বরাবর,
ফাতাওয়া বিভাগ, মারকাযুল উলূমিদ দ্বীনিয়্যাহ
চিনিশপুর, ভেলানগর, নরসিংদী সদর।
বিষয়: কারো সম্মানার্থে দাড়ানোর হুকুম সম্পর্কে।
মুহতারাম, আমার জানার বিষয় হলো, কারো সম্মানার্থে দাড়ানোর হুকুম কী? জায়েয আছে কী নেই?
মুফতী সাহেবের নিকট বিনিত নিবেদন এই যে, তিনি যেন উক্ত বিষয়ে কোরআন, সুন্নাহ ও ফিক্বহে ইসলামির আলোকে সমাধান জানিয়ে বাধিত করেন।
নিবেদক
মুহাম্মাদ রমাদ্বন সাহেব
নরসিংদী সদর, নরসিংদী
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العلمين و الصلاة و السلام على سيد الانبياء و المرسلين اما بعد:
উত্তর: কারো সম্মানার্থে দাড়ানোর কয়েকটি অবস্থা হতে পারে। প্রত্যেক অবস্থার হুকুম ভিন্ন ভিন্ন।
(১) কোন ব্যক্তির আগমনে, মজলিসের লোকেরা দাড়ালো এবং মজলিস শেষ হওয়া পর্যন্ত দাড়িয়েই রইলো, শুধুমাত্র আগমনকারী ব্যক্তি বসা, এভাবে দাড়ানো সকলের ঐক্যমতে নাজায়েয। কেননা এতে ব্যক্তির অহকার প্রকাশ পায়।
(২) কোন ব্যক্তির আগমনে আনন্দিত হয়ে, তাকে ইকরাম বা অভ্যর্থনা জানানোর জন্য দাড়ানো। এভাবে দাড়ানো সকলের ঐক্যমতে জায়েয। কেননা এতে কোন অহকার প্রকাশ পায় না।
(৩) আগমনকারীর সম্মানার্থে লোকেরা দাড়ালো, আর আগমনকারী ব্যক্তি ও চায়, যেন লোকেরা তার সম্মানার্থে দাড়ায়। না দাড়ালে রাগ করে বা কষ্ট পায়। তাহলে তার সম্মানার্থে দাড়ানো জায়েয নেই। কেননা এতে ও ব্যক্তির অহকার প্রকাশ পায়।
(৪) ) আগমনকারীর সম্মানার্থে লোকেরা দাড়ালো, আর আগমনকারী ব্যক্তি চায় কী চায় না এটা জানা নেই। তবে সম্ভাবনা আছে তার জন্য দাড়ালে, তার অন্তরে অহংকার আসতে পারে, তাহলে এই ক্ষেত্রে না দাড়ানোই উচিত।
(৫) আগমনকারীর সম্মানার্থে লোকেরা দাড়ালো, তবে আগমনকারী এগুলো লক্ষ্য করে না যে, আমার সম্মানার্থে কেউ দাড়ালো কী না। কিন্তু মানুষ তাঁর ইলম, তাকওয়া, পরহেযগারীতার সম্মানার্থে দাড়ালো। গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী এভাবে দাড়ানো জায়েয।
প্রকাশ থাকে যে, ছাত্রদের জন্য উস্তাদের সম্মানার্থে দাড়ানোই উত্তম। কেননা তা শিষ্টাচারিতার পরিচায়ক।
و الله اعلم با لصواب
দলীল সমূহ
- হাদীসুন-নববী : সহীহ বুখারী : ৩০৪৩, ৩৮০৪, ৪১২১, ৬২৬২, সহীহ মুসলিম : ১৭৬৮, আল-আদাবুল মুফরাদ : ৯৪৫ মুসনাদে আহমাদ : ১১১৬৮ সহীহ ইবনে হিব্বান : ৩৩৬৬ সুনানে আবু দাউদ : ৫২১৫ সুনানে সাঈদ ইবনে মানসুর : ২৯৬৪ শরহে মুশকিলুল আছার : ১১২০ মুসনাদে আবু আওয়ানা : ৬৭১৮, ৬৭১৯, ৬৭২০ তবারনী, আল-মুজামুল কাবীর : ৫৩২৩ বায়হাকী, সুনানে কুবরা : ৮১৬৫ বায়হাকী, শুআবুল ঈমান : ৮৯২৫ কানযুল উম্মাল : ২৫৪৮৩।
- হাদীসুন-নববী : মুসনাদে আহমাদ : ১৬৮৩ সুনানে তিরমিযী : ২৭৫৫ সুনানে আবু দাউদ : ৫২২৯ শরহে মুশকিলুল আছার : ১১২৫, ১১২৭ আল-আদাবুল মুফরাদ : ৯৭৭ তবারনী, আল-মুজামুল কাবীর : ১৯/৮১৯, ৮৫২
- হাদীসুন-নববী : মুসনাদে আহমাদ : ১২৩৪৫, ১২৩৭০, ১২৫২৬, ১৩৬২৩ মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা : ২৬০৯৬ বায়হাকী, শুআবুল ঈমান : ৮৯৩৬ জামেউল উসূল : ৪৬৪৭ কানযুল উম্মাল : ২৫৪৭৬।
- হাদীসুন-নববী : সুনানে আবু দাউদ : ৫২৩০, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা : ২৬০৯৪ সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৮৩৬ মুসনাদে বাযযার : ৬৬৯৬ বায়হাকী, শুআবুল ঈমান : ৮৯৩৭ জামেউল উসূল : ৪৭৪৭ কানযুল উম্মাল : ২৫৪৭৪, ২৫৪৭৫, ২৫৪৭৮ ফিকহুস-সুনানে ওয়াল আছার : পৃ. : ৩৪১।
- সহীহ বুখারী : হাদীস নম্বর : ৪৪১৮ মুআসসিসাতুল মুখতার।
- শরহু মুশকিলিল আছার : ৩/১৫৫ আর-রিসালাতুল আলামিয়াহ।
- বায়হাকী, শুআবুল ঈমান : ৬/২৯৭৩ দারুল ফিকর।
- ফাতহুল বারী : ৮/১৪৫, ১১/৫৬-৬২ দারুল হাদীস, কাহেরা।
- উমদাতুল ক্বারী : ১২/৩৭৯, ১৫/৩৭৬ দারুল ফিকর।
- ইলাউস সুনান : ১৬/৮২০৫-৮২০৯ দারুল ফিকর।
- বযলুল মাজহুদ : ১৩/৬১৬।
- তুহফাতুল আহওয়াযী : ৭/১৭৬-১৭৯ দারুল হাদীস, কাহেরা।
- তুহফাতুল আলমায়ী : ৬/৫২৩-৫২৫ মাকতাবা হেজায।
- মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কোয়েতিয়্যাহ : ৩৪/১১৪-১১৬
- তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম : ৩/৭৪-৭৫ যাকারিয়া বুক ডিপো।
- ইনআমুল বারী : ৯/৩৮৮-৩৮৯ আশরাফী বুক ডিপো।
- কিতাবুন নাওয়াযেল : ১৫/১৭৩-১৭৫ যাকারিয়া বুক ডিপো।