বন্ধকী বস্তু প্রসঙ্গে

বন্ধকী বস্তু প্রসঙ্গে

বন্ধকী বস্তু বন্ধক গ্রহীতার নিকট আমানত থাকে । তাই বন্ধক গ্রহীতার জন্য এর থেকে কোনভাবে উপকৃত হওয়া সম্পূর্ণ হারাম । আর প্রচলিত বন্ধকী পদ্ধতিতে বছর প্রতি ৫০০ বা ১০০০ টাকা কর্তনের যে প্রথা চালু আছে, তা সুদকে বৈধ করার একটি অপকৌশল মাত্র । এটা শরীয়া সম্মত পন্থা নয় এবং এর দ্বরা উক্ত চুক্তি বৈধ হবে না।
তবে ওলামায়ে কেরাম প্রচলিত বন্ধকী ব্যবস্থার কিছু বিকল্প বৈধ পদ্ধতির আলোচনা করেছেন যেমন: (১) যেই জমিকে বন্ধকদাতা বন্ধক দেওয়ার ইচ্ছা করেছে তা বন্ধক গ্রহীতার নিকট দীর্ঘ মেয়াদে ভাড়া দেবে। যেমন: ৫০ বছরের জন্য যায়েদ আমরের নিকট ভাড়া দিল। প্রতি বছরের ভাড়া ২০০০ টাকা। সে হিসেবে ৫০ বছরের ভাড়া ১ লক্ষ টাকা যায়েদ আমরের কাছ থেকে অগ্রিম নিয়ে নেবে। এরপর আমার যে কয় বছর জমি ভোগ করবে তার ভাড়া কর্তন করে যায়েদ বাকি টাকা আমরকে ফেরত দেবে । কারণ সে উক্ত জমিন ভাড়া নিয়েছে।
(২) ‘বাঈ বিল ওয়াফা’ তথা বন্ধকদাতা বন্ধক গ্রহীতার কাছে এই ওয়াদার উপর বন্ধকী জমিটি নির্ধারিত টাকার বিনিময়ে বিক্রি করবে যে, যখন বন্ধকদাতার নিকট টাকার ব্যবস্থা হয়ে যাবে তখন বন্ধক গ্রহীতার পুণরায় উক্ত জমিটি পূর্বের মূল্যে বন্ধকদাতার নিকট বিক্রি করে দেবে। এই অবস্থায় বন্ধক গ্রহীতা ক্রেতা হিসেবে উক্ত জমির ও ফসলের মালিক হবে। তাই এই ফসল ভোগ করা তার জন্য বৈধ হবে।
(১) মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক -১৫০৭১ (২) আল-জামেউস সগীর পৃঃ ২৩৯ (৩) কানযুদ দাকায়েক-১/৬৬০(৪) আদ-দুররুল মুখতার-১০/৮৬ (৫) মাজমাউল আনহুর-৪/২৭৩ (৬) হিদায়া- ৪/৫২২ (৭) ফাতহুল কাদীর-৫/৭৯ (৮) আন-নুতাফ ফিল ফাতাওয়া- পৃঃ ৩৭০(৯) তাবয়ীনুল হাকায়েক -৭/১৪৭ (১০) খাযানাতুল আকমাল- ৪/৩৮৯ (১১)আল-বিনায়াহ- ১২/৪৮৭ (১২) ফাতাওয়ায়ে খানিয়া- ৩/৬০১ (১৩) ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-৫/৪৬৪ (১৪) ফাতাওয়ায়ে সিরাজিয়্যা-পৃঃ ৫২৭ (১৫) আল-বাহরুর রায়েক- ৮/২৩৮ (১৬) হাশিয়ায়ে তাহতাভী আলা-দুররীল মুখতার-৪/২৩৬ (১৭) ফিকহুল বুয়ু’- ১/৫০০ (১৮) ইমদাদুল আহকাম-৩/৫১১ (১৯) ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া-২৫/৩৭৭ (২০) ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ-১৭/৪৩৭ (২১) জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া – ৩/৩৯৫ (২২) ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম যাকারিয়া-৬/৪৮

 

সোশ্যাল মিডিয়া

Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

সংবাদ