিলে তাও মাকরুহে তানযিহীর সাথে সহীহ হবে। তবে এক্ষেত্রে পুনরায় স্বাক্ষীর সামনে রজআত করে নেওয়া উত্তম।
আর তার ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে দুই তালাক বায়েন হয়ে যাবে। তখন উভয়ের সম্মতিতে পুনরায় বিবাহ করা ছাড়া ঘর-সংসার করা বৈধ হবে না। তবে আগামিতে সে তার স্ত্রীকে কেবল এক তালাক দেওয়ার অধিকার রাখবে, যদি আবার কখনো এক তালাক দেয়, তাহলে আগের দুই তালাকের সাথে মিলে তিন তালাক হয়ে যাবে।
الأدلة :
(১) وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَلِكَ إِنْ أَرَادُوا إِصْلاحًا …… الطَّلاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ. سورة البقرة : ২২৮-২২৯
* يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ لا تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلا يَخْرُجْنَ إِلا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ لا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْرًا. سورة الطلاق : ১
(২) المصنف لابن أبي شيبة ، رقم الحديث : ১৯২৩
(৩) تفسير ابن كثير : ১/৩৯৫ (৪) الهداية مع الفتح، باب الرجع : ৪/১৪
(৫) كنز الدقائق مع البحر، باب الرجع : ৪/৫০
আল জাওহারাতুন নায়্যিরাহ পৃ: ২/১৫৮, ফাতাওয়া হিন্দিয়া পৃ: ১/৪৬৮-৪৭০, ১/৩৭৮, ফাতাওয়া শামী পৃ: ২/৪৪২, ফাতহুল কাদীর পৃ: ৩/৪০৩।
রাগান্বিত ব্যক্তির তালাক প্রসঙ্গে
প্রশ্ন : আমি মিযানুর রহমান, আমি আমার স্ত্রী শামসুন্নাহার এর সাথে মালয়েশিয়া থেকে ফোনে আলাপকালে, কথাবার্তার এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং উভয়ে একে অপরকে গালাগাল করি। এক পর্যায়ে আমি রাগের বশবর্তী হয়ে- এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক তুই যা- বলে ফেলি।
অতএব উপরোক্ত কথা বার্তার ফলে আমার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হল কিনা? হলে কোন ধরনের তালাক পতিত হয়েছে এবং এখন আমাদের করণীয় কি? শরয়ী সমাধানে বাধিত করবেন। 
উত্তর : প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হয়ে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় তাকে নিয়ে ঘর-সংসার করা বৈধ হবে না।
তবে যদি সে তালাক প্রাপ্তা হওয়ার পর তার উদ্দত তথা ঋতুবতী হলে তিনটি মাসিক ঋতুস্রাব অতিবাহিত হওয়া, গর্ভবতী হলে গর্ভ খালাস হওয়া, অন্যথায় তিনমাস অতিবাহিত হওয়ার পর যদি সহবাসে সক্ষম অন্য কোনো মুসলিম পুরুষের সাথে সহীহ তরীকায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং সেই স্বামীর সাথে সহবাসও হয়, তারপর দ্বিতীয় স্বামী তাকে তালাক দেয় বা মারা যায়, তাহলে দ্বিতীয় স্বামীর তালাক বা মারা যাওয়ার ইদ্দত পালন করার পর তাকে আপনি বিবাহ করতে পারবেন; এর পূর্বে নয়। 
الأدلة :
(১) القرآن الكريم : الطَّلاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ……. فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ. سورة البقرة : ২২৯-২৩০
* وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلاثَةَ قُرُوءٍ. سورة البقرة : ২২৮
(২) الأحاديث الشريفة : عن عائشة : أن رجلا طلق امرأته ثلاثا فتزوجت فطلق فسئل النبي صلى الله عليه وسلم أتحل للأول؟ قال (لا حتى يذوق عسيلتها كما ذاق الاول). صحيح البخاري : ৫২৬১، صحيح مسلم : ১৪৩৩
* عن عائشة أن النبي صلى الله علي وسلم قال العسيلة هي الجماع، مسند احمد : ২৪৩৭৬
(৩) سنن أبي داود : ২২৫২ (৪) عمدة القاري ৪/২৩৬
(৫) كتاب الأصل، باب الطلاق لغير البينة : ৪/৪৬৬
ফাতাওয়া হিন্দিয়া পৃ: ১/৪৭৩, খোলাসাতুল ফাতাওয়া পৃ: ২/৭৪, ফাতাওয়া কাযীখান পৃ: ১/৪৫৪, ফাতাওয়া বায্যাযিয়া পৃ: ৪/১৮০, আল হিদায়া পৃ: ২/৩৯৯, রদ্দুল মুহতার   পৃ: ৪/৪৪৪, আপকে মাসায়িল আওর উনকা হল পৃ: ৬/৬৩৭, ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ পৃ: ৯/৩১০, ফাতাওয়া মাহমুুদিয়া পৃ: ১৮/৩২৮, ফাতাওয়া উসমানী পৃ: ২/৪২৮, ইমদাদুল ফাতাওয়া পৃ: ২/৫৭১, ফাতাওয়া রহিমিয়া পৃ: ৬/৩২২, কিতাবুল ফাতাওয়া পৃ: ৫/১০৩।
তালাক পতিত হওয়ার জন্য স্ত্রী নিজ কানে তালাক শব্দ শোনা জরুরী নয়।
প্রশ্ন : আমি আহমাদুল্লাহ, ২০০৯ইং সালে মোছা: খালেদাকে বিবাহ করি। বিবাহের এক বছর পর ২০১০ইং সালে সে আমার অনুমতি ছাড়া তার বাপের বাড়ি থেকে বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যায়। এতে আমি মনে কষ্ট পেয়ে তার বান্ধবীর নাম্বারে ফোন দিয়ে তার সাথে কথা বলি। এক পর্যায়ে তাকে আমি এক তালাক দেই। কিন্তু তালাক শব্দ উচ্চারণ করার পূর্বেই স্ত্রী তার বান্ধবীর কাছে মোবাইল দিয়ে দেয়। এ ঘটনার সময় সে তিন মাসের গর্ভবতী ছিল। এর কয়েক মাস পর গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন আমাদের মাঝে সমঝোতা হয় এবং তার পিতা তাকে আমাদের বাড়িতে দিয়ে যায়। এরপর ২০১৫ ইং সালে একবার আমার ছেলে খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন সে আমার ছেলেকে অসুস্থ রেখেই বাপের বাড়িতে চলে যায় এবং ১মাস পর্যন্ত কোনো যোগাযোগ করেনি। একমাস পর সে ফোন দিলে তাকে আমি বকাঝকা করি এবং বলি “আমাকে ও আমার সন্তানকে যখন তোর দরকার নেই তাহলে একেবারে ক্লোজ করে দে, সমাপ্ত করে দে, তোর বাপকে বলিস লোকজন নিয়ে আসতে সব একেবারে দিয়ে দিব। আগে এক তালাক দিয়েছিলাম এখন দুই তালাক দিলাম। (দুই তালাকের দ্বারা দ্বিতীয় তালাক উদ্দেশ্য ছিল) একথা বলেছি ঠিকই কিন্তু তালাক শব্দ উচ্চারণ করার পূর্বেই সে মোবাইল কেটে দেয়। এঘটনার আটমাস পরে একজন মুফতী সাহেবের ফতোয়া অনুযায়ী আমি তাকে পুনরায় বিয়ে করে আনি এবং এযাবত সংসার করতে থাকি। এরপর এ বছর ২০১৮ইং সালে ঈদুল ফিতরের সময় তার ছোট বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে আমি যেতে তাকে নিষেধ করি। কিন্তু সে এক পর্যায়ে তার ভগ্নিপতির সাথে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে রাস্তায় বের হয়ে পড়ে আমি তার সাথে রাস্তায় দেখা করে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে আমি তাকে বললাম- “তুই যখন যাবিই তাহলে একেবারেই চলে যা, আগে তোকে দুই তালাক দিয়েছিলাম এখন তিন” তিন শব্দ বলার সাথে সাথে তার ভগ্নিপতি আমার মুখ চেপে ধরে এবং আমি তালাক শব্দ উচ্চারণ করতে পারিনি।
এখন হুযুরের কাছে জানার বিষয় হলো, উপরোক্ত বিবরণ অনুযায়ী আমাদের বিবাহে কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা এবং আমরা একত্রে ঘর-সংসার করতে পারব কিনা? 
উত্তর : প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হয়ে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় তাকে নিয়ে ঘর-সংসার করা বৈধ হবে না। তবে যদি সে তালাক প্রাপ্তা হওয়ার পর তার ইদ্দত তথা ঋতুবতী হলে তিনটি মাসিক ঋতুস্রাব অতিবাহিত হওয়া, গর্ভবতী হলে গর্ভ খালাস হওয়া, অন্যথায় তিনমাস অতিবাহিত হওয়ার পর যদি সহবাসে সক্ষম অন্যকোন মুসলিম পুরুষের সাথে সহীহ তরিকায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং সেই স্বামীর সাথে সহবাসও হয়, তারপর দ্বিতীয় স্বামী তাকে তালাক দেয় বা মারা যায়, তাহলে দ্বিতীয় স্বামীর তালাক বা মারা যাওয়ার ইদ্দত পালন করার পরে তাকে আপনি বিবাহ করতে পারবেন। এর পূর্বে নয়।
ألأدلة :
(১) القرآن الكريم : الطَّلاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ …… فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ. سورة البقرة : ২২৯-২৩০
* وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلاثَةَ قُرُوءٍ. سورة البقرة : ২২৮
(২) عن عائشة : أن رجلا طلق امرأته ثلاثا فتزوجت فطلق فسئل النبي صلى الله عليه وسلم أتحل للأول؟ قال (لا حتى يذوق عسيلتها كما ذاق الاول). صحيح البخاري : ৫২৬১، صحيح مسلم : ১৪৩৩
* عن عائشة أن النبي صلى الله علي وسلم قال العسيلة هي الجماع، مسند احمد : ২৪৩৭৬
(৩) المصنف لعبد الرزاق الصنعاني، رقم الحديث : ১১২১৫
(৪) الفتاوى الهندية : ১/৪৭৩ (৫) البحر الرائق : ৩/৩০২
আদ দুররুল মুখতার পৃ: ৪/৫১৬, আহসানুল ফাতাওয়া পৃ: ৫/১৪৯, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া পৃ: ১৮/৩৮৬, আপকে মাসায়িল আওর উনকা হল পৃ: ৬/৪৫৯, ফাতাওয়া উসমানী পৃ: ২/৩৬৮, আদ দুররুল মুখতার পৃ: ৪/৫১৭, আন নাহরুল ফায়িক পৃ: ২/৩৬০, তাবয়ীনুল হাকায়িক পৃ: ৩/৭৮, কানযুদ দাকায়েক্ব পৃ: ১২১, আহসানুল ফাতাওয়া পৃ: ৫/২০২, আপকে মাসায়িল আওর উনকা হল পৃ: ৬/৪৬৪, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া পৃ: ১২/৪১৮।
তালাককে শর্তযুক্ত করলে কী ধরণের তালাক হবে?
প্রশ্ন : কোন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোন বিষয়ে মনোমালিন্য ও কথা কাটাকাটি হয়, এক পর্যায়ে স্বামী তার স্ত্রীকে বলে, তুমি যদি সাত দিনের মধ্যে তোমার মায়ের থেকে জমি আনতে না পার, তাহলে তুমি তালাক। এমতাবস্থায় মায়ের জন্য মেয়েকে জমি দেওয়া কিরূপ? এবং সাত দিনের মধ্যে জমি না আনতে পারলে তখন কি হুকুম?
উত্তর : প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় মায়ের পক্ষ থেকে মেয়েকে সম্পদ দেওয়ার দ্বারা যদি অন্যান্য ওয়ারিশরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাহলে জায়েয। অন্যথায় তা নাজায়েয হবে। আর সাত দিনের মধ্যে জমি না আনতে পারলে স্ত্রীর উপর এক তালাকে রজয়ী পতিত হবে।
الأدلة :
(১) فتاوى قاضيخان للإمام فخر الدين حسن بن منصور الأوز جندي المتوفى سنة : ২৯৫هـ، في باب الهبة : ৩/২৭৯، (دار الكتب ديوبند) رجل له ابن وابنة اراد أن يهب لهما شيئا ويفضل أحمدهما على الأخر في الهبة اجمعوا على أنه لا بأس بتفضيل بعض الأولاد على البعض في المحبة لأن المحبة عمل القلب وذلك غير مقدور. ولو وهب رجل شيئا لأولاده في الصحة وأراد تفضيل البعض في ذلك على البعض لا رواية لهذا في الأصل عن أصحابنا روي عن أبي حنيفة لا بأس به إذا كان النفضيل لزيادة فضل له في الدين فان كانا سواء يكره وروي المعلى عن أبي يوسف أنه لا بأس به إ১ذا لم يقصد به الإضرار وإن قصد به الإضرار سوى بينهم يعطى للابنة مثل ما يعطى للابن وقال محمد يعطى للذكر ضعف ما يعطى للانثى والفتوى على قول أبي يوسف.
(২) الفتاوى البزازية : ৬/২৩৭ (৩) عمدة القاري : ৯/৪০৬
(৪) الهداية، باب الأيمان في الطلاق : ২/৩৮৫
(৫) الدر المختار، في كتاب الهبة : ৮/৫৮৩
ফাতাওয়া হিন্দিয়া পৃ: ১/৪২০, আদ দুররুল মুখতার পৃ: ৮/৫৮৩, তাকমীলাতু ফাতহিল মুলহিম পৃ: ২/৪৫, ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ পৃ: ১৫/২১৫, ফাতাওয়া হক্কানিয়া পৃ: ৬/৩৮৩, ফাতাওয়া দারুল উলুম পৃ: ১১/৯১, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া পৃ: ১৯/১৫৮।
স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ প্রদান
প্রশ্ন : আমি হলফনামার মাধ্যমে স্ত্রীকে তালাক দেই, যার বিবরণ নিম্নরূপ: আমি মো: ইব্রাহিম, পিতা- মো: রাফিজ উদ্দিন, সাং ও পো: একদুয়ারীয়া, থানা- মনোহরদী, জেলা- নরসিংদী, জন্ম ১৮/০৩/১৯৮০, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- কৃষি, জাতীয়তা- বাংলাদেশী।
আমি এই মর্মে প্রতিজ্ঞা পূর্বক ঘোষণা করিতেছি যে,
১। আমি একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ লোক হইতেছি এবং নিজের ভবিস্যৎ সম্পর্কে সম্যক অবগত আছি।
২। আমি বিগত ২৭/১০/২০০৬ ইং তারিখে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানাধীন কামারটেক গ্রামের মৃত ফটিক ভূঞার মেয়ে মোসা: মুর্শিদা আক্তার এর সহিত মুসলিম শরাশরিয়তের বিধান মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। বিবাহের পর আমি তাহার চরিত্রে কতক দোষতত্রæটি দেখিতে পাই, যথা : পরপুরুষের প্রতি আসক্ত হওয়া, পিত্রালয়ে অবস্থান করা, স্বামীর অবাধ্য হওয়া, স্বামীর অনুমতি ব্যতীত বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করা সর্বোপরি ঝগড়াঝাটি করা ইত্যাদি।
৩। আমি উক্ত মুর্শিদা আক্তার এর এই সমস্ত চারিত্রিক দোষত্রæটিগুলো সংশোধন করার জন্য বহু চেষ্টা তদবীর করিয়া ব্যর্থ হইয়াছি বিধায় আমার ভবিষ্যৎ জীবনের কথা চিন্তা করিয়া অদ্য ২০/০৩/২০২১ইং তারিখে স্থানীয় একজন মাওলানার মাধ্যমে মুসলিম শরাশরিয়তের বিধানমতে এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক ও তালাকে বায়েন প্রদান করিয়াছি।
৪। অদ্য হইতে সে আমার বৈধ স্ত্রী নয় এবং আমিও তার বৈধ স্বামী নয়।
৫। উপরোক্ত সিদ্ধান্ত সমূহ আমি স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে অন্যের বিনা প্ররোচনায় স্ব-ইচ্ছায় গ্রহণ করিয়াছি।
অত্র হলফনামার যাবতীয় বিবরণ সমূহ আমার জ্ঞান ও বিশ্বাস মতে সত্য জানিয়া অদ্য ২১/০৩/২০২১ইং তারিখে মাননীয় নোটারী পাবলিক, নরসিংদী এর সম্মুখে হাজির হইয়া অত্র হলফনামায় নিজ নাম স্বাক্ষর করিলাম।
এখন আমি উক্ত স্ত্রীকে নিয়ে দ্বিতীয়বার সংসার করতে চাই। তাই এখন আপনার কাছে শরীয়ত বিষয়ে জানতে চাই।
উত্তর : হলফ নামার বিবরণ অনুযায়ী আপনার স্ত্রী মুর্শিদা আক্তারের উপর তিন তালাক পতিত হয়ে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে এবং এই স্ত্রী আপনার জন্য হারাম হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় তাকে নিয়ে ঘর-সংসার করা কোনোক্রমেই জায়েয হবে না।
তবে যদি মুর্শিদা আক্তার আপনার থেকে তালাক প্রাপ্তা হওয়ার পর পূর্ণ তিনটি মাসিক ঋতুস্রাব অতিবাহিত করার মাধ্যমে ইদ্দত পালন করে, অতঃপর সহবাসে সক্ষম অন্য কোনো মুসলিম পুরুষের সাথে সহীহ তরীকায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং সেই স্বামীর সাথে সহবাসও হয়। তারপর দ্বিতীয় স্বামী তাকে তালাক দেয় বা মারা যায়। তাহলে দ্বিতীয় স্বামীর তালাক বা মৃত্যুর ইদ্দত পালন করার পর আপনি তাকে বিবাহ করতে পারবেন। এর পূর্বে নয়।
الأدلۃ : 
(১) : الطَّلاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ …… فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ. سورة البقرة : ২২৯-২৩০
* أن عائشة أخبرته : أن امرأة رفاعة القرظي جاءت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت : يا رسول الله : إن رفاعة طلقني فبت طلاقي، وان نكحت بعده عبد الرحمن بن الزبير القرظي وإنما معه مثل الهدبة، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : “لعلك تريدين أن ترجعي إلى رفاعة، لا، حتى يذوق عسيلتك وتذوقي عسيلته” صحيح البخاري : رقم الحديث : ৫২৬০
* عن نافع قال : كان إبن عمر اذا سئل عمن طلق ثلاثا، قال : لو طلقت مرة أو مرتين فإن النبي صلى الله عليه وسلم أمرني بهذا، فإن طلقها ثلاثا حرمت عليك حتى تنكح زوجا غيره. صحيح البخاري، رقم الحديث : ৫২৬৪
(২) صحيح المسلم، كتاب الطلاق، رقم الحديث : ১৪৮০
(৩) المجتبى سنن النسائي، رقم الحديث : ৩৪১২
(৪) المصنف لابن أبي شيبة : ৯/৪১৯
(৫) الجامع لأحكام القرآن (تفسير القرطبي) ২/১২৮-১২৯
তাফসীরে আয়াতিল আহকাম মিনাল কুরআন পৃ: ১/২৪০, তাফসীরে জালালাইন পৃ: ৩৫, ফাতহুল বারী পৃ: ৯/৪২৬-৪২৮, উমদাতুল কারী পৃ: ১৪/২৪৫, তুহফাতুল আহওয়াযী পৃ: ৩/৫৮৪, কিতাবুল আসল পৃ: ৪/৩৯২, ফাতহুল কাদীর পৃ: ৩/৩৩০, রদ্দুল মুহতার   পৃ: ৩/২৪৮, আল হিদায়া পৃ: ২/৩৫৫, ফাতাওয়া রশিদিয়া পৃ: ৪৭৬, ফাতাওয়া রহিমিয়া পৃ: ৮/২৬০, আপকে মাসায়িল আওর উনকা হল পৃ: ৬/৪৬৭, কিতাবুন নাওয়াযিল পৃ: , ইমদাদুল ফাতাওয়া পৃ: , তাফসীরে আবিস সওদ পৃ: ১/৩৪১, তাফসীরে রুহুল মাআনী পৃ: ২/৭৩৮, আদ দুররুল মানছুর পৃ: ১/৫০৪, আহকামুল কুরআন পৃ: ১/৫২৭, মাআরিফুল কুরআন পৃ: ১/৫৫৮, ফয়জুল বারী পৃ: ৪/৩১৩, আল মওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়েতিয়্যাহ পৃ: ২৯/৫৩, খোলাসাতুল ফাতাওয়া পৃ: ২/৭৪, আহসানুল ফাতাওয়া পৃ: ৫/১৪৮, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া পৃ: ১৮/৩০৬, খাইরুল ফাতাওয়া পৃ: ৫/১১২, কিফায়াতুল মুফতী পৃ: ৬/৫৩, ফাতাওয়া উসমানী পৃ: ২/৩১৬-৩১৭, ইমদাদুল আহকাম পৃ: ২/৪৮৭।
                             
তালাকে রজয়ী বা স্পষ্ট তালাকের পর বায়েন তালাক প্রদানের বিধান
     প্রশ্ন: আমার স্ত্রীর পিতার নাম মো: দুলাল মিয়া, আমি রাগান্নিত হয়ে মোবাইলের মাধ্যমে আমার স্ত্রীকে ‘এক তালাক, দুই তালাক, দুলার জীকে বাইন তালাক দিলাম।” বলে ফেলি। 
     এ অবস্থায় আমাদের বিবাহের হুকুম কি? সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।
   উত্তর : প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হয়ে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরুপে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় তাকে নিয়ে ঘর-সংসার করা বৈধ হবে না। 
       তবে যদি সে তালাক প্রাপ্তা হওয়ার পর তার ইদ্দত যথা ঋতুবতি হলে তিনটি মাসিক ঋতুস্রাব অতিবাহিত হওয়া, গর্ভবতী হলে গর্ভ খালাস হওয়া, অন্যথায় তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পর যদি সহবাসে সক্ষম অন্য কোন মুসলিম পুরুষের সাথে সহীহ তরীকায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং সেই স্বামীর সাথে সহবাসও হয়, তারপর দ্বিতীয় স্বামী তাকে তালাক দেয় বা মারা যায় তাহলে দ্বিতীয় স্বামীর তালাক বা মারা যাওয়ার ইদ্দত পালন করার পর তাকে আপনি বিবাহ করতে পারবেন। অন্যথায় নয়।
الأدلة :
(১) الطلاق مرتان فإمساك بمعروف أو تسريح بإحسان فإن طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره. سورة البقرة ১২৯-১৩০ والمطلقات يتربصن بأنفسهن ثلاثة قروء. سورة البقرة ২২৮
(২) عن عائشة أن رجلا طلق إمرأته ثلاثا فتزوجت فطلق فسئل النبي صلى الله عليه وسلم أتحل للأول قال لا حتى يزوق عسيلتها كما ذاق الأول. صحيح البخاري ৫২৬১، مسلم ১৪৩৩
(৩) كتاب الاصل للإمام محمد بن الشيباني ৪/৪৬১
 
 
তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য স্ত্রীর নাম উল্লেখ করা আবশ্যক নয়।
     প্রশ্ন: গত ঈদুর ফিতরের পরের দিন লাকরি নিয়ে আমার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমার স্ত্রী আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করলে আমি রাগে তাকে “তালাক, তালাক, তালাক” তিনবার বলে ফেলি। কিন্তু একথা বলার সময় আমি আমার স্ত্রীর নাম উচ্চারণ করিনি এবং এক দুই তিন সংখ্যাও বলিনি।
       অতএব হুজুর সমীপে আকুল আবেদন এই যে, উল্লেখিত অবস্থায় শরীয়তের  বিধান মতে আমার ও আমার স্ত্রীর মাধ্যকার বৈবাহিক সম্পর্কে কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা এবং আমি আমার স্ত্রীর সাথে ঘর-সংসার করতে পারব কিনা? দলীলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।
     উত্তর: প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী তিনবার তালাক বলার কারণে আপনার স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হয়ে আপনাদের মধ্যকার বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে এবং এই স্ত্রী আপনার জন্য হারাম হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় তাকে নিয়ে ঘর-সংসার করা জায়েয হবে না।
     তবে যদি সে আপনার থেকে তালাক প্রাপ্ত হওয়ার পর ইদ্দত পূর্ণ করে, অতপর সহবাসে সক্ষম অন্য কোন মুসলিম পুরুষের সাথে সহীহ তরীকায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং সেই স্বামীর সাথে সহবাসও হয়, তারপর সেই স্বামী তাকে তালাক দেয় বা মারা যায়, তাহলে দ্বিতীয় স্বামীর তালাক বা মৃত্যুর ইদ্দত পালন করার পর আপনি তাকে বিবাহ করতে পারবেন। এর পূর্বে নয়।
الأدلة :
(১) الطلاق مرتان فإمساك بمعروف أو تسريح بإحسان فإن طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره. سورة البقرة ১২৯-১৩০ والمطلقات يتربصن بأنفسهن ثلاثة قروء. سورة البقرة ২২৮
(২) عن عائشة أن رجلا طلق إمرأته ثلاثا فتزوجت فطلق فسئل النبي صلى الله عليه وسلم أتحل للأول قال لا حتى يزوق عسيلتها كما ذاق الأول. صحيح البخاري ৫২৬১، مسلم ১৪৩৩
(৩) كتاب الاصل للإمام محمد بن الشيباني ৪/৪৬৬
(৪) فتح القدير، المكتبة الحقانية ৩/৩৩০
(৫) الهداية للمرغيناني مع الفتح، المكتبة الحقانية : ৩/৩২৯
    দুই তালাক দিয়ে তিন তালাক দেয়ার দাবি করলে কয় তালাক হবে?
 প্রশ্ন : এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ঘরের ভিতর থেকে দুই তালাক দিল, পরে বাহিরে এসে বলে তিন তালাক দিয়ে আসলাম এখন তার হুকুম কি?  
     উত্তর : প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির যদি বাহিরে এসে তিন তালাকের মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেওয়া উদ্দেশ্য হয় এবং ব্যাপারটি তার পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে, ইসলামী আদালত বা সালিমী ব্যাবস্থা পর্যন্ত না পৌঁছে, তাহলে দুই তালাক পতিত  হবে। অন্যথায় তিন তালাক পতিত হবে। যদি তার বাহিরে আসে তিন তালাকের কথা বলা হাসি কৌতুকের জন্য হয় বা এমনিতেই হয় কিংবা ভয় দেখানোর জন্য হয়, তাহলেও তার স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হবে।
الأدلة :
(১) عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : ثلاث جدهن جد وهزلهن جد النكاح والطلاق والرجعة  سنن أبي داود، رقم الحديث : ২১৯৪
(২) بذل المجهود في حل سنن ابي داود ৮/১৮১
(৩) المحيط البرهاني ৪/৪১৬
(৪) الفتاوى  التاتارخانية ৪/৪০১
(৫) فتح القدير ৩/৩৪৪
নিজ কন্যাকে কামভাব নিয়ে উত্তেজনার সাথে আবরণ ছাড়া স্পর্শ করলে স্ত্রী(উক্ত কন্যার মা) এবং ওই কন্যার উর্ধ্বতন ও অধস্তন মহিলাগন চিরতরে হারাম হয়ে যায়।
     প্রশ্ন: আমার মা যখন দেশে চলে যায়, তখনকার ঘটনা। তখন আমি আর আমার আব্বা এক সাথে ঘুমাই। আমি যখন ঘুমিয়ে যেতাম তখন বাবা আমাকে জড়িয়ে চেপে ধরত। আমি সরে যেতাম। এক রকম প্রতিদিন রাতে এরকম হতো। এভাবে ৫-৬দিন। যখন আমার মা দেশ থেকে চলে আসলো, তখনের ঘটনা একদিন রাতে ঘুমাই পাশে আমার ভাই। আমার ভাইয়ের গায়ের ওপর হাত দিয়ে আমার আব্বা আমার বুকে হাত দিয়ে চেপে ধরে। তারপর একদিন আমি নিচে ঘুমাই। রাতের ২টা বাজে আব্বা খাট থেকে নিচে নেমে এসে আমাকে চেপে ধরে। আমি তখন চিৎকার দেয়। এমনিতে তিনি আমার পায়জামা খুলেন নাই। কিন্তু বুকে হাত দিছেন। কখনো আমার আব্বা আমাদেরকে খারাপ নজরে দেখে নাই। শয়তানের ধোকায় পড়ে একাজ গুলো করে ফেলেছে। আমার আব্বাকে আপনারা কুরআন-হাদিস দিয়ে বুঝিয়ে দেন। আমরা তিনজন ভাই-বোন, কোথায় যাব কি করবো? আমরা আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছি! দয়া করে বিষয়টির সঠিক সমাধান দান করে আমাদের তিন ভাই-বোনের প্রতি দয়া করুন।
   উত্তর : যদি কোনো পুরুষ বয়োপ্রাপ্ত বা বয়োসন্ধির নিকটবর্তী কোনো মেয়ের শরীরে তার প্রতি কামভাব নিয়ে কোনো মোটা বস্তুর আবরণ ছাড়া স্পর্শ করে, তাহলে ঐ মেয়ের উর্ধ্বতন ও অধস্তন মহিলারা এ পুরুষের জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায়।
    অতএব প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী যদি মো: আজাদ তার মেয়ে আখির শরীরের কোনো অংশে তার প্রতি কামভাব নিয়ে স্পর্শ করে এবং তা তার স্বীকারোক্তি বা স্বাক্ষীর মাধ্যমে প্রমানিত হয়, তাহলে মো: আজাদের জন্যে তার স্ত্রী (আখির মা) নাছিমা বেগম চিরতরে হারাম হয়ে গেছে। সে আর কখনোই তার এ স্ত্রীর সাথে সহবাসে মিলিত হতে পারবে না। একে শরিয়তের  পরিভাষায় হুরমাতে মুসাহারাব বলে।
তবে শুধু স্ত্রী হারাম হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের বিবাহ বাতিল হয়নি। অতএব বিবাহ বিচ্ছেদ ও তারপর ইদ্দত পালন ব্যতীত স্ত্রী অন্য কোথাও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না।
হুরমাতে মুসাহারাহ প্রমাণিত হওয়ার পর যদি আদালত তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের রায় দেয় বা স্বামী তার এ স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয় অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্য থেকে যেকোনো একজন মৌখিকভাবে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলে। (যেমন একথা বলল যে, আমি তোমার থেকে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করলাম) তাহলে তখন তাদের বিবাহ বাতিল হবে। এবং উলেখিত তিন প্রক্রিয়ার যেকোনো এক প্রক্রিয়ায় বিবাহ বাতিলের পর মহিলা তার ইদ্দত পালন শেষে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। এর পূর্বে নয়। (ইদ্দত হল, মহিলা গর্ভবতী হলে গর্ভ খালাস হওয়্যা। আর গর্ভবতী না হলে তিনটি মাসিক ঋতুস্রাব অতিক্রান্ত হওয়া। বার্ধকের কারণে ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে তিন মাস অতিবাহিত হওয়া।)
আর যদি বিবাহ বিচ্ছেদ না করে তারা এমনভাবে থাকতে চায় যে, তারা কখনো সহবাসে মিলিত না হয়ে পৃথক ঘরে থাকবে এবং স্বামী তার স্ত্রীর ভরণ-পোষণ বহন করবে। তাহলে ছেলে-মেয়ে ও সংসার রক্ষার স্বার্থে এর সুযোগ রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো, কখনো তারা পরস্পরে সহবাসে মিলিত হওয়া অথবা কোনো প্রকার ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আশংকা না থাকতে হবে। অন্যথয় বিবাহ বিচ্ছেদ করাই বাঞ্চনীয়।
বি.দ্র. বিবাহ বিচ্ছেদ করুক বা না করুক উভয় অবস্থায় স্ত্রী-স্বামীর কাছে তার পূর্ণ মহর পাবে এবং সন্তানের ভরণ-পোষণ সর্বাবস্থায় তাদের পিতার দায়িত্বে থাকবে। 
الأدلة :
(১) المصنف للإمام أبي بكر بن أي شيبة التوفى سنة ২৩৫هـ جلد ولصفحة : ৪/৯৬-৯৮
* حدثنا جرير بن عبد الحميد عن حجاج عن أبي هاني قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : من نظر إلى فرج امرأة لم تحل له أمها ولا ابنتها.
* حدثنا جرير عن مغيرة عن إبراهيم وعامر في رجل وقع على ابنه امرأته قالا : حرمتا عليه كلاهما، وقال إبراهيم : وكانوا يقولون : إذا اطلع الرجل على المرأة على مالا تحل له أو لمسها لشهوة فقد حرمتا عليه جميعا.
* حدثنا شريك عن عبد الكريم عن عطاء، قال قال : اذا أتى الرجل المرأة حراما حرمت عليه ابنتها وإن أتى ابنتها حرمت عليه أمها.
* حدثنا وكيع عن عبد الله بن مسيح قال : سألت إبراهيم عن رجل فجر بأمة فأراد أن يتزوج أمها قال : لا يتزوجها.
* حدثنا حفص عن سعيد عن أبي معشر عن إبراهيم قال : إذا غمز الرجل الجارية بشهوة لم يتزوج أمها ولا ابنتها.
(২) الأصل : ১০/১৮৩-১৮৪ (৩) المحيط البرهاني : ৪/৮৮-৯১
(৪) خلاصة الفتاوى : ২/৯  (৫) فتاوى قاضيخان ১/৩৬১ 

সোশ্যাল মিডিয়া

Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

সংবাদ