মাতৃভাষায় জুমআ‘র খুৎবা কি সুন্নাহ্ সম্মত?

মাতৃভাষায় জুমআ‘র খুৎবা
কি
সুন্নাহ্ সম্মত?

 

প্রকাশনায়
মারকাযুল উলূমিদ্ দ্বীনিয়্যাহ্, নরসিংদী, বাংলাদেশ।
পটভূমি
জুমআ‘র নামাযের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আরবী ভাষায় খুৎবা পাঠ করা। তবে বর্তমানে কিছু এলাকায় এ প্রথা চালু হয়েছে যে, তারা নিজস্ব ভাষায় খুৎবা পাঠ করে থাকেন। স¤প্রতি আমাদের দেশে বাংলা ভাষায় জুমআ‘র খুৎবা প্রদানের বিষয়টি দিন দিন ব্যাপকতা লাভ করছে। যেন মাতৃভাষায় খুৎবা দেয়াটাই সুন্নাহ সম্মত। আর আরবী ভাষায় খুৎবা পাঠ একটি নিছক বৈধ কাজ। যে কারণে সা¤প্রতিক সময়ে অনেকেই মনে করেন জুমআ‘র খুৎবা মাতৃভাষায়ই পাঠ করা উচিৎ। অথচ জুমআ‘ এবং দুই ঈদের খুৎবা আরবী ভাষায় হওয়া সুন্নাত। আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় খুৎবা দেওয়া বিদআ‘ত।
দীর্ঘদিন থেকেই আমাদের কাছে অনেকে অনেকভাবে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে বিষয়টির সমাধান সম্পর্কে কিছু উলামায়ে কেরাম মারকাযের দারুল ইফতায় জোর আবেদন জানান। তখন আমরা জুমআ‘র খুৎবার এ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখি এবং সাধারণ মুসলমানের দ্বীনী উপকার, কোরআন সুন্নাহর সহীহ ব্যাখ্যা প্রদানের লক্ষে এ সম্পর্কে আমাদের দারুল ইফতা থেকে প্রবন্ধ লেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। ফলে মারকাযের সম্মানিত পরিচালক মুফতী আবুল খায়ের সাহেব দা:বা: এর পরামর্শে ও তত্ত¡াবধানে দারুল ইফতার তালিবুল ইলমগণ কিছু তথ্য উপাত্ত একত্র করতে শুরু করে। বক্ষমাণ প্রবন্ধটি মূলত: সেই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টারই বহি:প্রকাশ। আল্লাহ তায়ালা আমাদের এ খেদমতটুকু এবং অত্র মারকাযের যাবতীয় দ্বীনী কাজগুলো কবুল করুন, আমীন।
এটি একটি মনগড়া দাবী
যারা আরবী ব্যতীত মাতৃভাষায় খুৎবা দেওয়া জায়েয মনে করেন, তাদের অন্যতম দলিল হলো, তাদের ধারণা, ‘খুৎবা’ হলো ওয়াজ নসিহত বা বয়ান, অতএব তা এমন ভাষায় হওয়া উচিত যেন শ্রোতারা তা বুঝতে পারে। অন্যথায় শ্রোতারা যদি নাই বুঝে, তাহলে তো খুৎবা পড়ার দ্বারা কোন ফায়দা হচ্ছে না?
নিচে আমরা তাদের মনগড়া আপত্তির অসারতাগুলো তুলে ধরা হলো:
জবাব- ১
খুৎবা এটি নিছক ওয়াজ-নসিহত, বা বক্তৃতা-ভাষণ নয়। বরং কুরআন-হাদীসে খুৎবাকে যিকির বা বিশেষ ধরণের ইবাদত বলা হয়েছে, যা জুমআ‘র নামাযের পূর্বেই আদায় করতে হয়। আরো লক্ষণীয় হচ্ছে, খুৎবা দুটি দিতে হয়। এতে কম-বেশি করা যায় না। সাথে সাথে খুৎবা দাঁড়িয়ে দিতে হয় এবং খুৎবা পাঠকারী পুরুষ হতে হয়, ইত্যাদি।
(ক) কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَّوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! জুমআ‘র দিনে যখন সালাতের জন্য ডাকা হয়, তখন তোমরা আল্লাহ্‌র স্মরণে ধাবিত হও এবং কেনা-বেচা ত্যাগ কর, এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে। (সূরা জুমআ‘- ৯)
এই আয়াতের মধ্যে “যিকরুল্লাহ” দ্বারা প্রায় সকল মুফাসসিরিনদের মতেই খুৎবাই উদ্দেশ্য।
🕮 তাফসীরে রাযি ১/৪৪৬, 🕮 তাফসীরে রুহুল মাআনী ২৮/১০২, 🕮 তাফসীরে ইবনে আব্বাস
(খ) হাদীস শরীফেও খুৎবাকে যিকির হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَأَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّانِيَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَقَرَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّالِثَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ كَبْشًا أَقْرَنَ وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الرَّابِعَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ دَجَاجَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الْخَامِسَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَيْضَةً فَإِذَا خَرَجَ الْإِمَامُ حَضَرَتْ الْمَلَائِكَةُ يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ.
অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরাহ্ রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআ‘র দিন জানাবাত গোসল (তথা ফরজ গোসলের) ন্যায় গোসল করে এবং সবার আগে জুমআর সালাতের জন্য আগমন করে সে যেন একটি উট কুরবানী করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে, সে যেন একটি গাভী কুরবানী করল। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করল। চতুর্থ পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি মুরগী সদকা করল। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি ডিম সদকা করার নেকী পেল। পরে ইমাম যখন খুৎবা দেয়ার জন্য বের হন তখন ফেরেশতাগণ উপস্থিত হন এবং যিকির তথা খুৎবা শুনতে থাকেন।
🕮 সহীহ্ বুখারী; ৮৮১, 🕮 সহীহ্ মুসলিম; ৮৫০।
অপর এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم‏ “‏إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ، وَقَفَتِ الْمَلاَئِكَةُ عَلَى باب الْمَسْجِدِ يَكْتُبُونَ الأَوَّلَ فَالأَوَّلَ، وَمَثَلُ الْمُهَجِّرِ كَمَثَلِ الَّذِي يُهْدِي بَدَنَةً، ثُمَّ كَالَّذِي يُهْدِي بَقَرَةً، ثُمَّ كَبْشًا، ثُمَّ دَجَاجَةً، ثُمَّ بَيْضَةً، فَإِذَا خَرَجَ الإِمَامُ طَوَوْا صُحُفَهُمْ، وَيَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ ‏”‏‏.‏
অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরাহ্ রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুমআ‘র দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতাগণ অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে পূর্বে আগমণকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার পূর্বে আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি মোটাতাজা উট কুরবানী করে। তারপর যে আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি গাভী কুরবানী করে।
অতঃপর আগমনকারী মেষ কুরবানী করার ন্যায়। পরের আগমনকারী ব্যক্তি মুরগী সদকাকারীর ন্যায়। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি একটি ডিম দানকারীর ন্যায়। এবং ইমাম যখন খুৎবার জন্য বের হন তখন ফেরেশতাগণ তাদের খাতা বন্ধ করে মনোযোগ সহকারে খুৎবা শ্রবণ করতে থাকে।
🕮 সহীহ্ বুখারী; ৯২৯, 🕮 মুসনাদে আহমদ; ১০৫৬৭, 🕮 নাসায়ী; ১৩৮০, 🕮 সুনানে ইবনে মাজাহ্; ১০৯২
অতএব উল্লিখিত আয়াত ও হাদীস থেকে বুঝা গেল, মৌলিকভাবে খুৎবা হলো যিকির বা বিশেষ ইবাদত। নিছক ওয়াজ-নসিহত বা বয়ান নয়।
জবাব- ২
হাদীস শরীফে জুমআ‘র দুটি খুৎবাকে দুই রাকাত নামাযের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। অথচ কোরআন সুন্নাহের কোথাও বক্তৃতাকে খুৎবার মত গুরুত্ব দেয়া হয়নি। নামাযের স্থলাভিষিক্ত ও করা হয়নি। খুৎবার মত শর্তও নেই বক্তৃতাতে।
হযরত উমর রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে
حدثنا وكيع عن الاوزاعي عن عمرو بن الخطاب قال كانت الجمعة اربعا فجعلت ركعتين من أجل الخطبة فمن فاتته الخطبة فَلْيُصَلِّ اربعا.
হযরত উমর রাযিআল্লাহু আনহু বলেন, জুমআ‘র নামায চার রাকাত ছিল, পরবর্তীতে খুৎবার কারণে দুই রাকাত করা হয়েছে। সুতরাং যার খুৎবা ছুটে গেল, সে চার রাকাত পড়বে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত: তিনি বলেন,
حدثنا محمد بن النضر الأزدي، حدثنا معاوية بن عمرو، حدثنا زهير، حدثنا أبو إسحاق، عن أبي الأحوص، عن عبد الله، قال:”من أدرك الخطبة فالجمعة ركعتان، ومن لم يدركها فليصل أربعا، ومن لم يدرك الركعة فلا يعتمد بالسجدة حتى يدرك الركعة”.
অর্থ: যে ইমামকে খুৎবাতে পেল, তার জন্য জুমআ দুই রাকাত। যে খুৎবা পায়নি তার জন্য জুমআ চার রাকাত, তথা: চার রাকাত জোহর পড়বে……।
🕮 তবরানী শরীফ কাবীর, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ২/১৯১
হাইসামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: সনদের রিজাল সকলে সিকাহ
* হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রাযিআল্লাহু আনহু বলেন:
حدثنا هشيم قال أخبرنا هشام بن أبي عبد الله عن يحيى بن أبي كثير قال حدثت عن عمر بن الخطاب أنه قال إنما جعلت الخطبة مكان الركعتين فإن لم يدرك الخطبة فليصل أربعا
অর্থ: খুৎবাকে জুমআ‘র দুই রাকাতের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। যার খুৎবা ছুটে যাবে সে চার রাকাত পড়বে।
🕮 মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৩/১৩৪ (দারুল কুতুব আল ইলমিয়্যাহ) 🕮 মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৪/১০৯ (৫৩৭৪) (মাকতাবাতু মুয়াস্সায়াতু উলুমিল কুরআন কাদীম নুসখা)-২/১২৮,৫৩৩১ 🕮 ইলাউস সুনান ৮/১০৬, ২০৩৯, (মাকতাবুতুল আশরাফ দেওবন্দ)
আল্লামা জাফর আহমাদ থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: খুৎবার গুরুত্ব ও মহত্ব প্রয়োজনীতা বুঝানোর জন্য খুৎবা ছুটে গেলে চার রাকাত আদায় করার কথা বলেছেন। সুতরাং বুঝা গেল খুৎবা বিশেষ ধরণের ইবাদত, বক্তৃতা বা ভাষণ নয়।
হাদীসের হুকুম: আল্লামা জাফর আহমাদ থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: হাদীসটি মুরসাল সহীহ।
* হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত: তিনি বলেন:
حدثنا يحيى بن يحيى أخبرنا أبو خيثمة عن سماك قال أنبأني جابر بن سمرة : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم كان يخطب قائما ثم يجلس ثم يقوم فيخطب قائما فمن نبأك أنه كان يخطب جالسا فقد كذب فقد والله صليت معه أكثر من ألفي صلاة
অর্থ: নিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন। অতপর বসে পুনরায় দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন। হযরত উমর রাযিআল্লাহু আনহু বলেন: যে সংবাদ দিবে, যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে খুৎবা দিতেন, সে মিথ্যা বলল। আল্লাহর কসম আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে দুই হাজারের অধিকবার নামায পড়েছি।
🕮 মুসলিম ১/২৮৩ পরিচ্ছেদ: দুটি খুৎবা দিবে দাড়িয়ে এবং দুই খুৎবার মাঝে বসবে, (মাকতাবাতু বায়তুল আযকার)-৮৬২, (ইসলামী ফাউন্ডেশন)-১৮৬৬ 🕮 ইলাউস সুনান-৮/১০৮, ২০৪০
* হযরত ইবনে শিহাব রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন:
ابْنُ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ : بَلَغَنِي أَنَّهُ لَا جُمُعَةَ إلَّا بِخُطْبَةٍ فَمَنْ لَمْ يَخْطُبْ صَلَّى الظُّهْرَ أَرْبَعًا
অর্থ: আমার নিকট খবর পৌছেছে, যে খুৎবা ছাড়া জুমআ‘ নেই। সুতরাং যে খুৎবা দিল না সে চার রাকাত জোহরের নামায পড়বে।
🕮 আল মুদাওয়ানাতুল কুবরা, কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: জুমআ‘র নামাজে কেরাত পাঠ করা, (মাকতাবাতু দারুল কুতুব আল ইলমিয়্যাহ, বইরুত), ১/২৩৮, 🕮 ইলাউস সুনান ৮/১০৬
* হযরত ওয়াকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি হযরত সুফিয়ান থেকে তিনি খুসাইফ থেকে তিনি হযরত সাঈদ ইবনে জুবাইর রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন: তিনি বলেন:
وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ خُصَيْفٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ : كَانَتْ الْجُمُعَةُ أَرْبَعًا فَحُطَّتْ رَكْعَتَانِ لِلْخُطْبَةِ .
অর্থ: জুমআ‘ চার রাকাত ছিল। খুৎবার কারণে দুই রাকাআত কমিয়ে দেয়া হয়েছে।
🕮 আল মুদাওয়ানাতুল কুবরা, কিতাবুস সালাত ৮/১০৬
* মুহাক্কীক ইমাম ইবনুল হুমাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোটা জীবনে কোন দিন একটি জুমআও খুৎবা ছাড়া আদায় করেননি।
🕮 ফাতহুল কাদীর, কিতাবুস সালাত, বাবু সালাতিল জুমআ-২/৫৫ (মাকতাবাতু যাকারিয়া দেওবন্দ)
* আল্লামা জাফর আহমাদ থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: উপরে আলোচিত সকল দলিল থেকে প্রতিয়মান হয়, জুমআ‘র জন্য খুৎবা শর্ত। এমনিভাবে একথাও প্রমানিত হয় যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআ‘ আদায় করেছেন তো জামাত এবং খুৎবা সহই আদায় করেছেন। জামাত বা খুৎবা ব্যতীত জুমআ‘ আদায় করেন নি।
🕮 ইলাউস সুনান ৮/২৩২৫
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত এবং হযরত উমর রাযিআল্লাহু আনহু সহ অন্যান্য সাহাবা তাবেয়ীদের বর্ণনা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, খুৎবার কারণেই জুমআ‘র নামাযকে সংক্ষেপ করা হয়েছে।
ইমাম ইবনে হাযাম রহ. ও একই কথা বর্ণনা করেন আব্দুর রাজ্জাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর সনদে হযরত উমর রাযিআল্লাহু আনহু হতে মুরসাল। আর আমাদের হানাফী ফকীহ মুহাদ্দিসসহ কদীম ফুকাহা ও মুহাদ্দিসিনের নিকট কুরুনে সালাসার মুরসাল মাকবুল।
ইমাম বুখারী তার সহীহুল বুখারীতে হযরত যুহরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন:
حدثنا محمد بن مقاتل قال أخبرنا عبد الله قال أخبرنا يونس عن الزهري قال سمعت السائب بن يزيد يقول : إن الأذان يوم الجمعة كان أوله حين يجلس الإمام يوم الجمعة على المنبر في عهد رسول الله صلى الله عليه و سلم وأبي بكر وعمر رضي الله عنهما فلما كان في خلافة عثمان رضي الله عنه وكثروا أمر عثمان يوم الجمعة بالأذان الثالث فأذن به على الزوراء فثبت الأمر على ذلك
অর্থ: আমি সায়েব ইবনে ইয়াযিদ রাযিআল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: নিশ্চয় হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, হযরত আবু বকর এবং হযরত উমর রাযিআল্লাহু আনহু এর খেলাফতকালে জুমআ‘র দিন আযান দেয়া হত ইমাম মিম্বরে বসা অবস্থায়।
🕮 সহীহ বুখারী ১/১২৫, ৯০৬ (ইসলামী ফাউন্ডেশন)-৯১৬, কিতাবুল জুমআ, বাবু তাযিন ইন্দাল খুৎবা (হিন্দুস্তানী নুসখা) 🕮 মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, হাদীস-৫৩৭৪।
এমনিভাবে ওলামায়ে কেরাম বলেন, বাস্তবার্থে খুৎবা হলো দুই রাকাআত নামাযের স্থলাভিষিক্ত যা বিভিন্ন বর্ণনা থেকে প্রতিয়মাণ হয়।
🕮 আল মুহীতুল বুরহানী, ২/৪৫০
যে কারণে নামাযের অনেক মাসআলা খুৎবাতে কার্যকর হয়। যেমন: নামাযে চুপ থাকা ওয়াজিব, তদ্রæপ খুৎবাতে চুপ থাকা ওয়াজিব। এ কারণেই তো খুৎবার সময় কোন ব্যক্তি কথা বলল, অন্য কেউ তাকে বলল, চুপ করো, এমন বলায় খুৎবা শুনতে কোন সমস্যা হয় না, তবুও তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
🕮 সহীহ বুখারী; ৯৩৪
কেউ নামায পড়ছে আর অন্য একজন তার পাশে বসে কথা বলছে এমতাবস্থায় তাকে যেমন চুপ করানো যায় না, অনুরুপ খুৎবাতেও একই হুকুম। এতে প্রতিয়মান হলো যে, খুৎবার মধ্যেও নামাযের হুকুম কার্যকর হয়। যদি খুৎবা শুধুই বক্তৃতা হতো, তাহলে এর জন্য সময় নির্ধারিত কেন? তাহলে বুঝা গেল, নিছক বক্তৃতার নাম খুৎবা নয়। এটি নামাযের মতই গুরুত্বর্পূণ এবং দুই রাকাআত নামাযের স্থলাভিষিক্ত, তাই নামাযে যেমন আরবী ছাড়া অন্য কোন ভাষায় কুরআন পড়া যায় না, তেমনি খুৎবাও অন্য ভাষায় পড়া যাবে না।
জবাব- ৩
খুৎবা সহীহ হওয়ার জন্য শুধু পাঠ করা শর্ত। কেউ শুনা জরুরী নয়। এমনকি কয়েকজন বধির কিংবা ঘুমন্ত ব্যক্তির সামনে খুৎবা পাঠ করা হলেও জুমআ‘ সহীহ হবে।
🕮 ফাতাওয়ায়ে শামী, ৩/১৯০ 🕮 আল-বাহরুর রায়েক, ২/১৫৭
খুৎবা যদি ওয়াজ বা বক্তৃতাই হতো, তাহলে বধির বা ঘুমন্ত ব্যক্তির সামনে খুৎবা পড়লে সহীহ হতো না।
জবাব- ৪
জুমআ‘ সহীহ হওয়ার জন্য খুৎবাকে শর্ত করা হয়েছে। অথচ বয়ান-ভাষণ বা দাওয়াত জুমআ সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত নয়।
🕮 দুররে মুখতার, ৩/১৯, 🕮 ফাতহুল কাদীর, ২/৫৫
খুৎবা যদি ওয়াজ বা বক্তৃতা হতো, তাহলে নামায সহীহ হওয়ার জন্য তাকে শর্ত বলা অযৌক্তিক।
জবাব- ৫
খুৎবা দেওয়ার পর খতীব যদি অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত হয়, ফলে নামায ও খুৎবার মাঝে দীর্ঘ সময় ব্যবধান হয়, তাহলে পুনরায় খুৎবা দিতে হয়। যদিও শ্রোতা প্রথমবারের ব্যক্তিরাই হোক না কেন। 🕮 আলবাহরুর রায়েক, ২/২৫৮
আল বাহরুর রায়েকের ইবারত থেকে প্রতিয়মান হয়। যদি খুৎবা শুধু ভাষণই হতো, তাহলে একই খুৎবা পূর্বের শ্রোতাদের সামনে পুনরাবৃত্তির কোনোই দরকার ছিল না।
জবাব- ৬
খুৎবা শ্রবণ করা এবং চুপ থাকা ওয়াজিব। এ সময় যবানে দরূদ শরীফ পড়া, তাসবীহ পাঠ করা, তাকবীর বলা অথবা সালামের উত্তর দেওয়া না জায়েয। খুৎবা যদি শুধু ভাষণই হতো, তাহলে সালামের জবাব দেওয়া বা যিকির-আযকার থেকে নিষেধ করা হতো না।
🕮 কিতাবুল আছল, ১/৩০৩
জবাব- ৭
স্বয়ং কুরআনুল কারীমের অনেক আয়াতে কুরআনুল কারীমকে ওয়াজ, নসীহত বা বয়ান বলা হয়েছে। যথা:সূরা বাকারা, আয়াত-২৭৫
فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُولٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
সূরা ইউনুস, আয়াত-৫৭
يَاأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
সূরা ছদ, আয়াত-৮৭
إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ
সূরা কলম, আয়াত-৫১-৫২
وَإِنْ يَكَادُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصَارِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَيَقُولُونَ إِنَّهُ لَمَجْنُونٌ وَمَا هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ
সূরা তাকবীর, আয়াত-২৭
إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ
সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১৩৮
هَذَا بَيَانٌ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةٌ لِلْمُتَّقِينَ
তাহলে তো খুৎবার মতো কুরআনকেও নামাযের মধ্যে স্থানীয় ভাষায় পাঠ করা জায়েয হওয়া উচিৎ। কারণ, আরবী তেলাওয়াত শ্রোতারা অনেকেই বুঝেন না। কিন্তু কোনো মুসলিম কি আধৌ বলেছেন, আরবী ভাষার কোরআন বুঝেন না। তাই কোরআন মাতৃভাষায় হতে হবে?
তেমনিভাবে আযানের মধ্যে حى على الصلاة না বলে ‘নামাযের দিকে আসো’ বলা উচিৎ। ফজরের আযানে الصلاة خير من النوم না বলে ‘নামায ঘুম হতে উত্তম’ বলা উচিৎ। কারণ, শ্রোতারা আরবী ভাষায় এ সমস্ত আহŸান বুঝতে পারে না। অথচ এমন কথা কেউ বলে না। সুতরাং বুঝা গেল যে, খুৎবাকে শুধুই ভাষণ-বক্তৃতা বলা একটি মনগড়া যুক্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। যা একেবারেই ভিত্তিহীন। ভিত্তিহীন মনগড়া যুক্তি পেশ করে, কোরআন সুন্নাহ ও সালাফের সহীহ ব্যাখ্যাকে কুলষিত করা মূর্খতা ছাড়া কিছু নয়। আল্লাহ আমাদেরকে ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন।
জবাব- ৮
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোটা জীবনের স্থায়ী আমলও তদ্রæপ বলে যে, খুৎবা আরবী ভাষাতেই হবে, অন্য ভাষায় নয়। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুরো জিন্দেগীতে আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় খুৎবা দিয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাছাড়াও হযরত সাহাবায়ে কেরামের কোন একজন থেকেও এ কথা প্রমাণিত নেই যে, তাঁরা আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় খুৎবা দিয়েছেন। অথচ তাদের অনেকেই ছিলেন অন্য ভাষাভাষী। আবার অনেকের আরবী ভাষা ব্যতিত অন্য ভাষা রপ্তও ছিল।
এ ছাড়াও সাহাবায়ে কেরাম দ্বীনের দাওয়াতে রোম, ইরান প্রভৃতি দেশ সফর করেছেন, যারা ছিলেন অনারব। তাদের ভাষাও ছিলো অনারবী। তাদের মাঝে দাওয়াতী কাজ করেছেন তাদের ভাষাতেই। কিন্তু যখন জুমআ‘র খুৎবা দিতেন, তখন আরবী ভাষাতেই খুৎবা দিতেন, অন্য ভাষায় নয়। যেমন: যায়েদ ইবনে সাবেত রাযিআল্লাহু আনহু এর ব্যপারে বর্ণিত আছে, তাঁর অনেক গুলো ভাষা আয়ত্ব ছিলো। এমনিভাবে সালমান ফারসী রাযিআল্লাহু আনহু ছিলেন পারস্যের বাসিন্দা। বেলাল রাযিআল্লাহু আনহু হাবশার বাসিন্দা, সুহাইব রাযিআল্লাহু আনহু রুমের বাসিন্দা, তারা সকলে আরবী ভাষার পাশাপাশি তাদের আঞ্চলিক ভাষাও জানতেন।
খুৎবার উদ্দেশ্য যদি দাওয়াত ও তাবলীগই হয়, তাহলে শ্রোতাদের অবশ্যই তা বুঝতে হত। এবং আরবী খুৎবার পর শ্রোতাদের নিজস্ব ভাষায় অনুবাদ করা হত। কিন্তু পূর্বের কোন যুগে খুৎবার অনুবাদ করা হয়েছে, এ মর্মে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু এর সাথে সর্বদা একজন দুভাষী থাকতো। এতদসত্তে¡ও তিনি আরবী খুৎবার তরজমা করিয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। অন্য কোন সাহাবী থেকেও এরূপ কোন প্রমাণ নেই। এর দ্বারা বুঝা যায় খুৎবা আরবী ভাষায় হওয়া সুন্নাত।
খুৎবা এবং বয়ান ভাষণের মাঝে পার্থক্য হলো: খুৎবার জন্য আলাদা কিছু শর্ত ও সুন্নত রয়েছে যে গুলো বয়ান-বক্তৃতা বা ভাষণের মধ্যে শর্ত নয়।
খুৎবা বক্তৃতা, ভাষন বা বয়ান নয় বরং জিকির এবং বিশেষ ধরণের ইবাদাত প্রতিটি ইবদাত নববী আদর্শে পালন করা সুন্নাত । খুৎবা পালনে রাসূল থেকে ১২টির অধিক আদর্শ বা সুন্নাত রয়েছে। যা নি¤েœ আলোচনা করা হলো । সন্নাহ আলোচনা থেকে খুৎবা ও বক্তৃতার মধ্যকার পার্থক্য ফুটে উঠবে ইনশাআল্ল্হা।
খুৎবার শর্ত ও সুনানসমূহ:
১. খুৎবার আযানের সময় ইমাম সাহেব মিম্বরে বসা থাকা সুন্নাত:
* হাফেজ ইবনে হাজার বুখারী শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ “ফাতহুল বারী”তে উল্লেখ করেন: ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী এবং জমহুর উলামদের নিকট খুৎবার আযান ইমাম মিম্বরে বসা অবস্থায় দেয়া সুন্নাত বা ইমাম খুৎবার আযানের সময় মিম্বরে বসা থাকা সুন্নাত।
🕮 ফাতহুল বারী, (মাকতাবাতুল আশরাফ দেওবন্দ) ২/৫০৪, মাকতাবাতু দারুররায়্যান-২/৪৬০
* হযরত উমর রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীস: হযরত নাফে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
حدثنا محمد بن سليمان الأنباري ثنا عبد الوهاب يعني ابن عطاء عن العمري عن نافع عن ابن عمر قال : كان النبي صلى الله عليه و سلم يخطب خطبتين كان يجلس إذا صعد المنبر حتى يفرغ أراه ” المؤذن ” ثم يقوم فيخطب ثم يجلس فلا يتكلم ثم يقوم فيخطب
* قال أبو عيسى حديث ابن حديث حسن صحيح
অর্থ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি খুৎবা দিতেন। মুয়াজ্জিন আযান শেষ করা পর্যন্ত মিম্বরে আরোহন করে বসা থাকতেন। অতপর দাড়িয়ে খুৎবা দিতেন। তারপর বসে কোন কথা-বার্তা না বলে, পূনরায় দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন।
🕮 সুনানে আবু দাউদ, মাকতাবাতু দারুস সালাম রিয়াদ (১০৯২), 🕮 আওনুল মাবুদ, আবওয়াবুল জুমআ, বাব “মিম্বরে উঠে বসবে”
মাকতাবাতু আশরাফিয়্যাহ দেওবন্দ (৪/৩১০) -১০৮৮ নং হাদীসের অধিনে আলোচনা, 🕮 ইলাউস সুনান পৃ: ২৩২৭ সুনানে তিরমিযী: ৫০৬ ( দারু ইবনিল জাওযী কাহেরা)।
* হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআ‘র দিনে মিম্বরে আরোহন করতেন এবং খুৎবার পূর্বে হালকা বসতেন।
🕮 জামিউল মাসানিদি লিল ইমামে আযম: (১/৩৭৭) বাবুল খামেস ফিস সলাত, মাকতাবাতু মজলিসুদ দায়েরাতুল মায়ারিফ হায়দ্রাবাদ)
🕮 আল মুগনী লি ইবনে কুদামা (৩/১৭৬) (মাকতাবাতু দারুল কুতুব আল ইলমিয়্যাহ, বইরুত) সালাত অধ্যায়: তিনি বলেন: দুই খুৎবার মাঝখানে বসা মুস্তাহাব। মাকতাবাতু কাহেরা (২/২২৭) হাদীস নাম্বার-(১৩০১)
* হযরত ইবনে শিহাব রহমাতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত:
حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، وَحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: بَلَغَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ্রكَانَ يَبْدَأُ فَيَجْلِسُ عَلَى الْمِنْبَرِ، فَإِذَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُ قَامَ فَخَطَبَ الْخُطْبَةَ الْأُولَى، ثُمَّ جَلَسَ شَيْئًا يَسِيرًا، ثُمَّ قَامَ فَخَطَبَ الْخُطْبَةَ الثَّانِيَةَ حَتَّى إِذَا قَضَاهَا اسْتَغْفَرْ ثُمَّ نَزَلَ فَصَلَّىগ্ধ قَالَ: ابْنُ شِهَابٍ: ্রفَكَانَ إِذَا قَامَ أَخَذَ عَصًا فَتَوَكَّأَ عَلَيْهَا وَهُوَ قَائِمٌ عَلَى الْمِنْبَرِগ্ধ ، ثُمَّ كَانَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ، وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ، يَفْعَلُونَ مِثْلَ ذَلِكَ
অর্থ: তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌছেছে, নিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবার শুরুতে মিম্বরে বসতেন। যখন মুয়াজ্জিন আযান শেষে চুপ করতেন, তখন দাঁড়িয়ে প্রথম খুৎবা দিতেন। অতপর সামান্য বসে পুনরায় দ্বিতীয় খুৎবা দিতেন। এমনকি খুৎবার শেষের দিকে ইস্তেগফার করতেন। তারপর মিম্বর থেকে নেমে নামায পড়তেন। ইবনে শিহাব বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দাড়াতেন তখন লাঠিতে ধরে দাড়াতেন এবং লাঠিতে ভর করে মিম্বরে দাড়িয়ে থাকতেন। এমনটিই হযরত আবু বকর, হযরত উমর এবং হযরত উসমান রাযিআল্লাহু আনহু করেছেন।
🕮 মারাসিলে আবু দাউদ ২/২৫৮, (হিন্দুস্তানী নুসখা) 🕮 আসারুস সুনান হাদীস নাম্বার-৯৫৫, পৃ: নাম্বার- ২৪৩, মাকতাবাতু মদীনা দেওবন্দ, 🕮 ইলাউস সুনান পৃ: ২০৫৫
২. খুৎবাতে তাশাহহুদ পাঠ করা সুন্নাত:
* হযতর আবু হুরায়রা রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত: তিনি বলেন:
حدثنا مسدد وموسى بن إسماعيل قالا ثنا عبد الواحد بن زياد ثنا عاصم بن كليب عن أبيه عن أبي هريرة : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال ” كل خطبة ليس فيها تشهد فهي كاليد الجذماء ” .
*قال أبو عيسى هذا حديث حسن غريب
* قال شعيب الأرنؤوط في تعليق مسند احمد : إسناده قوي رجاله ثقات رجال الصحيح غير كليب والد عاصم، فقد روى له أصحاب ا لسنن وهو صدوق-
অর্থ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রত্যেক ঐ খুৎবা যার মধ্যে তাশাহহুদ নেই তা অবশ হাতের ন্যায় বা প্যারালাইস হাতের ন্যায়।
🕮 সহীহ ইবনে হিব্বান ৫৭৯, ১৯৯৪, 🕮 সুনানে তিরমিযী ১১০৬, 🕮 সুনানে আবু দাউদ ৪৮৪১, 🕮 মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা- ৯/১১৬, 🕮 তারীখে কাবীর লিল বুখারী-৭/২২৭, 🕮 আযকার লিন নববী-২৪৯ মুসনাদে আহমাদ- ৮৫১৮
৩. খুৎবাতে কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত করা সুন্নাত:
* হযরত আমরার বোন বর্ণনা করেন:
حدثني عبدالله بن عبدالرحمن الدارمي أخبرنا يحيى بن حسان حدثنا سليمان بن بلال عن يحيى بن سعيد عن عمرة بنت عبدالرحمن عن أخت لعمرة قالت : أخذت ( ق والقرآن المجيد ) من في رسول الله صلى الله عليه و سلم يوم الجمعة )وهو يقرأ بها على المنبر في كل جمعة (
অর্থ: আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জবান থেকে “ক্বাফ ওয়াল কুরআনিল মাজীদ” ইয়াদ করেছি। তিনি তা প্রতি জুমআ‘র দিন মিম্বরে তা তেলাওয়াত করতেন।
🕮 সহীহ মুসলিম-১/২৮৬, হিন্দুস্তানী নুসখা, “কিতাবুল জুমআ” ১/২৮৬ মাকতাবাতু বাইতুল আফকার, (৮৭২) মুয়াসসাতুল মুখতার।
* হযরত সাফওয়ান ইবনু ইয়ালা ইবনু উমাইয়্যাহ রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন:
حدثنا قتيبة بن سعيد وأبو بكر بن أبى شيبة وإسحاق الحنظلى جميعا عن ابن عيينة – قال قتيبة حدثنا سفيان – عن عمرو سمع عطاء يخبر عن صفوان بن يعلى عن أبيه أنه سمع النبى -صلى الله عليه وسلم- يقرأ على المنبر (ونادوا يا مالك)
অর্থ: আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বরে উঠা অবস্থায় তেলাওয়াত করতে শুনেছি- وَنَادَوْا يَا مَالِكُ
অর্থ: তারা চিৎকার করে বলবে, হে মালিক! (জাহান্নামের দারোগা)
🕮 সহীহ মুসলিম-১৮৮১ 🕮 ইলাউস সুনান- ২০৪৫
* হযরত উবাই ইবনে কাব রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত:
عن أبي بن كعب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ يوم الجمعة براءة وهو قائم يذكر بأيام الله.
ورجاله رجال الصحيح
অর্থ: নিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআ‘র দিন দাঁড়িয়ে সূরা বারাআত (সূরা তওবা) তেলাওয়াত করেছেন। অতপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে আল্লাহর অনুগ্রহ ও শাস্তির দিনসমূহ আলোচনা করেছেন।
🕮 মাযমাউয যাওয়ায়েদ- ২/১৯০ 🕮 ইলাউস সুনান-পৃ: ২০৪৫
🕮 কানযূল উম্মাল- হাদীসটি সহীহ-৪/২৭৫, ২৩৩১৮ (দারুল কুতুবুল ইলমিয়্যাহ)
হযরত হাইসামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: হাদীসের রিজালগণ রিজালে সহীহ।
* হযরত উবাই ইবনে কা’ব রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত:
عن أبي بن كعب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ يوم الجمعة تبارك وهو قائم يذكر بأيام الله.
ورجاله رجال الصحيح
অর্থ: নিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআ‘র দিনে খুৎবাতে দাড়ানো অবস্থায় “তাবারকাল্লাজি” তথা সূরা মূলক পাঠ করেছেন। এবং আল্লাহর উপদেশ ও শাস্তির দিনসমূহের আলোচনা করেছেন।
🕮 সুনানে ইবনে মাজাহ- ১/৭৮ হিন্দুস্তানী নুসখা-১১১১ (মাকতাবাতু দারুস সালাম রিয়াদ), পরিচ্ছেদ: মনোযোগ সহকারে খুৎবা শুনা।
মাযমাউয যাওয়ায়েদে- আল্লামা হাইসামী বলেন: হাদীসের সনদটি সহীহ ২/৩৪৬, ৩১৫৫ (কাদীম নুসখা), পরিচ্ছেদ: খুৎবা এবং জুমআ।
৪. বলিষ্ঠ আওয়াজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবা দিতেন:
* হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন:
حدثني محمد بن المثنى حدثنا عبدالوهاب بن عبدالمجيد عن جعفر بن محمد عن أبيه عن جابر بن عبدالله قال : كان رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا خطب احمرت عيناه وعلا صوته واشتد غضبه حتى كأنه منذر جيش يقول صبحكم ومساكم ويقول بعثت أنا والساعة كهاتين ويقرن بين أصبعيها لسبابة والوسطى ويقول أما بعد فإن خير الحديث كتاب الله وخير الهدي هدي محمد وشر الأمور محدثاتها وكل بدعة ضلالة ثم يقول أنا أولى بكل مؤمن من نفسه من ترك مالا فلأهله ومن ترك دينا أو ضياعا فإلي وعلي
অর্থ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুৎবা দিতেন, তখন তাঁর চক্ষুদ্বয় রক্তিমবর্ণ ধারণ করতো। কন্ঠস্বর জোরালো হতো এবং ক্রোধ বেড়ে যেত। এমনকি মনে হত, তিনি যেন শত্রæবাহিনী সম্পর্কে সতর্ক করছেন। আর বলছেন: তোমরা ভোরেই আক্রান্ত হবে। তোমরা সন্ধ্যায়ই আক্রান্ত হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন: আমি ও কেয়ামত এ দুটির ন্যায় (স্বল্প ব্যবধানে) প্রেরিত হয়েছি। তিনি মধ্যমা ও তর্জনী আঙ্গুল মিলিয়ে দেখাতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন: উত্তম বাণী হল আল্লাহর যিকির এবং উত্তম পথ হল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদর্শিত পথ। অতীব নিকৃষ্ট বিষয় হল ধর্মের মধ্যে নতুনত্ব উদ্ভাবন (বিদআত) করা। প্রতিটি বিদআত ভ্রষ্ট। তিনি আরো বলতেন: আমি প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির জন্য তার নিজের থেকে উত্তম (কল্যাণকামী)। কোন ব্যক্তি সম্পদ রেখে গেলে তা তার পরিবার-পরিজনের প্রাপ্য। আর কোন ব্যক্তি ঋণ অথবা অসহায় সন্তান রেখে গেলে সেগুলোর দায়িত্ব আমার।
🕮 সহীহ মুসলিম-১৮৭৫, ইসলামী ফাউন্ডেশন) কিতাবুল জুমআ, (মাকতাবাতু বাইতুল আফকার)-৮৬৭ 🕮 সুনানে ইবনে মাজাহ-৪৫ (মাকতাবাতু দারুস সালাম রিয়াদ) 🕮 ইলাউস সুনান-২০৫২
* হযরত নোমান ইবনে বাশির রাযিআল্লাহু আনহু বলেন:
عن النعمان قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يخطب يقول:”أنذركم النار أنذركم النار” حتى لو أن رجلاً كان بالسوق لسمعه من مقامي هذا قال: حتى وقعت خميصة كانت على عاتقه عند رجليه. في رواية: وسمع أهل السوق صوته وهو على المنبر.) ورجاله رجال الصحيح(.
অর্থ: আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুৎবাতে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে সতর্ক করছি, আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে সতর্ক করছি, যদি কোন লোক বাজারে থাকতো, তাহলে সে আমার খুৎবা শুনতে পেতো এবং আমার অবস্থান সম্পর্কে বুঝতে পারতো…………
অন্য বর্ণনায় রয়েছে: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিম্বরে থাকা বলিষ্ঠ খুৎবা বাজারে অবস্থিত লোকেরাও শুনেছিল।
🕮 মুসনাদে আহমাদ-৪/২৭২, ১৮৫৮৮ 🕮 মাযমাউয যাওয়ায়েদ-২/১৯০, ৩১৪৪, (মাকতাবাতু দারুল কুতুব আল ইলমিয়্যাহ,বইরুত, জাদীদ নুসখা)-২/৩৪৩, ৩১৪৪ 🕮 ইলাউস সুনান-২০৪৭ (দারুল ফিকির)
* আল্লামা ইবনে নুজাইম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: মুস্তাহাব হল, উঁচ্চ আওয়াজে খুৎবা দান করা।
🕮 বাহরুর রায়েক, কিতাবুস সালাত, সালাতুল জুমআ, পরিচ্ছেদ: ২/১৪৮ (মাকতাবাতু যাকারিয়া)-২/২৫৯
* হযরত উবাই ইবনে কা’ব রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত:
عن أبي بن كعب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ يوم الجمعة تبارك وهو قائم يذكر بأيام الله.
ورجاله رجال الصحيح
অর্থ: নিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআ‘র দিনে খুৎবাতে দাড়ানো অবস্থায় “তাবারকাল্লাজি” তথা সূরা মূলক পাঠ করেছেন। এবং আল্লাহর উপদেশ ও শাস্তির দিনসমূহের আলোচনা করেছেন।
🕮 মুসনাদে আহমাদ ৫/১৪৩, ২১৬১২ 🕮 কানযুল উম্মাল-৪/২৭৫ 🕮 ইলাউস সুনান- ২০৪৬ (আশরাফিয়্যাহ দেওবন্দ)
🕮 মাযমাউয যাওয়ায়েদে- আল্লামা হাইসামী বলেন: তার বর্ণনাকারীগণ সহীহর বর্ণনাকারী, হাদীসের সনদটি সহীহ ২/৩৪৬, ৩১৫৫
৫. জুমআ‘র খুৎবাতে মুসলমানদের জন্য উপদেশ থাকা সুন্নাত:
* হযরত নোমান ইবনে বাশির রাযিআল্লাহু আনহু বলেন:
عن النعمان قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يخطب يقول:”أنذركم النار أنذركم النار” حتى لو أن رجلاً كان بالسوق لسمعه من مقامي هذا قال: حتى وقعت خميصة كانت على عاتقه عند رجليه. في رواية: وسمع أهل السوق صوته وهو على المنبر.
(ورجاله رجال الصحيح)
অর্থ: আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুৎবাতে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে সতর্ক করছি, আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে সতর্ক করছি, যদি কোন লোক বাজারে থাকতো, তাহলে সে আমার খুৎবা শুনতে পেতো এবং আমার অবস্থান সম্পর্কে বুঝতে পারতো।
অন্য বর্ণনায় রয়েছে: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিম্বরে থাকা বলিষ্ঠ খুৎবা বাজারের লোকেরাও শুনেছিল।
🕮 মুসনাদে আহমাদ-৪/২৭২, ১৮৫৮৮ 🕮 মাযমাউয যাওয়ায়েদ-২/১৮৭, ৩১৪৪ (মাকতাবাতু দারুল কুতুব আল ইলমিয়্যাহ,বইরুত, জাদীদ নুসখা)-২/৩৪৩, ৩১৪৪ 🕮 ইলাউস সুনান-২০৪৭(দারুল ফিকির)-২০৪৮ (আশরাফিয়্যাহ দেওবন্দ)
* হযরত আলী অথবা যুবায়ের রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
حدثنا عبد الله حدثني أبي ثنا كثير بن هشام ثنا هشام عن أبي الزبير عن عبد الله بن سلمة أو مسلمة قال كثير وحفظي سلمة عن علي أو عن الزبير قال : كان رسول الله صلى الله عليه و سلم يخطبنا فيذكرنا بأيام الله حتى نعرف ذلك في وجهه وكأنه نذير قوم يصبحهم الأمر غدوة وكان إذا كان حديث عهد بجبريل لم يتبسم ضاحكا حتى يرتفع عنه
تعليق شعيب الأرنؤوط : إسناده حسن رجاله ثقات رجال الصحيح غير عبدالله بن سلمة
অর্থ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে খুৎবা দিতেন এবং আল্লাহ তায়ালার হেদায়েত ও শান্তির দিনগুলোর কথা আলোচনা করে উপদেশ দিতেন। এমনকি তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মুবারকে ভেসে উঠতো। (এমনভাবে হ্নদয়গ্রাহী করে উপদেশ দিতেন) যেন নিজ সৈন্যবাহিনীকে ভোর বেলার আক্রমণ হতে সতর্ক করছেন।
🕮 ইলাউস সুনান-২০৪৮, (দারুল ফিকির), (মাকতাবাতুল আশরাফিয়্যাহ দেওবন্দ)-২০৪৯ 🕮 মুসনাদে আহমাদ-১৪৩৭ 🕮 মুসনাদে আবি ইয়ালা-৬৭৩ (দারুল কুতুব আল ইলমিয়্যাহ) 🕮 মাযমাউয যাওয়ায়েদ-৩১৪৫ (জাদীদ নুসখা) ২/১৮৮ (দারুল কুতুব আল ইলমিয়্যাহ) তালখিসুল হাবীর-৬৩০, (দারুল কুতুব আল ইলমিয়্যাহ) কিতাবুল জুমআ।
হাদীসের হুকুম: বর্ণিত হাদীসের সকল বর্ণনাকারীগণ সিকাহ তথা নির্ভরযোগ্য (আত-তালখীসুল হাবীর)
* হযরত জাবের ইবনে সামুরা রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত:
حدثنا محمود بن خالد ثنا الوليد أخبرني شيبان أبو معاوية عن سماك بن حرب عن جابر بن سمرة السوائي قال : كان رسول الله صلى الله عليه و سلم لا يطيل الموعظة يوم الجمعة إنما هن كلمات يسيرات .
قال الشيخ الألباني : حسن
অর্থ: তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআ‘র দিনে লম্বা ও দীর্ঘ উপদেশ দিতেন না, বরং তা ছিল সহজ শব্দে সংক্ষেপ।
🕮 ইলাউস সুনান-২০৪৯, (দারুল ফিকির)-২০৫০ (মাকতাবাতুল আশরাফিয়্যাহ দেওবন্দ) 🕮 সুনানে আবু দাউদ, ১/১৫৮ (হিন্দুস্তানী নুসখা)-১১০৭ (মাকতাবাতু দারুস সালাম) 🕮 নাইলুল আওতার-২/২৬৮ (দারুল হাদীস কাহেরা) ,১২৩৯-(বাইতুল আফকার, বইরুত)
হাদীসের হুকুম: ইমাম আবু দাউদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি হাদীসটি উল্লেখ করে চুপ থেকেছেন অর্থাৎ কোন মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন, এর অর্থ হলো হাদীসটি সহীহ, ইমাম মুনযিরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, সনদের প্রতিটি বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।
* হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত:
حدثني محمد بن المثنى حدثنا عبدالوهاب بن عبدالمجيد عن جعفر بن محمد عن أبيه عن جابر بن عبدالله قال : كان رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا خطب احمرت عيناه وعلا صوته واشتد غضبه حتى كأنه منذر جيش يقول صبحكم ومساكم ويقول بعثت أنا والساعة كهاتين ويقرن بين أصبعيها لسبابة والوسطى ويقول أما بعد فإن خير الحديث كتاب الله وخير الهدي هدي محمد وشر الأمور محدثاتها وكل بدعة ضلالة ثم يقول أنا أولى بكل مؤمن من نفسه من ترك مالا فلأهله ومن ترك دينا أو ضياعا فإلي وعلي
অর্থ: তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুৎবা দিতেন, তখন তাঁর চক্ষুদ্বয় রক্তিমবর্ণ ধারণ করতো। কন্ঠস্বর জোরালো হতো এবং ক্রোধ বেড়ে যেত। এমনকি মনে হত, তিনি যেন শত্রæবাহিনী সম্পর্কে সতর্ক করছেন। আর বলছেন: তোমরা ভোরেই আক্রান্ত হবে। তোমরা সন্ধ্যায়ই আক্রান্ত হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন: আমি ও কেয়ামত এ দুটির ন্যায় (স্বল্প ব্যবধানে) প্রেরিত হয়েছি। তিনি মধ্যমা ও তর্জনী আঙ্গুল মিলিয়ে দেখাতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন: উত্তম বাণী হল আল্লাহর যিকির এবং উত্তম পথ হল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদর্শিত পথ। অতীব নিকৃষ্ট বিষয় হল ধর্মের মধ্যে নতুনত্ব উদ্ভাবন (বিদআত) করা। প্রতিটি বিদআত ভ্রষ্ট। তিনি আরো বলতেন: আমি প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির জন্য তার নিজের থেকে উত্তম (কল্যাণকামী)। কোন ব্যক্তি সম্পদ রেখে গেলে তা তার পরিবার-পরিজনের প্রাপ্য: আর কোন ব্যক্তি ঋণ অথবা অসহায় সন্তান রেখে গেলে সেগুলোর দায়িত্ব আমার।
🕮 সহীহ মুসলিম-১৮৭৫, (ইসলামী ফাউন্ডেশন) কিতাবুল জুমআ, (মাকতাবাতু বাইতুল আফকার)-৮৬৭ 🕮 সুনানে ইবনে মাজাহ-৪৫ (মাকতাবাতু দারুস সালাম রিয়াদ) 🕮 ইলাউস সুনান-২০৫২
৬. দাড়িয়ে খুৎবা পাঠ করা সুন্নাত:
* হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত:
حدثنا يحيى بن يحيى أخبرنا أبو خيثمة عن سماك قال أنبأني جابر بن سمرة : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم كان يخطب قائما ثم يجلس ثم يقوم فيخطب قائما فمن نبأك أنه كان يخطب جالسا فقد كذب فقد والله صليت معه أكثر من ألفي صلاة
অর্থ: তিনি বলেন: নিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়িয়ে খুৎবা দিতেন। অতপর বসে পুনরায় দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন। যে সংবাদ দিবে, যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে খুৎবা দিতেন, সে মিথ্যা বলল। আল্লাহর কসম আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে দুই হাজারের অধিকবার নামায পড়েছি।
🕮 মুসলিম-১/২৮৩, পরিচ্ছেদ: দুটি খুৎবা দিবে দাড়িয়ে এবং দুই খুৎবার মাঝে বসবে, (মাকতাবাতু বায়তুল আযকার)-৮৬২-(ইসলামী ফাউন্ডেশন)-১৮৬৯ 🕮 ইলাউস সুনান-৮/১০৮, ২০৪০ (আশরাফিয়্যাহ দেওবন্দ)-২০৩৯ (দারুল ফিকির)
* হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীস:
حدثنا محمد بن سليمان الأنباري ثنا عبد الوهاب يعني ابن عطاء عن العمري عن نافع عن ابن عمر قال : كان النبي صلى الله عليه و سلم يخطب خطبتين كان يجلس إذا صعد المنبر حتى يفرغ أراه ” المؤذن ” ثم يقوم فيخطب ثم يجلس فلا يتكلم ثم يقوم فيخطب
قال عيسى حديث ابن عمر حديث حسن صحيح
অর্থ: হযরত নাফে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন: তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি খুৎবা দিতেন। মুয়াজ্জিন আযান শেষ করা পর্যন্ত মিম্বরে আরোহন করে বসা থাকতেন। অতপর দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন। তারপর দুই খুৎবার মাঝখানে বসতেন। অতঃপর কথা-বার্তা না বলে দাঁড়িয়ে আবার খুৎবা দিতেন।
🕮 সুনানে আবু দাউদ-১০৯২, কিতাবুস সলাত, বাবু জুলুসু ইজা ছইদাল মিম্বর, (মাকতাবাতু দারুস সালাম রিয়াদ) 🕮 আওনুল মাবুদ, আবওয়াবুল জুমআ, বাব “মিম্বরে উঠে বসবে” (মাকতাবাতু আশরাফিয়্যাহ দেওবন্দ)-৪/৩১০, ১০৮৮ নং হাদীসের অধিনে আলোচনা, 🕮 ইলাউস সুনান পৃ:-২৩২৭🕮সুনানে তিরমিযী-৫০৬ (দারু ইবনিল তাওযী, কাহেরা)
* হযরত উবাই ইবনে কা‘ব রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত:
عن أبي بن كعب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ يوم الجمعة براءة وهو قائم يذكر بأيام الله.
ورجاله رجال الصحيح
অর্থ: নিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআ‘র দিন দাড়িয়ে সূরা বারায়াত তেলাওয়াত করেছেন। অতপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে আল্লাহর অনুগ্রহ ও শাস্তির দিনসমূহ আলোচনা করেছেন।
🕮 মাযমাউয যাওয়ায়েদ- ২/১৯০, 🕮 ইলাউস সুনান-পৃ: ২০৪৫
হযরত হাইসামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: হাদীসের রিজালগণ রিজালে সহীহ।
কানযূল উম্মাল- হাদীসটি সহীহ-৪/২৭৫, ২৩৩১৮
* দীর্ঘ হাদীসের এক অংশে হযরত হাকাম রাযিআল্লাহু আনহু বলেন:
حدثنا سعيد بن منصور ثنا شهاب بن خراش حدثني شعيب بن رزيق الطائفي قال : جلست إلى رجل له صحبة من رسول الله صلى الله عليه و سلم يقال له الحكم بن حزن الكلفي فأنشأ يحدثنا قال وفدت إلى رسول الله صلى الله عليه و سلم سابع سبعة أو تاسع تسعة فدخلنا عليه فقلنا يارسول الله زرناك فادع الله لنا بخير فأمر بنا أو أمر لنا بشىء من التمر والشان إذ ذاك دون فأقمنا بها أياما شهدنا فيها الجمعة مع رسول الله صلى الله عليه و سلم فقام متوكئا على عصا أو قوس فحمد الله وأثنى عليه كلمات خفيفات طيبات مباركات ثم قال ” أيها الناس إنكم لن تطيقوا أو لن تفعلوا كل ما أمرتم به ولكن سددوا وأبشروا ”
قال الشيخ الألباني : حسن
অর্থ: ………আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জুমআ‘য় উপস্থিত হলাম। তিনি খুৎবা দানে লাঠি অথবা ধনুকের উপর ভর করে দাড়ালেন। অতপর আল্লাহ তায়ালার হামদ ও ছানা পাঠ করেন, সকল পবিত্র ও বরকতময় অল্প শব্দে। অতপর পাঠ করেন: হে লোক সকল! তোমরা সক্ষম নও অথবা আমি তোমাদের যা করতে বলেছি তা তোমরা করনি……..।
🕮 সুনানে আবু দাউদ-১/১৫৬ (হিন্দুস্তানী নুসখা)-১০৯৬ (দারু ইবনিল জাওযী কাহেরা) 🕮 সহীহ ইবনে খুযাইমা-১/৭০৩, ১৪৫২ (মাকতাবাতু দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বইরুত) 🕮 আত তালখিসুল হাবীর-১/১৩৬,১৩৭ (কাদীম নুসখা)-১/১৫৭, ৬৪৮ (মাকতাবাতু দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বইরুত)
* হযরত উবাই ইবনে কা’ব রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত:
عن أبي بن كعب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ يوم الجمعة تبارك وهو قائم يذكر بأيام الله.
ورجاله رجال الصحيح
অর্থ: নিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআ‘র দিনে খুৎবাতে দাড়ানো অবস্থায় “তাবারকাল্লাজি” তথা সূরা মূলক পাঠ করেছেন। এবং আল্লাহর উপদেশ ও শাস্তির দিনসমূহের আলোচনা করেছেন।
🕮 সুনানে ইবনে মাজাহ- ১/৭৮ (হিন্দুস্তানী নুসখা)-১১১১ (দারুস সালাম রিয়াদ) 🕮 মাযমাউয যাওয়ায়েদ (জাদীদ নুসখা)-৩১৫৫
আল্লামা হাইসামী বলেন: হাদীসের সনদটি সহীহ
* হযরত ইবনে শিহাব রহমাতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত:
حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، وَحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: بَلَغَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ্রكَانَ يَبْدَأُ فَيَجْلِسُ عَلَى الْمِنْبَرِ، فَإِذَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُ قَامَ فَخَطَبَ الْخُطْبَةَ الْأُولَى، ثُمَّ جَلَسَ شَيْئًا يَسِيرًا، ثُمَّ قَامَ فَخَطَبَ الْخُطْبَةَ الثَّانِيَةَ حَتَّى إِذَا قَضَاهَا اسْتَغْفَرْ ثُمَّ نَزَلَ فَصَلَّىগ্ধ قَالَ: ابْنُ شِهَابٍ: ্রفَكَانَ إِذَا قَامَ أَخَذَ عَصًا فَتَوَكَّأَ عَلَيْهَا وَهُوَ قَائِمٌ عَلَى الْمِنْبَرِগ্ধ ، ثُمَّ كَانَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ، وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ، يَفْعَلُونَ مِثْلَ ذَلِكَ
অর্থ: তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌছেছে, নিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবার শুরুতে মিম্বরে বসতেন। যখন মুয়াজ্জিন আযান শেষে চুপ করতেন, তখন দাড়িয়ে প্রথম আযান দিতেন। অতপর সামান্য বসে পুনরায় দ্বিতীয় খুৎবা দিতেন। এমনকি খুৎবার শেষের দিকে ইস্তেগফার করতেন। তারপর মিম্বর থেকে নেমে নামায পড়তেন। ইবনে শিহাব রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দাড়াতেন তখন লাঠিতে ধরে দাড়াতেন এবং লাঠিতে ভর করে মিম্বরে দাড়িয়ে থাকতেন। এমনটিই হযরত আবু বকর, হযরত উমর এবং হযরত উসমান রাযিআল্লাহু আনহুম করেছেন।
🕮 মারাসিলে আবু দাউদ-২/২৫৮, (হিন্দুস্তানী নুসখা) 🕮 আসারুস সুনান হাদীস নম্বার-৯৫৫, পৃ: নম্বার- ২৪৩, (মাকতাবাতু মদীনা দেওবন্দ) 🕮 ইলাউস সুনান পৃ: ২০৫৫
৭. দুই খুৎবার মাঝে বসা সুন্নাত:
* হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত:
حدثنا يحيى بن يحيى أخبرنا أبو خيثمة عن سماك قال أنبأني جابر بن سمرة : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم كان يخطب قائما ثم يجلس ثم يقوم فيخطب قائما فمن نبأك أنه كان يخطب جالسا فقد كذب فقد والله صليت معه أكثر من ألفي صلاة
অর্থ: তিনি বলেন: নিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন। অতপর বসে পুনরায় দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন। হযরত উমর বলেন: যে সংবাদ দিবে, যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে খুৎবা দিতেন, সে মিথ্যা বলল। আল্লাহর কসম আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে দুই হাজারের অধিকবার নামায পড়েছি।
🕮 সহীহ মুসলিম-১/২৮৩, পরিচ্ছেদ: দুটি খুৎবা দিবে দাড়িয়ে এবং দুই খুৎবার মাঝে বসবে, (মাকতাবাতু বায়তুল আযকার)-৮৬২ (ইসলামী ফাউন্ডেশন)-১৮৬৬ 🕮 ইলাউস সুনান ৮/১০৮, ২০৪০ (আশরাফিয়্যাহ দেওবন্দ)-২০৩৯ (দারুল ফিকির)
* হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীস:
حدثنا محمد بن سليمان الأنباري ثنا عبد الوهاب يعني ابن عطاء عن العمري عن نافع عن ابن عمر قال : كان النبي صلى الله عليه و سلم يخطب خطبتين كان يجلس إذا صعد المنبر حتى يفرغ أراه ” المؤذن ” ثم يقوم فيخطب ثم يجلس فلا يتكلم ثم يقوم فيخطب
অর্থ: হযরত নাফে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন: তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি খুৎবা দিতেন। মুয়াজ্জিন আযান শেষ করা পর্যন্ত মিম্বরে আরোহন করে বসা থাকতেন। অতপর দাড়িয়ে খুৎবা দিতেন। তারপর দুই খুৎবার মাঝখানে বসতেন। অতঃপর কথা-বার্তা না বলে দাঁড়িয়ে আবার খুৎবা দিতেন।
🕮 সুনানে আবু দাউদ-১০৯২, কিতাবুস সলাত, বাবু জুলুসু ইজা ছইদাল মিম্বর, (মাকতাবাতু দারুস সালাম রিয়াদ) আওনুল মাবুদ, আবওয়াবুল জুমআ, বাব “মিম্বরে উঠে বসবে” (মাকতাবাতু আশরাফিয়্যাহ দেওবন্দ)-৪/৩১০, ১০৮৮ নং হাদীসের অধিনে আলোচনা, 🕮 ইলাউস সুনান পৃ: ২৩২৭
* হযরত ইবনে শিহাব রহমাতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত:
حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، وَحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: بَلَغَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ্রكَانَ يَبْدَأُ فَيَجْلِسُ عَلَى الْمِنْبَرِ، فَإِذَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُ قَامَ فَخَطَبَ الْخُطْبَةَ الْأُولَى، ثُمَّ جَلَسَ شَيْئًا يَسِيرًا، ثُمَّ قَامَ فَخَطَبَ الْخُطْبَةَ الثَّانِيَةَ حَتَّى إِذَا قَضَاهَا اسْتَغْفَرْ ثُمَّ نَزَلَ فَصَلَّىগ্ধ قَالَ: ابْنُ شِهَابٍ: ্রفَكَانَ إِذَا قَامَ أَخَذَ عَصًا فَتَوَكَّأَ عَلَيْهَا وَهُوَ قَائِمٌ عَلَى الْمِنْبَرِগ্ধ ، ثُمَّ كَانَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ، وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ، يَفْعَلُونَ مِثْلَ ذَلِكَ
অর্থ: তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌছেছে, নিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবার শুরুতে মিম্বরে বসতেন। যখন মুয়াজ্জিন আযান শেষে চুপ করতেন, তখন দাড়িয়ে প্রথম আযান দিতেন। অতপর সামান্য বসে পুনরায় দ্বিতীয় খুৎবা দিতেন। এমনকি খুৎবার শেষের দিকে ইস্তেগফার করতেন। তারপর মিম্বর থেকে নেমে নামায পড়তেন। ইবনে শিহাব বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দাড়াতেন তখন লাঠিতে ধরে দাড়াতেন এবং লাঠিতে ভর করে মিম্বরে দাড়িয়ে থাকতেন। এমনটিই হযরত আবু বকর, হযরত উমর এবং হযরত উসমান রাযিআল্লাহু আনহুম করেছেন।
🕮 মারাসিলে আবু দাউদ-২/২৫৮, (হিন্দুস্তানী নুসখা), 🕮 আসারুস সুনান হাদীস নাম্বার-৯৫৫, পৃ: নাম্বার- ২৪৩, (মাকতাবাতু মদীনা দেওবন্দ) 🕮 ইলাউস সুনান পৃ: ২০৫৫
৮. খুৎবাতে আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা ও গুণকীর্তন করা সুন্নাত:
* হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিআল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত:
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ النَّاسَ، يَحْمَدُ اللهَ وَيُثْنِي عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ، ثُمَّ يَقُولُ: ্রمَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَخَيْرُ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِগ্ধ
তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিন খুৎবাতে লোকদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত খুৎবায় আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা ও তাঁর গুনকীর্তন করতেন। অতঃপর বলতেন: আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন তাকে কেউ বিপথগামী করতে পারে না এবং তিনি যাকে বিপথগামী করেন তাকে কেউ হিদায়াত করতে পারে না। সর্বোত্তম বাণী হল আল্লাহর কিতাব।
🕮 সহীহ মুসলিম-১৮৯১ (ইসলামী ফাউন্ডেশন)-১৮৭৬
* হযরত ইবনে আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
حدثنا إسحاق بن إبراهيم ومحمد بن المثنى كلاهما عن عبدالأعلى قال ابن المثنى حدثني عبدالأعلى ( وهو أبو همام ) حدثنا داود عن عمرو بن سعيد عن سعيد بن جبير عن ابن عباس : أن ضمادا قدم مكة كان من أزد شنوءة وكان يرقي من هذه الريح فسمع سفهاء من أهل مكة يقولون إن محمدا مجنون فقال لو أني رأيت هذا الرجل لعل الله يشفيه على يدي قال فلقيه فقال يا محمد إني أرقي من هذه الريح وإن الله يشفي على يدي من يشاء فهل لك ؟ فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم إن الحمد لله نحمده ونستعينه من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله أما بعد قال فقال أعد علي كلماتك هؤلاء فأعادهن عليه رسول الله صلى الله عليه و سلم ثلاث مرات قال فقال لقد سمعت قول الكهنة وقول السحرة وقول الشعراء فما سمعت مثل كلمات هؤلاء ولقد بلغن ناعوس البحر قال فقال هات يدك أبايعك على الإسلام قال فبايعه فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم وعلى قومك قال وعلى قومي قال فبعث رسول الله صلى الله عليه و سلم سرية فمروا بقومه فقال صاحب السرية للجيش هل أصبتم من هؤلاء شيئا ؟ فقال رجل من القوم أصبت منهم مطهرة فقال ردوها فإن هؤلاء قوم ضماد
অর্থ: যিমাদ মক্কায় আগমন করেন। তিনি আযদ শানুয়াহ গোত্রের সদস্য। তিনি বাতাস লাগার ঝাড়ফুক করতেন। তিনি মক্কার কতক নির্বোধকে বলতে শুনলেন, মুহাম্মদ নিশ্চয় উম্মাদ। বর্ণনাকারী বলেন, আমি যদি লোকটিকে দেখতাম, তাহলে আল্লাহ হয়তো আমার দ্বারা লোকটিকে আরোগ্য দান করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তার সাথে সাক্ষাত করে বলেন, হে মুহাম্মদ! আমি এসব বাতাস লাগার ঝাড়ফুক করি। আল্লাহ যাকে চান তাকে আমার হাতে আরোগ্য দান করেন। আপনি কি ঝাড়ফুঁক করাতে চান? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: নিশ্চয় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আমি তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে কেউ বিপথগামী করতে পারেনা এবং তিনি যাকে বিপথগামী করেন, কেউ তাকে হেদায়েত দান করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল।
অতপর যিমাদ বলেন, আপনি এ কথাগুলো পুনরায় আমাকে শুনান। অতএব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে কথাগুলো তাকে তিনবার পুনরাবৃত্তি করে শুনান। বর্ণনাকারী বলেন, যিমাদ বলল, আমি অনেক গণক, যাদুকর ও কবির কথা শুনেছি, কিন্তু আপনার এ কথাগুলো সমুদ্রের গভীরে পৌছে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন, যিমাদ বলল, আপনার হাত প্রসারিত করুন, আমি আপনার নিকট ইসলামের বায়আত গ্রহণ করব। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে বায়আত করালেন (ইসলাম গ্রহণ করালেন)
🕮 সহীহ মুসলিম, ৮৬৮
৯. জুমআ‘র সালাত ও খুৎবা হালকা বা সংক্ষেপ করা সুন্নাত:
* হযরত জাবের ইবনে সামুরা রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
حدثنا حسن بن الربيع وأبو بكر بن أبي شيبة قالا حدثنا أبو الأحوص عن سماك عن جابر بن سمرة قال
: كنت أصلي مع رسول الله صلى الله عليه و سلم فكانت صلاته قصدا وخطبته قصدا
অর্থ: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাত আদায় করাতাম। তাঁর সালাত ছিল সংক্ষিপ্ত এবং খুৎবা ছিল মধ্যম।
🕮 সহীহ মুসলিম-৮৬৬ (মুয়াস্সাতুল মুখতার) 🕮 সুনানে তিরমিযী-৫০৭ 🕮 সুনানে নাসায়ী, ১৫৮২, 🕮 মুসনাদে আহমদ, ২০৮৮৫ 🕮 ইলাউস সুনান
* হযরত আবু ওয়ায়িল রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
حَدَّثَنِي سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبْجَرَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ وَاصِلِ بْنِ حَيَّانَ قَالَ قَالَ أَبُو وَائِلٍ خَطَبَنَا عَمَّارٌ فَأَوْجَزَ وَأَبْلَغَ فَلَمَّا نَزَلَ قُلْنَا يَا أَبَا الْيَقْظَانِ لَقَدْ أَبْلَغْتَ وَأَوْجَزْتَ فَلَوْ كُنْتَ تَنَفَّسْتَ فَقَالَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ طُولَ صَلَاةِ الرَّجُلِ وَقِصَرَ خُطْبَتِهِ مَئِنَّةٌ مِنْ فِقْهِهِ فَأَطِيلُوا الصَّلَاةَ وَاقْصُرُوا الْخُطْبَةَ وَإِنَّ مِنْ الْبَيَانِ سِحْرًا
অর্থ: আম্মার রাযিআল্লাহু আনহু আমাদের উদ্দেশে সংক্ষেপে একটি সারগর্ভ ভাষণ দিলেন। তিনি মিম্বর থেকে নামলে আমরা বললাম, হে আবূল ইয়াকযান! আপনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ ভাষণ দিয়েছেন, তবে যদি তা কিছুটা করতেন। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, কোন ব্যক্তির দীর্ঘ সালাত ও সংক্ষিপ্ত ভাষণ তার প্রজ্ঞার পরিচায়ক। অতএব তোমরা সালাতকে দীর্ঘ এবং ভাষণকে সংক্ষিপ্ত কর। অবশ্যই কোন কোন ভাষণে যাদু করি প্রভাব থাকে।
🕮 সহীহ মুসলিম- ৮৬৯ 🕮 সুনানে দারেমী- ১৫৫৬
* আদি ইবনে হাতেম রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে ভাষণ দিল। সে বলল, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে সে সঠিক পথ পেল। আর যে ব্যক্তি তাদের অবাধ্যচরণ করল সে পথভ্রষ্ট হল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি নিকৃষ্ট বক্তা। তুমি এভাবে বল, যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতা করল ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করল।
১০. খুৎবাতে সরল সঠিক পথের সন্ধান দেয়া সুন্নাত:
* হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত:
حدثني محمد بن المثنى حدثنا عبدالوهاب بن عبدالمجيد عن جعفر بن محمد عن أبيه عن جابر بن عبدالله قال
: كان رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا خطب احمرت عيناه وعلا صوته واشتد غضبه حتى كأنه منذر جيش يقول صبحكم ومساكم ويقول بعثت أنا والساعة كهاتين ويقرن بين أصبعيها لسبابة والوسطى ويقول أما بعد فإن خير الحديث كتاب الله وخير الهدي هدي محمد وشر الأمور محدثاتها وكل بدعة ضلالة ثم يقول أنا أولى بكل مؤمن من نفسه من ترك مالا فلأهله ومن ترك دينا أو ضياعا فإلي وعلي
অর্থ: তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুৎবা দিতেন, তখন তাঁর চক্ষুদ্বয় রক্তিমবর্ণ ধারণ করতো। কন্ঠস্বর জোরালো হতো এবং ক্রোধ বেড়ে যেত। এমনকি মনে হত, তিনি যেন শত্রæবাহিনী সম্পর্কে সতর্ক করছেন। আর বলছেন: তোমরা ভোরেই আক্রান্ত হবে। তোমরা সন্ধ্যায়ই আক্রান্ত হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন: আমি ও কেয়ামত এ দুটির ন্যায় (স্বল্প ব্যবধানে) প্রেরিত হয়েছি। তিনি মধ্যমা ও তর্জনী আঙ্গুল মিলিয়ে দেখাতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন: উত্তম বাণী হল আল্লাহর যিকির এবং উত্তম পথ হল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদর্শিত পথ। অতীব নিকৃষ্ট বিষয় হল ধর্মের মধ্যে নতুনত্ব উদ্ভাবন (বিদআ’ত) করা। প্রতিটি বিদআ’ত ভ্রষ্ট। তিনি আরো বলতেন: আমি প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির জন্য তার নিজের থেকে উত্তম (কল্যাণকামী)। কোন ব্যক্তি সম্পদ রেখে গেলে তা তার পরিবার-পরিজনের প্রাপ্য: আর কোন ব্যক্তি ঋণ অথবা অসহায় সন্তান রেখে গেলে সেগুলোর দায়িত্ব আমার।
🕮 সহীহ মুসলিম-১৮৭৫, 🕮 সুনানে ইবনে মাজাহ-৪৫, 🕮 ইলাউস সুনান-পৃ: ২০৫২
খুৎবাতে ইস্তেগফার করা সুন্নাত:
* হযরত ইবনে আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
حدثنا إسحاق بن إبراهيم ومحمد بن المثنى كلاهما عن عبدالأعلى قال ابن المثنى حدثني عبدالأعلى ( وهو أبو همام ) حدثنا داود عن عمرو بن سعيد عن سعيد بن جبير عن ابن عباس : أن ضمادا قدم مكة كان من أزد شنوءة وكان يرقي من هذه الريح فسمع سفهاء من أهل مكة يقولون إن محمدا مجنون فقال لو أني رأيت هذا الرجل لعل الله يشفيه على يدي قال فلقيه فقال يا محمد إني أرقي من هذه الريح وإن الله يشفي على يدي من يشاء فهل لك ؟ فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم إن الحمد لله نحمده ونستعينه من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله أما بعد قال فقال أعد علي كلماتك هؤلاء فأعادهن عليه رسول الله صلى الله عليه و سلم ثلاث مرات قال فقال لقد سمعت قول الكهنة وقول السحرة وقول الشعراء فما سمعت مثل كلمات هؤلاء ولقد بلغن ناعوس البحر قال فقال هات يدك أبايعك على الإسلام قال فبايعه فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم وعلى قومك قال وعلى قومي قال فبعث رسول الله صلى الله عليه و سلم سرية فمروا بقومه فقال صاحب السرية للجيش هل أصبتم من هؤلاء شيئا ؟ فقال رجل من القوم أصبت منهم مطهرة فقال ردوها فإن هؤلاء قوم ضماد
অর্থ: যিমাদ মক্কায় আগমন করেন। তিনি আযদ শানুয়াহ গোত্রের সদস্য। তিনি বাতাস লাগার ঝাড়ফুঁক করতেন। তিনি মক্কার কতক নির্বোধকে বলতে শুনলেন, মুহাম্মদ নিশ্চয় উম্মাদ। বর্ণনাকারী বলেন, আমি যদি লোকটিকে দেখতাম, তাহলে আল্লাহ হয়তো আমার দ্বারা লোকটিকে আরোগ্য দান করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তার সাথে সাক্ষাত করে বলেন, হে মুহাম্মদ! আমি এসব বাতাস লাগার ঝাড়ফুঁক করি। আল্লাহ যাকে চান তাকে আমার হাতে আরোগ্য দান করেন। আপনি কি ঝাড়ফুক করাতে চান? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: নিশ্চয় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আমি তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে কেউ বিপথগামী করতে পারেনা এবং তিনি যাকে বিপথগামী করেন, কেউ তাকে হেদায়েত দান করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল।
অতপর যিমাদ বলেন, আপনি এ কথাগুলো পুনরায় আমাকে শুনান। অতএব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে কথাগুলো তাকে তিনবার পুনরাবৃত্তি করে শুনান। বর্ণনাকারী বলেন, যিমাদ বলল, আমি অনেক গণক, যাদুকর ও কবির কথা শুনেছি, কিন্তু আপনার এ কথাগুলো সমুদ্রের গভীরে পৌছা গেছে। বর্ণনাকারী বলেন, যিমাদ বলল, আপনার হাত প্রসারিত করুন, আমি আপনার নিকট ইসলামের বায়আত গ্রহণ করব। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে বায়আত করালেন (ইসলাম গ্রহণ করালেন)
🕮 সহীহ মুসলিম, ৮৬৮
১১. খুৎবাতে বিদআ’ত থেকে ভীতি প্রদর্শন করা সুন্নাত:
* হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত:
حدثني محمد بن المثنى حدثنا عبدالوهاب بن عبدالمجيد عن جعفر بن محمد عن أبيه عن جابر بن عبدالله قال : كان رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا خطب احمرت عيناه وعلا صوته واشتد غضبه حتى كأنه منذر جيش يقول صبحكم ومساكم ويقول بعثت أنا والساعة كهاتين ويقرن بين أصبعيها لسبابة والوسطى ويقول أما بعد فإن خير الحديث كتاب الله وخير الهدي هدي محمد وشر الأمور محدثاتها وكل بدعة ضلالة ثم يقول أنا أولى بكل مؤمن من نفسه من ترك مالا فلأهله ومن ترك دينا أو ضياعا فإلي وعلي
অর্থ: তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুৎবা দিতেন, তখন তাঁর চক্ষুদ্বয় রক্তিমবর্ণ ধারণ করতো। কন্ঠস্বর জোরালো হতো এবং ক্রোধ বেড়ে যেত। এমনকি মনে হতো, তিনি যেন শত্রæবাহিনী সম্পর্কে সতর্ক করছেন। আর বলছেন: তোমরা ভোরেই আক্রান্ত হবে। তোমরা সন্ধ্যায়ই আক্রান্ত হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন: আমি ও কেয়ামত এ দুটির ন্যায় (স্বল্প ব্যবধানে) প্রেরিত হয়েছি। তিনি মধ্যমা ও তর্জনী আঙ্গুল মিলিয়ে দেখাতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন: উত্তম বাণী হল আল্লাহর যিকির এবং উত্তম পথ হল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদর্শিত পথ। অতীব নিকৃষ্ট বিষয় হল ধর্মের মধ্যে নতুনত্ব উদ্ভাবন (বিদআ’ত) করা। প্রতিটি বিদআ’ত ভ্রষ্ট। তিনি আরো বলতেন: আমি প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির জন্য তার নিজের থেকে উত্তম (কল্যাণকামী)। কোন ব্যক্তি সম্পদ রেখে গেলে তা তার পরিবার-পরিজনের প্রাপ্য: আর কোন ব্যক্তি ঋণ অথবা অসহায় সন্তান রেখে গেলে সেগুলোর দায়িত্ব আমার।
🕮 সহীহ মুসলিম-১৮৭৫, 🕮 সুনানে ইবনে মাজাহ-৪৫, 🕮 ইলাউস সুনান-পৃ: ২০৫২
নবীজী আরবী ভাষায় নয় বরং মাতৃভাষায় খুৎবা দিয়েছেন?
এমন উদ্ভট যুক্তিও অনেকে দিয়ে থাকেন যে, নবীজী আরবী ভাষায় নয় বরং মাতৃভাষায় খুৎবা দিয়েছেন। আমরা বলি, তাহলে কি এটাও বলবেন যে, নবীজী আরবী ভাষায় নয় বরং মাতৃভাষায় কুরআন পড়েছেন, মাতৃভাষায় আজান দিয়েছেন। মাতৃভাষায় ইকামত দিয়েছেন।
তাহলে তো কুরআন তিলাওয়াত এবং নামাযের সূরা-কেরাত, আজান ও ইকামত সবই মাতৃভাষায় দিতে হবে। আরবীতে কেন দেয়া হয়? বুঝা গেল এটি একটি অহতেুক কথা ছাড়া কিছুই নয়।
আরবী খুৎবার আগে বাংলায় নসিহত প্রদান কেন বিদআত নয়?
“আরবী খুৎবার আগে বাংলায় বয়ান প্রদান” এ বাক্যটি ভুল। কারণ, আমাদের মসজিদগুলোতে বাংলায় খুৎবা দেয়া হয় না, বরং বাংলায় ওয়াজ-নসিহত করা হয়। খুৎবা তো আরবীতেই দিতে হয়। দুই কারণে আমাদের মসজিদগুলোতে তা করা হয়। যথা-
ক) জুমআর নামাযের নির্ধারিত সময় হবার এক দেড় ঘন্টা আগে মুসল্লিরা মসজিদে এসে একত্র হন। তখন অনেকেই অহেতুক গল্প গুজবে লিপ্ত হয়, সেই কারণে খতীব সাহেব উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে কুরআন ও হাদীস থেকে কিছু আলোচনা করেন। কারণ আমাদের অভিজ্ঞতা: আমরা অনেক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজীকে দেখেছি, যারা অজান্তেই অনেক শরীয়ত বিরোধী কথা-বার্তা বলে ফেলে। তার কারণ হলো, তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং জুমআতেও অংশ গ্রহণ করে কিন্তু খুৎবার পূর্বে যে বাংলা বয়ান হয় বা অন্যান্য যে ওয়াজ মাহফিল হয় তাতে অংশ গ্রহণ করে না। যে মুসল্লিরা তা শ্রবণ করেন, তারাও জানেন যে, এটা জুমআর খুৎবা নয়। তেমনি যিনি বয়ান করেন, খতীব সাহেব নিজেও জানেন, এটা জুমআর খুৎবা নয়। এটি কেবলই মানুষ নামাযের নির্ধারিত সময়ের আগে একত্রিত হওয়ায় সময়টি কাজে লাগানোর একটি প্রচেষ্টা মাত্র। সুতরাং এটিকে খুৎবা ধরে বিদআত বলার কোন সুযোগ নেই।
খ) জুমআর মূল খুৎবার আগে বয়ান করা হযরত সাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম থেকে প্রমাণিত।
এক.
عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَقُومُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلَى جَانِبِ الْمِنْبَرِ فَيَطْرَحُ أَعْقَابَ نَعْلَيْهِ فِي ذِرَاعَيْهِ ثُمَّ يَقْبِضُ عَلَى رُمَّانَةِ الْمِنْبَرِ، يَقُولُ: قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَالَ رَسُولُ اللّٰهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَالَ الصَّادِقُ الْمَصْدُوقُ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ يَقُولُ فِي بَعْضِ ذَلِكَ: وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ فَإِذَا سَمِعَ حَرَكَةَ بَابِ الْمَقْصُورَةِ بِخُرُوجِ الْإِمَامِ جَلَسَ. هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ
আসেম, রহ. তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, জুমআ‘র দিন হযরত আবু হুরায়রা রাযিআল্লাহু আনহু জুতা খুলে মিম্বরের পাশে দাঁড়িয়ে মিম্বর ধরে বলতেন, হযরত আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সাদিকে মাসদুক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ধ্বংস আরবদের জন্য, ওই ফিতনার কারণে যা নিকটবর্তী। এরপর যখন ইমাম সাহেবের বের হবার আওয়াজ শুনতেন, তখন তিনি বসে যেতেন।
🕮 মুসতাদরাকে হাকমে, ১/১৯০, হাদীস-৩৩৮
দুই.
عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَمَا زَالَ يُحَدِّثُنَا حَتَّى خَرَجَ الْإِمَامُ
হযরত আবু জাহিরিয়্যাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি জুমআর দিন হযরত আবদুল্লাহ বিন বুছর রাযিআল্লাহু আনহুর নিকট বসা ছিলাম। তিনি আমাদের বয়ান করতেন। ইমাম সাহেব জুমআর খুৎবার জন্য বের হওয়ার আগ পর্যন্ত।
🕮 মুসতাদরাকে হাকেম; ১/২৮৮, হাদীস-১০১২
গ) হযরত তামীম দারী রাযিআল্লাহু আনহু , হযরত উমর রাযিআল্লাহু আনহু এবং হযরত উসমান রাযিআল্লাহু আনহু এর যুগে খুৎবার পূর্বে ওয়াজ করতেন।
🕮 মুসনাদে আহমাদ, ৩১/৩৩১, হাদীস-১৫১৫৭
সুতরাং বুঝা গেল, আমাদের মসজিদগুলোর আমলটি বিদআত হবার প্রশ্নই উঠে না।
আমাদের একটি প্রশ্ন
যদি খুৎবা ভাষণেরই নাম হয়, যা মানুষকে বুঝানোর জন্য স্থানীয় ভাষায় দেয়া জরুরী হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন হল, যদি এমন স্থান হয়, যেখানে একাধিক ভাষাভাষি মানুষ থাকে যেমন হজ্বের সময় মক্কাতুল মুর্কারমা ও মদীনাতুল মুনার্ওরায়। তখন ইমাম কয় ভাষায় খুৎবা দিবেন?
জুমআ‘র খুৎবা আরবীতে দেয়া সুন্নাত’ বিষয়ক মতটি কি শুধু হানাফী মাযহাবের মত?
এখন হয়তো অনেকে বলতে পারেন, শুধুমাত্র হানাফী মাযহাবের মতেই আরবী ভাষায় খুৎবা দেওয়া সুন্নাত। আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় খুৎবা দেওয়া বিদআ‘ত। কিন্তু এ কথা সম্পূর্ণ ভুল, বরং বাস্তবতা হলো এ ব্যপারে ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি ব্যতীত অন্য তিন ইমামের মত আরো কঠিন। শাফেয়ী, মালেকী, হাম্বলী মাযহাবের আইম্মায়ে কেরামের ঐক্যবদ্ধ মত হলো, আরবী ভাষা ব্যতীত অন্য ভাষায় খুৎবা পড়া জায়েযই নেই। যদি আরবী ভাষায় সক্ষম হওয়া সত্বেও অন্য ভাষায় খুৎবা প্রদান করে, তাহলে তা আদায় হবে না।
মালেকি মাযহাবের মত হলো, যদি জামাতের মধ্যে কেউই আরবী খুৎবা প্রদানে সক্ষম না হয়, তাহলে তাদের জুমআ‘ রহিত হয়ে যায়। তখন তারা যোহরের নামাজ আদায় করবে। আর হাম্বলী ও শাফেয়ি মাযহাবে এতটুকুর সুযোগ আছে যে, যদি জামাতের কেউ আরবী খুৎবা দিতে সক্ষম না হয় এবং এ পরিমাণ সময়ও নেই যে, খুৎবা শিখতে পারবে এমতাবস্থায় অন্য ভাষায় খুৎবা পাঠ করা জায়েয হবে এবং নামায আদায় সহীহ হবে।
এখানে আমরা সংক্ষেপে চার মাযহাবের অবস্থান তুলে ধরছি:
১. মালেকী মাযহাব :

(قوله وكونها عربية) أي ولو كان الجماعة عجما لا يعرفون العربية فلو كان ليس فيهم من يحسن الخطبة عربية لم يلزمهم جمعة. كذا في الدسوقي على شرح الكبير، الموسوعة الفقهية ১৯/১৮০
অর্থ: খুৎবা আরবী ভাষায় হওয়া শর্ত, যদি জামাত এমন অনারবীদের হয় যারা আরবী জানে না এবং তাদের মাঝে এমন একজন ব্যক্তিও নেই, যে আরবী ভাষায় খুৎবা দিতে পারে তাহলে তাদের উপর জুমআ‘ ওয়াজিব নয়।
🕮 আল-মাউসুআতুল ফিক্বহিয়্যাহ্, ১৯/১৮০, 🕮 ইনআমুল বারী; টীকা, ৪/১০৬
২. শাফেয়ী মাযহাব:
ويشترط كونها اي الخطبة عربية لإتباع السلف و الخلف ولأنها ذكر مفروض فاشترط فيه ذلك كتكبيرة الإحرام
অর্থ: সালাফ এবং খালাফদের অনুসরণার্থে খুৎবা আরবী ভাষায় হওয়া শর্ত। কেননা খুৎবা নির্দিষ্ট যিকির তাই তাকবীরে তাহরীমার ন্যায় খুৎবাও আরবী হওয়া শর্ত।
🕮 নেহায়াতুল মুহতাজ; ২/৩০৪, 🕮 শরহুল মুহাযযাব; ৪/৪৪০, 🕮 ইনামুল বারীর হাশিয়া ৪/১০৭
৩. হাম্বলী মাযহাব :
ولا يصح الخطبة بغير العربية مع القدرة عليها بالعربية (كقراءة) فإنها لا تجزئ بغير العربية وتصح الخطبة بغير العربية (مع العجز ) عنها بالعربية لأن المقصود بها الوعظ والتذكير وحمد الله والصلاة علي رسول الله صلي الله عليه وسلم، بخلاف لفظ القرآن فإنه دليل النبوة وعلامة الرسالة ولا يحصل بالعجمية (غير القراءة) فلا يجزئ بغير العربية أما تقدم (فإن عجز عنها) اي عن القراءة بدلها ذكر قياسا علي الصلاة
অর্থ: আরবী ভাষায় সক্ষম হওয়া সত্বেও অন্য ভাষায় খুৎবা প্রদান করা জায়েয নেই, যেমনি ভাবে নামাযে অন্য ভাষায় ক্বেরাত পড়া জায়েয নাই। তবে যদি আরবী ভাষায় অক্ষম হয়, তাহলে অন্য ভাষায় খুৎবা প্রদান সহীহ হবে। কেননা খুৎবা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তাআ‘লার প্রশংসা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দুরুদ প্রেরণ, এবং নসিহত। তবে কুরআনের শব্দ এর বিপরীত। কেননা কুরআন নবুয়্যতের প্রমাণবাহক এবং রিসালাতের অন্যতম নিদর্শন। তাই অন্য ভাষায় পড়লে জায়েয হবে না। এমনকি যদি কেউ আরবী ভাষায় নামাজ পড়তে অক্ষম হয় তবে সে ক্বেরাতের স্থলে যিকির করবে।
🕮 কাশফুল কিনা‘; ২/৩৬, 🕮 ইনআমুল বারী; টীকা, ৪/১০৭
৪. হানাফি মাযহাব :
আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় খুৎবা পড়া জায়েয নেই বরং মাকরূহে তাহরীমী। তবে যদি কোন ব্যাক্তি অন্য ভাষায় খুৎবা দিয়ে দেয়, তাহলে জুমআ‘র শর্ত পূরণ হয়ে যাবে এবং নামাজও সহীহ হবে।
وصح شروعه مع كراهة التحريم بتسبيح وتهليل، كما صح لو شرع بغير عربية
🕮 রদ্দুল মুহতার; ১/৪৮৪
অতএব উল্লিখিত আলোচনা দ্বারা বুঝা গেলো ৪ মাযহাবের ইমামগণ এ ব্যাপারে একমত যে, খুৎবা আরবী ভাষায় হওয়া আবশ্যক। শ্রোতাদের বুঝে আসুক বা না আসুক।
খুৎবা যে যিকির বা নির্দিষ্ট একটি ইবাদত, ওয়াজ-নসিহত বা বয়ান নয় এ ব্যাপারে আরো কিছু দলীল নি¤েœ প্রদান করা হল
১. ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর নিকট খুৎবার মধ্যে কেউ যদি একবার আলহামদুলিল্লাহ বা সুবহানাল্লাহ বলেন তাহলেও খুৎবা আদায় হয়ে যাবে।
🕮 কিতাবুল মাবসুত ২/৪৭, 🕮 কিতাবুল আছল; ১/৩০৩
অথচ এ কথা জ্ঞানবুদ্ধি সম্পন্ন প্রত্যেক ব্যক্তিই বলবে যে, একবার আলহামদুলিল্লাহ বলার দ্বারা কোন বয়ান বা ভাষণ হয় না।
২. সকল ফুকাহায়ে কেরাম একমত যে, জুমআ‘ সহীহ হওয়ার জন্য খুৎবা দেওয়া শর্ত।
🕮 কিতাবুল আছল: ১/২৯৯
যদি খুৎবা দ্বারা ওয়াজ বা বয়ান উদ্দেশ্য হতো, তাহলে জুমআ‘র নামাযকে খুৎবা দেওয়ার উপর মওকুফ রাখা এবং জুমআ‘ সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হিসেবে সাব্যস্ত করার কোন প্রয়োজন ছিলো না ।
৩. জুমআর খুৎবা দেওয়ার জন্য যোহরের ওয়াক্ত হওয়া শর্ত। যেমন: আল-বাহরুর রায়েক ২/১৪৬ পৃষ্ঠাতে আল্লামা যাইনুদ্দীন ইবনে নুজাইম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন –
ووقت الظهر شرط حتى لو خطب قبله وصلي فيه لم تصح
অর্থ: জুমআর খুৎবা দেওয়ার জন্য যোহরের ওয়াক্ত হওয়া শর্ত। কেউ যদি যোহরের ওয়াক্তের পূর্বেই খুৎবা পাঠ করে এবং যোহরের ওয়াক্তে জুমআ‘ আদায় করে, তাহলে তার জুমআ আদায় সহীহ হবে না।
খুৎবা দ্বারা যদি যিকরুল্লাহ উদ্দেশ্য না হয়ে ওয়াজ বা নাসিহাত উদ্দেশ্য হতো, তাহলে যোহরের ওয়াক্তের নির্দিষ্টতার কী প্রয়োজন? এমনিভাবে কেউ যদি দ্বিপ্রহরের পূর্বে খুৎবা পড়ে ফেলে আর দ্বিপ্রহরের পরে নামায আদায় করে, তাহলে কী শ্রোতাদের ওয়াজ বা নাসিহা হাসিল হবে না? কিন্তু সমস্ত ফুকাহায়ে কেরাম একমত যে, এমতাবস্থায় ব্যক্তির জুমআ সহীহ হবে না।
🕮 আল মুহীতুল বুরহানী; ২/৪৫০
যদি খুৎবা দ্বারা ওয়াজ, নছিহত উদ্দেশ্য হতো, তাহলে তো জুমআ‘ সহীহ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
৪. ঠিক তেমনিভাবে আরবী ভাষায় খুৎবা পাঠের পর অন্য ভাষায় এর অনুবাদ করাও জায়েয নয়, কারণ এর দ্বারা খুৎবা ও নামাযের মাঝে অনেক দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আর আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে খুৎবার পর ইমাম সাহেব যদি নামযের পূর্বে এমন কোন কাজে লিপ্ত হয় যার ফলে খুৎবা ও নামাযের মাঝে দূরুত্ব সৃষ্টি হয়, তাহলে পুনরায় খুৎবা প্রদান করা জরুরী। অন্যথায় নামায সহীহ হবে না।
ফিকাহ শাস্ত্রের কিতাবাদিতে উল্লেখ আছে: খুৎবায় ১৫টি বিষয় থাকা সুন্নাত : হামদ, ছানা, দুরুদ, দোয়া ইত্যাদি। এমনিভাবে খুৎবা সংক্ষেপ করাও সুন্নাত।
🕮 বাদায়েউস সানায়ে- ১/৫৯
সারকথা :
এতক্ষণের আলোচনা থেকে আমাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে গেলো যে, মাতৃভাষায় জুমআ‘র খুৎবা পদান করা একটি বিদআতি কাজ। যা থেকে আমাদের সকলেরই বিরত থাকতে হবে। হযরত ইরবাস বিন সারিয়া রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ يَرَى بَعْدِي اخْتِلَافًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ، وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ قال الحاكم: *هذا حديث صحيح ليس له علة.
*قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح
*قال شعيب الأرنوط في يعليق مسند أحمد: حديث صحيح ورجاله ثقات
অর্থ: তোমাদের মাঝে আমার পর যারা জীবিত থাকবে তারা অনেক মতভেদ দেখবে, তখন তোমাদের উপর আমার এবং আমার হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত আঁকড়ে ধর। সেটিকে মাড়ির দাঁত দিয়ে কামরে রাখবে। আর সাবধান থাকবে নব উদ্ভাবিত ধর্মীয় বিষয় থেকে। কেননা ধর্ম বিষয়ে প্রতিটি নতুন বিষয়ই বিদআ‘ত। আর প্রতিটি বিদআতই গোমরাহী।
🕮 সুনানে তিরমিযী; ২৬৭৬, 🕮 সুনানে ইবনে মাজাহ্; ৪৪, 🕮 সুনানে আবু দাঊদ; ৪৬০৭, 🕮 মুসনাদে আহমাদ; ১৭১৪৪।
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ
অর্থ: হযরত আয়েশা রাযিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ধর্মে নেই এমন বিষয় ধর্মীয় বিষয় বলে আবিস্কার করে তা পরিত্যাজ্য।
🕮 সহীহ্ বুখারী; ২৬৯৭, 🕮 সহীহ মুসলিম; ১৭১৮
পরিশেষে আল্লাহ তাআ‘লার নিকট মিনতি তিনি যেন আমাদেরকে সর্বদায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহবায়ে কেরামের আদর্শের উপর অটল থাকার তাওফিক দান করেন এবং এর বিপরীত যত আদর্শ ও চিন্তা-চেতনা রয়েছে তা থেকে হিফাজত করেন। আমীন।

দলীল সমূহ
❖ আল-কুরআন, সূরা জুমআ- ৯
❖ বুখারী শরীফ: ৮৮১, ৯২৯
❖ মুসলিম শরীফ, ৮৫০
❖ তিরমিযী শরীফ, ৪৯৯
❖ আবু দাউদ, ৩৫১
❖ নাসায়ী শরীফ, ১৩৮৮
❖ মুসনাদে আহমদ, ৯৯২৬
❖ সহীহ ইবনে হিব্বান, ১০৯
❖ জামিউল উসূল, ৭১০২
❖ আস সুনানুল কাবীর, ৫৯২৮
❖ তাহযিবু শরহুস সুন্নাহ, ১০৩০
❖ আহকামুল কুরআন, ৩/৬৬৭
❖ তাফসিরে রূহুল মাআনী, ১৪/৩৯৭
❖ তাফসিরে আবী সাউদ, ৬/২৬২
❖ তাফসিরে মাযহারী, ১১/৪৭৪
❖ কিতাবুল আছল, ১/২৯৯, ৩০৩, ৩১৫
❖ জামিউস সগীর- ৭৮
❖ শরহুল-জামিউস সগীর, ১/২১৯, ২২

❖ আল মুহিতুল বুরহানী, ২/৪৫০
❖ কিতাবুল মাবসূত, ২/৪২, ৪৪,৪৭
❖ ইনআমুল বারী: ৪/১০৪-১০৯
❖ উমদাতুল ক্বারী, ৫/২০
❖ বজলুল মাজহুদ, ২/৫৬৬
❖ আল বাহরুর রায়েক, ২/১৪৬, ১৪৮
❖ দরসে তিরমিযী, ২/২৮১, ২৮২
❖ ফাতাওয়া তাতারখানিয়া, ২/৫৬২
❖ ফাতাওয়া মাহমুদিয়া, ১২/৩৪৯
❖ ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/৬৪২
❖ আহসানুল ফাতাওয়া, ৪/১৬০-১৬২
❖ দুররে মুখতার, ১/৪৮৪
❖ ফাতাওয়া দারুল উলূম, ৫/৫২
❖ জাওয়াহিরুল ফিহক, ২/৫০০-৫২৫
❖ ইমদাদুল মুফতীন, ২/৩২৮-৩৩০
❖ ফাতাওয়া হাবীবিয়্যাহ্, ৩/৩৩৭
❖ আপ কে মাসায়িল আওর উনকা হল, ৪/১৩৩-১৩৫
❖ জাদীদ ফিকহী মাসায়েল, ১/১৬০

সোশ্যাল মিডিয়া

Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

সংবাদ