বরাবর,
ফাতাওয়া বিভাগ, মারকাযুল উলূমিদ দ্বীনিয়্যাহ
চিনিশপুর, ভেলানগর, নরসিংদী সদর।
বিষয়: ওয়াকফের জায়গা পরিবর্তন করণের হুকুম সম্পর্কে।
মুহতারাম, আমার জানার বিষয় হলো, বেশ কয়েক বছর পূর্বে আমার বাবা ১০ শতাংশ জায়গা মৌখিকভাবে মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করেন এবং একটি নূরাণী মাদরাসা ও সেখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
কিন্তু সামপ্রতিক মাদরাসাটি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে আমার বাবা জীবিত না থাকায় আমরা চার ভাই, দুই বোন চাচ্ছি উক্ত জায়গাটি আমাদের নিজেদের মালিকানায় নিয়ে নিতে। এবং এই জায়গার সমমূল্য দিয়ে অন্য জায়গায় একটি মাদরাসা নির্মাণ করতে অথবা পার্শ্ববর্তী কোন মাদরাসায় উক্ত টাকা দান করে দিতে । এটা বৈধ হবে কী না?
অতএব, মুফতী সাহেবের নিকট বিনিত নিবেদন এই যে, তিনি যেন উক্ত বিষয়ে কোরআন, সুন্নাহ ও ফিকহে ইসলামির আলোকে সমাধান জানিয়ে বাধিত করেন।
নিবেদক
মাওলানা মাহফুজুল হক কাসেমী
মুহতামীম, মাহমুদ নগর মাদরাসা
বালুসাইর, মাধবদী, নরসিংদী।
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العلمين و الصلاة و السلام على سيد الانبياء و المرسلين اما بعد:
:উত্তর শরীয়তের দৃষ্টিতে ওয়াকফকৃত সম্পদ ওয়াকফ করার পর তা পরিবর্তন, বিক্রি বা যে উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করা হয়েছে, তা ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করা নাজায়েয। কেননা ওয়াকফের পর ওয়াকফিয়া সম্পত্তি, ওয়াকফকারীর মালিকানা থেকে বের হয়ে, আল্লাহ তা’লার মালিকানায়া চলে যায়। তবে যদি ওয়াকফকৃত সম্পদ পরিপূর্ণরূপে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যায়, তাহলে বিক্রি বা পরিবর্তন করে, অন্য কোন জমি ক্রয় করা জায়েয। কিন্তু প্রশ্নের বিবরণ ও প্রশ্নকারীর সঙ্গে আলোচনা করে বুঝা যায় যে, জমিটি এখনো সম্পূর্ণরুপে ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়নি। অতএব উল্লিখিত অবস্থায় মাদরাসার জমি বিক্রি বা পরিবর্তন করা জায়েয হবে না।
প্রকাশ থাকে যে, এলাকাবাসীর দ্বীনী ও নৈতিক দায়িত্ব হলো, মাদরাসাটি আবাদ করার জন্য, সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে আসা এবং মাদরাসাটি যেন সুন্দরভাবে পরিচালনা করা যায়. সে ব্যপারে সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।
والله اعلم بالصواب
দলীল সমূহ
- হাদীসুন-নববী : সহীহ বুখারী : ২৭৬৪,২৭৭২ সহীহ মুসলিম : ১৬৩২ সহীহ ইবনে খুযাইমা : ২৪৮৩-২৪৮৫ সহীহ ইবনে হিব্বান : ৪৩৯০ মুসনাদে আহমাদ : ৪৬০৮সুনানে তিরমিযী : ১৩৭৫ সুনানে আবু দাউদ : ২৮৭৮ সুনানে নাসায়ী : ৩৫৯৯ সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৩৯৬ শুয়াবুল ঈমান : ৩৪৪৬।
- কিতাবুল আছল : ১২/১০০ দারে ইবনে হাযাম।
- আল-ফাতাওয়া আল-খানিয়াহ : ৩/২৮৫ দারুল কিতাব দেওবন্দ।
- আল-মুহিতুল বুরহানী : ৯/১৪১ ইদারাতুল কোরআন মজলিসে ইলমী।
- খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ৪/৪০৭ মাকতাবা রশিদিয়্যাহ।
- আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের : ৩০০ মাকতাবাতুর হেরা।
- আল-বাহরুর রায়েক : ৫/২০৬ এইচ এম সাঈদ।
- দুরারুল হুক্কাম ২/১৮২ দারে সদের।
- তানভীরুল আবসার : ৬/৪২১ মাকতাবা আশরাফিয়া।
- রদ্দুল মুহতার : ৬/৪৫৭ মাকতাবা আশরাফিয়া।
- রদ্দুল মুহতার : ৬/৪০৮ মাকতাবা আশরাফিয়া।
- আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া : ২/৪৯০ দারুল কিতাব দেওবন্দ।
- মাজমাউল আনহুর : ২/৫৭১ মাকতাবা ফকীহুল উম্মাত।
- আহকামুল আওকাফ : ২৮০ দারুল কলম, দিমাস্ক।
- আল-মাউসুআ আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ : ৪৪/১১৯।
- ইমদাদুল ফাতাওয়া জাদীদ : ৬/৪৫-৪৬ যাকারিয়া বুক ডিপো।
- ইমদাদুল আহকাম : ৩/৮৫ মাকতাবা দারুল উলূম করাচী।
- কিফায়াতুল মুফতী : ৭/২৭৯ যাকারিয়া বুক ডিপো।
- ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ : ১৪/১৫১ মাকতাবা দারুল উলূম দেওবন্দ।
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া : ২৩/১০৫ মাকতাবা মাহমুদিয়া।
- আহসানুর ফাতাওয়া : ৬/৪২৫ এইচ এম সাঈদ।
- ফাতাওয়া হক্কানিয়্যাহ : ৫/৫৫ যাকারিয়া বুক ডিপো।
- নেযামুল ফাতাওয়া : ৪/৬২ যাকারিয়া বুক ডিপো।
- কিতাবুর ফাতাওয়া : ৪/২৮০ নাঈমিয়া কুতুবখানা।
- ফাতাওয়া মাওলানা আব্দুল হাই : ২৬৭ মাকতাবা থানভী।