নামাযের কাতার বিন্যাস এবং বাচ্চাদের মসজিদে নিয়ে আসা সম্পর্কে।

বরাবর,

ফাতাওয়া বিভাগ, মারকাযুল উলূমিদ দ্বীনিয়্যাহ

চিনিশপুর, ভেলানগর, নরসিংদী সদর।

বিষয়: নামাযের কাতার বিন্যাস এবং বাচ্চাদের মসজিদে নিয়ে আসা সম্পর্কে।

মুহতারাম, আমার জানার বিষয় হলো, (১) বৃদ্ধ, যুবক এবং শিশুদের মধ্যে নামাযের কাতারে দাঁড়ানোর শ্রেণীবিন্যাস কিভাবে হবে? ফরয নামায, ঈদ এবং জানাযার নামাযের বিধান কি একই, নাকি পার্থক্য আছে?

(২) জুমআর নামায, ঈদ এবং জানাযার নামাযে বড়দের সাথে অনেক সময় শিশুরা ও আসে, তাদের নিরাপত্তার সার্থে সাধারণত বড়রা কাতারের মাঝখানে তাদের সাথেই বাচ্চাদের দাড় করায়। তো শরীয়তের দৃষ্টিতে বাচ্চাদেরকে বড়দের সঙ্গে দাড় করানোতে কোন সমস্যা আছে কী না?

উল্লেখ্য, নিরাপত্তা বলতে বাচ্চাদের পিছনে দাড় করালে, তারা হারিয়ে যেতে পারে বা দুষ্টুমি করতে পারে, এ জন্যই তাদেরকে বড়দের মাঝখানে দাড় করানো।

অতএব, মুফতী সাহেবের নিকট বিনিত নিবেদন এই যে, তিনি যেন উক্ত বিষয়ে কোরআন, সুন্নাহ ও ফিকহে ইসলামির আলোকে সমাধান জানিয়ে বাধিত করেন।

নিবেদক

মুফতী শাহাদাত হুসাইন

নরসিংদী সদর, নরসিংদী

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العلمين و الصلاة و السلام على سيد الانبياء و المرسلين اما بعد:

উত্তর: (১) নামাযের কাতার বিন্যাস পদ্ধতী হলো : প্রথমে বালেগ পুরুষ তারপর নাবালেগ ছেলে, হিজড়া, বালেগা মহিলা, নাবালেগা মেয়ে, এভাবে তারতীব অনুসারে দাঁড়াবে। আর যদি নাবালেগ বাচ্চা এক-দুজন হয়, তাহলে তাদেরকে বড়দের কাতারের একপাশে দাঁড় করাবে। এক-দুজনের জন্য পৃথক কাতার করার প্রয়োজন নেই। উক্ত নিয়ম সকল নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, চাই সেটা ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত (জুমা, ঈদ, তারাবীহ) জানাযাসহ যে কোন নামাযই হোক না কেন।

(২) বাচ্চাদের সাথে নিয়ে মসজিদে আসার বিধান হলো : যদি বাচ্চা বুঝমান, চালাক-চতুর হয়, নামাজ সম্পর্কে ধারণা রাখে, তার দ্বারা অন্য মুসল্লীর নামাজে কোন প্রকার বিঘ্নতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে তারা মসজিদে আসবে। হ্যাঁ সতর্কতামূলক তাদেরকে একসাথে দাঁড় না করিয়ে, পৃথক পৃথক বড়দের কাতারে দাঁড় করাবে। বাচ্চারা যদি মসজিদে আসে, তাহলে তাদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখবে, তারা যেন দুষ্টুমি, খেলাধুলা ইত্যাদি না করতে পারে। পক্ষান্তরে বাচ্চরা যদি অবুঝ হয়, নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারনা না থাকে, তাদেরকে নামাজ সম্পর্কে সতর্ক করলে ও সতর্ক না হয়, বরং তাদের দুষ্টুমির কারণে অন্যান্য মুসল্লীদের নামাজে বিঘ্নতা সৃষ্টি হয়, তাহলে তাদেরকে মসজিদে নিয়ে আসা মাকরুহ ও গুনাহের কাজ। তাই এ ধরনের বাচ্চাদের মসজিদে আনা থেকে বিরত থাকা উচিত।

উল্লেখ্য, নাপাক লেগে আছে এমন শিশু ও পাগল কে মসজিদে আনা নাজায়েয।

والله اعلم بالصواب

দলীল সমূহ

  • সুনানে আবু দাউদ : হাদীস নম্বর : ৬৭৭ দারু ইবনিল জাওযী।
  • সুনানে ইবনে মাজাহ : হাদীস নম্বর : ৭৬০ দারুল মুআদ্দাহ।
  • বাদায়েউস সানায়ে : ১/৩৯২ মাকতাবাতু যাকারিয়াহ।
  • কানযুদ দাকায়েক : ১/৫০ মাকতাবতুল ইসলাম।
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/৮৯ দারুল কিতাব, দেওবন্দ।
  • ফাতাওয়া শামী : ২/৫১৮ মাকতাবাতুত থানভী।
  • বযলুল মাজহুদ : ৩/৬২৮
  • শরহুল হামাভী আলাল আশবাহ : ৩/১৮৬ নাশাতুল আরাবী।
  • আহসানুল ফাতাওয়া : ৩/২৮০ এইচ এম সাঈদ।
  • আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল : ৪/১৫০ মাকতাবাতুল আশরাফিয়্যাহ।
  • ফাতাওয়া মাহমুদিয়াহ : ৯/৪৬৯ মাকতাবা মাহমুদিয়াহ।
  • ফাতাওয়া দারুল উলূম যাকারিয়া : ২/৩২৯ মাকতাবতুল আশরাফিয়্যাহ।
  • ফাতাওয়া হক্কানিয়্যাহ : ৩/১২১ যাকারিয়া বুক ডিপো।
  • কিতাবুন নাওয়াযেল : ৪/৪৪২ মাকতাবতুল আশরাফিয়্যাহ।

সোশ্যাল মিডিয়া

Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

সংবাদ